পালাতে যাচ্ছেন অলি, ভারত সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা
প্রকাশিত : 06:08 PM, 9 September 2025 Tuesday 94 বার পঠিত
নেপালে টানা বিক্ষোভ ও সহিংসতার মুখে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ ও দুর্নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালীন ১৯ জন নিহত হওয়ার পর মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এরপরই গুঞ্জন উঠেছে তিনি সম্ভবত পালিয়ে দুবাই অথবা ভারতে আশ্রয় নেবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ওলি দেশ ছাড়তে পারেন; এমন পরিস্থিতিতে নেপাল সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কারফিউ অমান্য করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্টের দপ্তর, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। কোথাও কোথাও আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রাজধানীর পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে প্রশাসন হিমশিম খেয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হলেও উত্তেজনা কমেনি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ছে। দোকানপাট বন্ধ, গণপরিবহন অচল—সব মিলিয়ে নেপালের দৈনন্দিন জীবন থমকে গেছে।
অলির পদত্যাগের পর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। দেশজুড়ে গুঞ্জন, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী যে কোনো সময় নেপাল ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন। রাজনৈতিক মহলেও এই আশঙ্কা ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের উড্ডয়ন ও অবতরণ বাতিল করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে এর মধ্যেই দুটি ফ্লাইট থাইল্যান্ড ও চীনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। অলির নাম যাত্রী তালিকায় ছিল কি না—তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এতে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দেশ ছাড়তে হলে অলি ভিন্ন পথে বা গোপন ব্যবস্থায় বেরিয়ে যেতে পারেন।
অন্যদিকে প্রতিবেশী ভারতও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেপালে প্রাণহানির ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নেপাল ভারতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী—তাই আশা করা হচ্ছে সব পক্ষ সংযম প্রদর্শন করবে এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজবে।
ভারত নেপালে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদেরও সতর্ক থাকতে বলেছে। তাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে এবং অযথা ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে।
এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পানিটাঙ্কি সীমান্ত এলাকায় কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশ জানিয়েছেন, সীমান্তে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। সীমান্ত পারাপার ও চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নেপালের রাজনৈতিক সংকট এখন শুধু অভ্যন্তরীণ অশান্তি নয়, আঞ্চলিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। অলি আসলেই দেশ ছাড়বেন কি না—এই প্রশ্ন ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর সেই অনিশ্চয়তাই ভারত-নেপাল সীমান্তকে করে তুলেছে আরও স্পর্শকাতর।
শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।
anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
























