Friday 24 July 2026,

ইরানি সিনেমা ভালোবাসার ছবি আঁকে হৃদয়ে

প্রকাশিত : 08:27 AM, 9 July 2025 Wednesday 134 বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

বিশ্বব্যাপী সিনেপ্রেমীদের কাছে হলিউড-বলিউড কিংবা কোরীয়-চায়নিজ সিনেমাগুলোই বেশি জনপ্রিয়। তবে তিলে তিলে গড়ে ওঠা ইরানি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি শৈল্পিক ও স্বতন্ত্র হিসেবে অতুলনীয়। সাধারণ গল্পকে মনোমুগ্ধকর আবেগি করে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার গুণে ইরানি সিনেমা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। সেন্সরশিপ, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সত্ত্বেও স্বতন্ত্র ধারায় উজ্জ্বল ইরানি সিনেমা। সামাজিকতার শৃঙ্খল ও ধর্মীয় অনুশাসনের বাধা থাকলেও আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র ও প্রভাবশালী ধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে আরবি চলচ্চিত্রের এই ভুবন। অনেক ইরানি নির্মাতা তাদের সৃজনশীলতা ও গল্প বলার মাধ্যমে বিশ্ব চলচ্চিত্রের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। ২০১২ সালে ইরানে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘এ সেপারেশন’ সেরা বিদেশি ভাষার সিনেমা হিসেবে জিতে নেয় একাডেমি পুরস্কার। এ ছাড়া ইরানের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্রকার আব্বাস কিয়রোস্তামি ‘টেস্ট অব চেরি’র জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দোর অর্জন করেন।

বাংলাদেশেও ইরানি সিনেমার একটি আলাদা প্রভাব লক্ষণীয়। কম-বেশি সবাই এসব সিনেমা পছন্দ করেন। রুচিশীল ও বাস্তববাদী কাহিনিনির্ভর গল্পের জন্য ইরানের সিনেমা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বেশ কিছু বাংলায় ডাবিং করা ইরানি সিনেমা মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে গেছে। সত্যি বলতে, ইরানি চলচ্চিত্র না দেখলে চলচ্চিত্রের মর্ম বোঝা সম্ভব নয়। কল্পনা আর স্বপ্নের জগতের কাহিনি মানুষ সবসময়ই পছন্দ করে এবং করেই যাবে—এটাই নিয়ম। তবে বাস্তবধর্মী কাহিনিতে নির্মিত ইরানি সিনেমাগুলোর প্রভাব মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গেড়ে নেয়। আর এ কারণেই ইরানি চলচ্চিত্রের প্রতি সিনেপ্রেমীদের ভালোবাসা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। ইরানি নির্মাতাদের সবচেয়ে বড় গুণ হলো তারা তাদের গল্পে সাধারণত্বকে অসাধারণভাবে তুলে আনতে পারেন। সামাজিক বাস্তবতা, মানবিক সম্পর্ক, শৈশবের নানা কথা ও জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত খুব দক্ষভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয় ইরানি সিনেমায়। এতে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যান দর্শক। এসব সিনেমা কেবল বিনোদনের জন্যই নয়; বরং জীবনকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শেখায়।

কিছু ইরানি চলচ্চিত্র আছে যেগুলো মনের গহিনে জায়গা করে নেয় খুব সহজেই। বিশ্বজুড়ে আলোচিত হয় এবং প্রশংসাও কুড়ায়। ছোটবোন জোহরার একমাত্র জুতা হারিয়ে ফেলে ভাই আলির একই জুতা ভাগ করে স্কুলে যাওয়ার মর্মস্পর্শী কাহিনি নিয়ে নির্মিত ‘চিলড্রেন অব হেভেন’ সিনেমাটি অস্কারের জন্য মনোনীত প্রথম ইরানি চলচ্চিত্র। খুব সাধারণ একটি ঘটনাকে কতটা হৃদয়নিংড়ানো করে পর্দায় উপস্থাপন করা যায়—সেই ধারা দেখান পরিচালক মাজিদ মাজিদি। ১৯৯৯ সালে মাজিদ মাজিদি তার আরেকটি সিনেমা ‘দ্য কালার অব প্যারাডাইস’কে যেভাবে ইরানের গ্রামীণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সিনেবন্দি করে রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করলেন, তা ইরানি সিনেমার তো বটেই পুরো বিশ্বের সিনেমেকারদের জন্যই অনুকরণীয়। একটি অন্ধ শিশু ও তার বাবার অসহায়ত্বের গল্পের কাহিনিতে আবেগের পাশাপাশি দুর্দান্ত ফ্রেমিং সিনেমাটিকে আলাদা করে তুলেছে। এ ছাড়া জাফর পানাহির শিশুতোষ সিনেমা ‘দ্য হোয়াইট বেলুন’, আব্বাস কিয়ারোস্তামির ‘হয়ার ইজ দ্য ফ্রেন্ড’স হাউস’, হাদি মোহাম্মদিয়ানের অ্যানিমেটেড অ্যাডভেঞ্চার ‘দ্য এলিফ্যান্ট কিং’ প্রভৃতি সিনেমা সিনেমাপ্রেমীদের চিত্তকে আন্দোলিত করে তোলে। আর অস্কারজয়ী সিনেমা ‘এ সেপারেশন’ ও ‘দ্য সেলসম্যান’-এ পরিচালক আসগর ফরহাদি যেভাবে মধ্যবিত্ত পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের আবেদনের গল্পের ভেতরে পরিবার ও সন্তান নিয়ে দম্পতির মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়নের বাস্তবতা তুলে ধরছেন—তা শুধু চরিত্রের প্রতি সহানুভূতি জাগায় না, দর্শকের হৃদয়ের অন্তস্তলকেও ভীষণভাবে নাড়িয়ে দেবে।

উনিশ শতকের একেবারে প্রারম্ভে একজন ইরানি হিসেবে প্রথমবারের মতো ক্যামেরায় চিত্রধারণ করেছিলেন মির্জা ইব্রাহিম খান আক্কাসবাসি। রাজদরবারের চিত্রগ্রাহক প্যারিস থেকে একটি ক্যামেরা কিনে আনেন তিনি। আর সেটি দিয়েই শুরু করেন একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ। ওই বছরই প্রথমবারের মতো ইরানে একটি প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করা হয়। যদিও সেটি যিশুখ্রিষ্টের বাণী প্রচারের উদ্দেশ্যেই নির্মিত হয়েছিল। পরে সেটি হয়ে ওঠে ইরানি চলচ্চিত্রের মূল কেন্দ্র। এভাবেই তিলে তিলে গড়ে ওঠে ইরানি সিনেমার ভুবন। অনেক সিনেবোদ্ধা-সমালোচক ইরানি সিনেমাকে গুরুত্বপূর্ণ শৈল্পিক সিনেমার একটি ধারা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অ্যাকশন, ভায়োলেন্স, রোমান্স ছাপিয়ে সমাজের গভীরে সহানুভূতি আর ভালোবাসার ছবি আঁকছে ইরানি সিনেমাগুলো। যে সিনেমা দর্শকের ভেতরের মানুষকে নাড়িয়ে দেয়, নতুন করে তাকে ভাবতে শেখায়, জীবনকে উপলব্ধি করার তাড়না সৃষ্টি করে—সেই সিনেমাই তো আসল সিনেমা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

২০২১ সালের মিসওয়ার্ল্ড তথা বিশ্বসুন্দরীর খেতাব পেয়েছেন পোল্যান্ডের মডেল ক্যারোলিনা বিলাস্কা।   বুধবার ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র পুয়ের্তো রিকোর রাজধানী সান হুয়ানে জমকালো এক অনুষ্ঠানে সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে সেরার মুকুট পরেন ক্যারোলিনা।    ৭০তম বিশ্বসুন্দরী হলেন এই পোলিশ তরুণী। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রী শাইনি আসেন ও আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াস।  মিসওয়ার্ল্ডের অফিসিয়াল টুইটার পেজে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।      প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার সময় দেওয়া তথ্য বলছে, ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স পাশ করছেন ক্যারোলিনা। পিএইচডি করতে চান তিনি। পাশাপাশি চালিয়ে নিতে চান মডেলিংটাও।  পিএইচডি শেষে মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবেও কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে তার। মানবিক কাজে আত্মনিয়োগে আরো বেশি জড়িয়ে পড়তে চান।  ক্যারোলিনা জানান, দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালোবাসেন তিনি। এমন কিছু প্রকল্পে ইতোমধ্যে যুক্তও হয়েছেন। তার বিউটি উইথ আ পারপাস প্রোজের মাধ্যমে ছিন্নমূলদের সাহায্য করা হচেছ।  বাস্তুহারাদের নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। প্রতি রোববার পোল্যান্ডের লডজ শহরের ৩০০ মানুষকে খাবার, পানি, কাপড়, মাস্ক, জামাকাপড়, আইনি পরামর্শ, চিকিৎসাজনিত সাহায্য পৌঁছে দেয় প্রকল্পটি।    নিজ দেশের সরকারের সাথে সমন্বয় করে জনগণদের করোনা টিকা দিয়ে যাচ্ছে ক্যারোলিনার এই ফাউন্ডেশন। পোল্যান্ডের লডজ শহরে তাঁরাই প্রথম ‘সোশ্যাল বাথরুম’ তৈরি করে।  সামাজিক কর্ম ছাড়াও অবসর পেলে ক্যারোলিনা সাঁতার, স্কুবা ডাইভিং, টেনিস আর ব্যাডমিন্টন খেলেন।   প্রসঙ্গত, ‘মিসওয়ার্ল্ড ২০২১’ গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর হওয়া কথা ছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কারণে এটি স্থগিত করা হয় সেই সময়।

২০২১ সালের মিসওয়ার্ল্ড তথা বিশ্বসুন্দরীর খেতাব পেয়েছেন পোল্যান্ডের মডেল ক্যারোলিনা বিলাস্কা। বুধবার ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র পুয়ের্তো রিকোর রাজধানী সান হুয়ানে জমকালো এক অনুষ্ঠানে সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে সেরার মুকুট পরেন ক্যারোলিনা। ৭০তম বিশ্বসুন্দরী হলেন এই পোলিশ তরুণী। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়েছেন যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রী শাইনি আসেন ও আইভরি কোস্টের অলিভিয়া ইয়াস। মিসওয়ার্ল্ডের অফিসিয়াল টুইটার পেজে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেওয়ার সময় দেওয়া তথ্য বলছে, ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স পাশ করছেন ক্যারোলিনা। পিএইচডি করতে চান তিনি। পাশাপাশি চালিয়ে নিতে চান মডেলিংটাও। পিএইচডি শেষে মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবেও কাজ করার স্বপ্ন রয়েছে তার। মানবিক কাজে আত্মনিয়োগে আরো বেশি জড়িয়ে পড়তে চান। ক্যারোলিনা জানান, দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়াতে ভালোবাসেন তিনি। এমন কিছু প্রকল্পে ইতোমধ্যে যুক্তও হয়েছেন। তার বিউটি উইথ আ পারপাস প্রোজের মাধ্যমে ছিন্নমূলদের সাহায্য করা হচেছ। বাস্তুহারাদের নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। প্রতি রোববার পোল্যান্ডের লডজ শহরের ৩০০ মানুষকে খাবার, পানি, কাপড়, মাস্ক, জামাকাপড়, আইনি পরামর্শ, চিকিৎসাজনিত সাহায্য পৌঁছে দেয় প্রকল্পটি। নিজ দেশের সরকারের সাথে সমন্বয় করে জনগণদের করোনা টিকা দিয়ে যাচ্ছে ক্যারোলিনার এই ফাউন্ডেশন। পোল্যান্ডের লডজ শহরে তাঁরাই প্রথম ‘সোশ্যাল বাথরুম’ তৈরি করে। সামাজিক কর্ম ছাড়াও অবসর পেলে ক্যারোলিনা সাঁতার, স্কুবা ডাইভিং, টেনিস আর ব্যাডমিন্টন খেলেন। প্রসঙ্গত, ‘মিসওয়ার্ল্ড ২০২১’ গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর হওয়া কথা ছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কারণে এটি স্থগিত করা হয় সেই সময়।

© 2026 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT