Friday 14 August 2026,

চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন আমার বাবা

প্রকাশিত : 06:36 AM, 26 July 2025 Saturday 112 বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

আমি ডাক্তারি পড়ার জন্য ২০১৯ সালে পরিবার ছেড়ে বাংলাদেশে আসি-এই আশায় যে একদিন আবার তাদের সঙ্গে দেখা হবে। কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেই আশাগুলো একে একে নিঃশেষ হতে থাকে। প্রায় তিন বছর হতে চলল আমি বাড়ি যেতে পারি না। আমার পিতৃভূমির ছোঁয়া পাইনি! পরিবারে সঙ্গে দেখা হয়নি! আবার কবে তাদের দেখা পাব জানি না! ততদিনে আমার আম্মি, প্রিয় ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুরা সবাই বেঁচে থাকবে কিনা তাও জানি না!

গাজায় প্রতিটি দিক থেকেই মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে মানুষ। বোমা হামলা, অনাহার, চিকিৎসার অভাব আর খারাপ আবহাওয়া সবমিলিয়ে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে গাজা। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। যার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলেই দেখা করার আর বুকভরে জড়িয়ে ধরার স্বপ্ন দেখতাম। চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন তিনি। গাজা আরও অনেক আগেই ওষধ-পথ্য, চিকিৎসা সামগ্রী শূন্য বললেই চলে। আর এখন ভুগছে দুর্ভিক্ষে। ইসরাইল সৃষ্ট খাদ্য সংকটে।

আপনি যদি এখন গাজার কোনো বাজারে তাকান তাহলে শুধু বালু ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়বে না। খাবারের অভাবে দিন দিন কঙ্কাল হয়ে যাচ্ছে মানুষগুলো
গত তিন মাস ধরে মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। তারা প্রতিদিন একটু একটু করে মরছে। আর আমি একজন চিকিৎসক হিসাবে বলছি, যদি দ্রুত কোনো পরিবর্তন না আসে, তাহলে খুব শিগগিরই মৃত্যুহার ভয়াবহ রূপ নেবে। আপনি যদি এখন গাজার কোনো বাজারে তাকান তাহলে শুধু বালু ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়বে না। খাবারের অভাবে দিন দিন কঙ্কাল হয়ে যাচ্ছে মানুষগুলো। কিন্তু তাদের হাতে কিছুই নেই। তারা এতটাই দুর্বল ও ক্ষুধার্ত যে চলাফেরা করতে পারছে না। অথচ এখনো ইসরাইলি সেনারা তাদের নিজ নিজ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলছে।

আমরা হারিয়েছি আমাদের সুন্দর স্মৃতি। আমরা সেখানে সবকিছু হারিয়েছি, আর এই দুনিয়া শুধু দেখছে। আমাদের দুর্দশা দূর করার জন্য কোনো প্রতিক্রিয়া নেই, কোনো পদক্ষেপ নেই
তারা চরম কষ্টের মধ্যে আছে। দুর্ভাগ্যবশত, কেউই তাদের এই যন্ত্রণার গভীরতা বুঝতে পারছে না। এই পৃথিবীও নিশ্চুপ তাকিয়ে আছে। তাদের এক গ্লাস পানি দেওয়ার সামর্থ্যও যেন নেই। আমরা আমাদের ঘর, প্রিয়জন, আমাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধব হারিয়েছি। আমরা হারিয়েছি আমাদের সুন্দর স্মৃতি। আমরা সেখানে সবকিছু হারিয়েছি, আর এই দুনিয়া শুধু দেখছে। আমাদের দুর্দশা দূর করার জন্য কোনো প্রতিক্রিয়া নেই, কোনো পদক্ষেপ নেই। ফিলিস্তিনিদের এখন সবাইকে দরকার, তাদের হয়ে আওয়াজ তোলার জন্য। তারা এই পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম অধিকারটুকু চাইছে, খুঁজছে একটু শান্তি। শেষ কথা হলো, আমার মনে হয়, এই যন্ত্রণাকে কোনো শব্দ দিয়েই পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

ইরানি বংশোদ্ভূত দুই ব্রিটিশ নাগরিককে দীর্ঘদিন বন্দি রাখার পর মুক্তি দিয়েছে তেহরান। ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে যুক্তরাজ্য ৪০ কোটি পাউন্ড ইরানের কাছে হস্তান্তরের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।     বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির পর নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরি যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।  নাজানিন জাঘারি প্রায় ছয় বছর ধরে ইরানে বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।  নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরিকে বহনকারী প্লেন অক্সফোর্ডশায়ারের ব্রিজ নর্টন ব্রিটিশ সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। এর আগে তারা ওমানে সাময়িক সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি নেন।  তারা একসঙ্গেই প্লেন থেকে নেমে আসেন এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের পর পর উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে হাত নাড়েন। এদিকে মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা মোরাদ তাহবেজ নামে আরও একজনকেও কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।  বুধবার তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ত্রাস এবং প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।   এ বিষয় ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর আগে ইরানের কাছে ইসলামি বিপ্লবের আগে অর্থাৎ প্রায় ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে ব্রিটিশ সরকার তেহরানকে ৪০ কোটি পাউন্ড (৫২০ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করেছে।  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, এটি নিশ্চিত করতে পেরে আমি খুব খুশি, নাজানিন জাঘারি এবং আনোশেহ আশোরিকে অন্যায়ভাবে বন্দি রাখার দিন শেষ হয়েছে। তারা মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরেছে।

ইরানি বংশোদ্ভূত দুই ব্রিটিশ নাগরিককে দীর্ঘদিন বন্দি রাখার পর মুক্তি দিয়েছে তেহরান। ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে যুক্তরাজ্য ৪০ কোটি পাউন্ড ইরানের কাছে হস্তান্তরের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির পর নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরি যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। নাজানিন জাঘারি প্রায় ছয় বছর ধরে ইরানে বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরিকে বহনকারী প্লেন অক্সফোর্ডশায়ারের ব্রিজ নর্টন ব্রিটিশ সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। এর আগে তারা ওমানে সাময়িক সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি নেন। তারা একসঙ্গেই প্লেন থেকে নেমে আসেন এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের পর পর উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে হাত নাড়েন। এদিকে মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা মোরাদ তাহবেজ নামে আরও একজনকেও কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বুধবার তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ত্রাস এবং প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ বিষয় ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর আগে ইরানের কাছে ইসলামি বিপ্লবের আগে অর্থাৎ প্রায় ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে ব্রিটিশ সরকার তেহরানকে ৪০ কোটি পাউন্ড (৫২০ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, এটি নিশ্চিত করতে পেরে আমি খুব খুশি, নাজানিন জাঘারি এবং আনোশেহ আশোরিকে অন্যায়ভাবে বন্দি রাখার দিন শেষ হয়েছে। তারা মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরেছে।

© 2026 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT