anusandhan24.com
আসছে একের পর এক মদের চালান, আরও দুই কন্টেনার আটক
মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২ ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ
anusandhan24.com anusandhan24.com :

চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক আসছে মদের চালান। এর মধ্যে তিন কন্টেনার আটক হওয়ার পর সোমবার ধরা পড়েছে আরও দুই কন্টেনার মদ। এ দুটি চালানও আসে চীন থেকে। খালাস নিতে পারলে আগের তিন চালানে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি হতো প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। ধরা পড়া সর্বশেষ দুই চালানের কায়িক পরীক্ষা এখনও হয়নি।

তবে ধারণা করা হচ্ছে, এখানেও প্রায় ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে অন্তত ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করেছিল অসাধু আমদানিকারকরা।

মিথ্যা ঘোষণা এবং আইপি (ইম্পোর্ট পারমিট) জালিয়াতির মাধ্যমে মদের চালানগুলো আনা হচ্ছে। কম শুল্কের সুবিধা পেতে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্পপণ্যের। কারণ এমন পণ্য আমদানিতে শুল্কহার খুবই কম। কিন্তু মদ একটি অতি উচ্চশুল্কের পণ্য। অসাধু আমদানিকারকরা ঘোষণার ব্যত্যয় ঘটিয়ে তৎপর রয়েছে নানা রকমের অবৈধ পণ্য নিয়ে আসতে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, সোমবার আসে আরও দুই কন্টেনার মদ। নীলফামারীতে অবস্থিত উত্তরা ইপিজেডের প্রতিষ্ঠান ডং জিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের নামে একটি চালান এবং বাগেরহাটে অবস্থিত মংলা ইপিজেডের ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের নামে আসে অপর চালানটি।

প্রথমটির ডিক্লারেশনে ছিল ‘র ম্যাটেরিয়ালস পলিপ্রোপাইলিং রেসিন’ এবং দ্বিতীয় চালানটির ঘোষণায় ছিল টেক্সার্ড ইয়ার্ন। আগের তিন কন্টেনারের মতো এই দুই কন্টেনার পণ্যেরও কান্ট্রি অরিজিন চায়না। বিল অব এন্ট্রি দাখিলের আগেই কন্টেনার দুটি আটক করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার মোঃ সাইফুল হক জানান, রবিবার আটক করা কন্টেনারটির কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এতে ১৪৩০ কার্টনে মোট ১৫ হাজার ২০৪ লিটার মদ পাওয়া গেছে। এ চালানটির ডিক্লারেশন ছিল ‘টেক্সার্ড ইয়ার্ন অব পলিয়েস্টার একশ’ ভাগ রিসাইকেলড পোস্ট।’ কিন্তু পাওয়া গেল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা।

শিল্পপণ্য হিসেবে শুল্কায়ন হয় চালানটির। শুল্ক হিসেবে পরিশোধ করা হয়েছিল মাত্র ৩ হাজার ২৮৭ টাকা ৯৯ পয়সা। কিন্তু মদ অতি উচ্চশুল্কের। আমদানিকারক ছাড় নিতে পারলে সরকারের ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতো। এর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে যে দুটি কন্টেনার আটক করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয় সেখানে ছিল ১ হাজার ৩৩০ কার্টনে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩১ হাজার ৬২৫ দশমিক ৫ লিটার মদ। এর শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৪ কোটি ৪৬ হাজার টাকা। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য এনে চলেছিল ২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এআইআর শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এ চালানগুলোর আমদানির লক্ষ্যে বেপজা থেকে আইপি ইস্যু করা হয়। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় রফতানিকারক, উৎপাদনকারী দেশ, আমদানিকারকের ব্যবসার ধরন ও ঠিকানা, পণ্যের বর্ণনা ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে চালানে অসত্য ঘোষণায় পণ্য আমদানির বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা লাভ করা হয়।

চালানের আইপি বেপজার (বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি) ওয়েবসাইট যাচাই করে দেখা যায়, তা জাল। অর্থাৎ এ ধরনের কোন আইপি ইস্যু হয়নি। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শুধু মিথ্যা ঘোষণাই দেয়নি, বড় ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, সর্বশেষ সোমবার যে দুটি কন্টেনার আটক করা হয়েছে সেখানেও ঘোষিত পণ্যের জায়গায় মিলেছে বিদেশী মদ। কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দাদের তৎপরতায় অসাধু এ চক্রের চেষ্টা ভেস্তে যায়। এ দুই কন্টেনার মদের চালান খালাস করতে পারলে হয়ত আগের দুই কন্টেনারের মতোই ২৪ থেকে ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি হতো।

তবে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা না হওয়ায় বিষয়টি এখনও ধারণার মধ্যে। আমদানির এ চালানের ইনভেন্ট্রি চলছে। এ বিষয়ে কাস্টমস এ্যাক্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।