anusandhan24.com
শান্তি সমাবেশে আ’লীগ নেতারা নির্বাচনে না এলে পরিণতি হবে ২০১৪ সালের মতো
শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
anusandhan24.com anusandhan24.com :

বিএনপির কর্মসূচির দিনে গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের মাধ্যমে বড় শোডাউন করেছে আওয়ামী লীগ। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। বিএনপি না এলে, তাদের ২০১৪ সালের পরিণত বরণ করতে হবে।

বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এ সমাবেশ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। মহানগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে সমাবেশ পরিণত হয় গণসমাবেশে।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করে বিএনপি এখন বলছে, এটি নাকি তাদের মহড়া। অক্টোবরে চূড়ান্ত আঘাত হনবে!’ নেতাকর্মীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আসুন আমরাও শপথ নিই– অতীতে যেভাবে বিএনপির সন্ত্রাস-নৈরাজ্য মোকাবিলা করেছি, আগামীতেও মোকাবিলা করব। এই সরকারের পতন হবে না।’

২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের তাণ্ডব নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়েছে উল্লেখ করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং কিছু লবিস্ট, যারা বিএনপি-জামায়াত ও ধর্মান্ধদের টাকা খেয়ে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় মিথ্যা রিপোর্ট দেয়। আদিলুর রহমান টাকা খেয়ে ৬১ জনের মৃত্যুর মিথ্যা রিপোর্ট দিয়ে বিদেশিদের বিভ্রান্ত করেন। এখন এ মিথ্যাচারের জন্য যদি মামলা ও শাস্তি হয়, সেটি কি মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে?’

তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঠিক বিএনপির ভাষায় আরেকটি রেজ্যুলেশন নিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের কথা বলার অধিকার নেই, মানুষের মানবাধিকার হুমকির মুখে। মানবাধিকার কী শুধু মিথ্যাচার করা? তাদের প্রতি আহ্বান জানাই– বাংলাদেশে টিম পাঠিয়ে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কথা বলুন। দেশের দুই-এক ভাগ সংখ্যালঘুও যদি বলেন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের নিরাপত্তা দেয়নি, এ সরকারের সময় তারা সবচেয়ে ভালো অবস্থানে নেই– তাহলে আমরা আর সরকারে থাকব না। এ দেশের সংখ্যালঘুদের ৯৯ ভাগ আওয়ামী লীগকে ভোট দেন, তারা আওয়ামী লীগের পক্ষে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে আগুন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিথ্যাচার করেছেন। তারা দেশে আরেকটি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগ কৃষি মার্কেটে আগুন দিয়েছে– এ মিথ্যাচারের জন্য আপনাকে (মির্জা ফখরুল) জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’

সমাবেশে বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ‘জানি, নির্বাচনে আসবেন। ফলে এখন প্রস্তুতি নিন। জনগণ যাকে ভোট দেবে, তারাই ক্ষমতায় আসবে। জনগণ আপনাদের বিজয়ী করলেই শুধু সরকারে আসতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে ঐক্যই আমাদের পৌঁছে দেবে লক্ষ্যে।’

সরকারের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি যড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ বলেন, ‘যড়যন্ত্রকারীদের বলব, যড়যন্ত্র করে সরকারের পতন ঘটানো যাবে না। বিদেশি যারা গণতন্ত্র ও মানবতার কথা বলে, তারা এ ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে থাকবে না। আশা করি, সব দল নির্বাচনে অংশ নেবে। বিএনপি-জামায়াতের অশুভ তৎপরতা নস্যাৎ করে শেখ হাসিনাকে আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মির্জা ফখরুলের এখন আর হাসি-খুশি মুখ নেই। তিনি বিষণ্ন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। আমেরিকার স্যাংশন ও ভিসা নীতির পর ভেবেছিলেন, ক্ষমতায় এসেই গেছেন। কিন্তু এখন কোনোটাতেই কাজ হচ্ছে না দেখে মুখ শুকিয়ে গেছে।’

সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, ‘বিএনপি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে তারা ঘোষণা দিয়েছিল– ১০ ডিসেম্বরের পর নাকি খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতায় থাকবে, তাঁর কথায় দেশ চলবে! কিন্তু সেটা তারা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। কারণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সব সময় রাজধানীসহ সারাদেশের রাজপথে ছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘এখন বিএনপি বলছে– আগামী অক্টোবরের মধ্যে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করবে তারা। অক্টোবর শেষ হতে মাত্র ৪৫ দিন বাকি। আমরা জানি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তাদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেবেন। কিন্তু আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে, তারা ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকারী। ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের মাধ্যমে চূড়ান্ত আঘাত হানার চেষ্টা করতে পারে তারা। এ জন্য আগামী ৪৫ দিন রাজপথে সতর্ক অবস্থানে থেকে বিএনপির সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে।’

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলনের দফারফা অবস্থা। ১৯ দফা থেকে এক দফা, সেটাও এখন ধূলিসাৎ। এখন কোনোভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেই মনে হয় তারা সন্তুষ্ট। এ জন্য নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে তারা লাফঝাঁপ দিচ্ছে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ডা. দিলীপ রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক চৌধুরী সাইফুন্নবী সাগর।