Monday 26 October 2026,

পানির পর এবার মিটারের দাম দ্বিগুণ

প্রকাশিত : 09:21 AM, 23 August 2023 Wednesday 293 বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

আলোচনা-সমালোচনার বৃত্ত থেকে কোনোভাবেই বের হতে পারছে না ঢাকা ওয়াসা। এবার পানির মিটারের দাম এক লাফে প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলেছে সরকারি এই সংস্থাটি। আগে যে মিটার ৩ হাজার ৪০০ টাকায় গ্রাহক কিনতে পারতেন, এখন সেটার জন্য গুনতে হবে ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। অথচ এ ধরনের একটি মিটার সংগ্রহ করতে ঢাকা ওয়াসার খরচ হয় মাত্র ১ হাজার ৭০০ টাকা। একই সঙ্গে গভীর নলকূপ ও নতুন পানির সংযোগ নেওয়ার আবেদন ফরমের দাম একবারে পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়েছে। সঙ্গে আরোপ করা হয়েছে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট)।

জানা গেছে, সেবামূল্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের অনুমোদন নেওয়ার নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ তা নেয়নি। বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে অনেকটা গোপনে দর বাড়ানোর অফিস আদেশ জারি করে ওয়াসার রাজস্ব শাখা, মিটার বিক্রয়কেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট শাখায় চিঠি পাঠানো হয়। নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ২২ ডিসেম্বর ঢাকা ওয়াসার সচিব শারমিন আমীর হক এসব সেবামূল্য বাড়ানোর অফিস আদেশ জারি করেন। তবে অফিস আদেশ জারিরও প্রায় এক মাস আগে ১৬ নভেম্বর থেকে সেটা কার্যকর করার কথা বলা হয় আদেশে। ‘কর্তৃপক্ষের কাজের স্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো’ বলে তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে ঢাকা ওয়াসার গ্রাহক ৪৩ লাখ ৮৮ হাজারের মতো। এ ছাড়া প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার নতুন গ্রাহক তৈরি হয়।
নতুন ও পুরোনো দর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতদিন ২০ মিলিমিটার ব্যাসের পানি সংযোগ মিটারের দাম ছিল ৩ হাজার ৪০০ টাকা। সেটা করা হয়েছে ৬ হাজার ৬৭৫ টাকা ২০ পয়সা। ২৫ মিলিমিটার ব্যাসের মিটারের দাম ছিল ৪ হাজার ৭০০ টাকা। সেটা করা হয়েছে ৯ হাজার ২৮ টাকা ৯৫ পয়সা। ৩৭ মিলিমিটার ব্যাসের মিটারের দাম ছিল ১০ হাজার টাকা। সেটা করা হয়েছে ২০ হাজার ১৩৬ টাকা ১৫ পয়সা। ৫০ মিলিমিটার ব্যাসের মিটার ছিল ১১ হাজার ৪০০ টাকা। সেটা করা হয়েছে ২৫ হাজার ২৬০ টাকা ১৫ পয়সা। জানা গেছে, ২০ মিলিমিটার পাইপের পানি সংযোগের একটি মিটার সরবরাহকারীর কাছ থেকে ঢাকা ওয়াসা কিনছে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। সেটা বিক্রি করে একটি মিটারে লাভ করছে ৪ হাজার ৯৭৫ টাকা ২০ পয়সা। একইভাবে ২৫ মিলিমিটার ব্যাসের সংযোগের মিটার ২ হাজার ৬০০ টাকায় কিনে সেটা বিক্রি করে লাভ করছে ৬ হাজার ৪২৮ টাকা ৯০ পয়সা। একইভাবে অন্য ব্যাসের পানি সংযোগের মিটার বিক্রি করেও গ্রাহকের কাছ থেকে বড় অঙ্কের মুনাফা লুটছে ওয়াসা।

সরেজমিন আসাদ গেট সংলগ্ন ঢাকা ওয়াসার মিটার বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মিটারের নতুন দামের চার্ট টেবিলের কাচের নিচে রেখেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কয়েক মাস আগে দাম বাড়ানো হয়েছে। ডলারের দর বাড়ার কথা বলা হলেও বর্তমানে যে মিটার সরবরাহ করা হচ্ছে তা ২০২০ ও ২০২১ সালে আমদানি করা। তখন দেশে ডলার সংকট ছিল না। পেপকো বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ওয়াসায় এই মিটার সরবরাহ করে আসছে। অভিযোগ আছে, ওয়াসার সঙ্গে যোগসাজশ করে চীন থেকে নিম্নমানের মিটার আমদানি করে তা ওয়াসাকে গছিয়ে দেয় পেপকো বাংলাদেশ। ফলে এসব মিটারে সহসা সমস্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকের বিল বেশি আসতে শুরু করে। এ জন্য ঘন ঘন মিটার বদলের প্রয়োজন পড়ছে গ্রাহকের। এ ব্যাপারে পেপকো বাংলাদেশ লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘যা জানার ওয়াসার কাছ থেকে জানেন। আমার বিজনেসের সিক্রেসি তো আর আপনাকে বলব না।’ আবেদন ফরমের দাম বাড়ল পাঁচ গুণ

বাসাবাড়ি বা কোনো স্থাপনায় পানির সংযোগ নিতে গেলে প্রথমেই গ্রাহককে ওয়াসার সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে একটি আবেদন ফরম কিনতে হয়। এতদিন সেই আবেদন ফরমের দাম ছিল ১০০ টাকা। এখন সেটার দাম করা হয়েছে ৫০০ টাকা। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট। সব মিলিয়ে এখন একটি আবেদন ফরম কিনতে হচ্ছে ৫৭৫ টাকায়। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান গভীর নলকূপ বসাতে চাইলে সেই আবেদন ফরমের মূল্য অতীতে ছিল ৫০০ টাকা। সেটা করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ গ্রাহককে গুনতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। নতুন মিটার বলে পুরোনো মিটার

গ্রাহকের পানির বিল নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে পানির মিটার বদলে দেয় ওয়াসা। তখন পুরোনো মিটার নিয়ে নতুন মিটার দেয়। এ ক্ষেত্রেও গ্রাহকের কাছ থেকে মিটারের দাম নেওয়া হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহককে পুরোনো আরেকটি মিটারই গছিয়ে দেওয়ার অভিযোগ আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা ওয়াসার এক কর্মকর্তা জানান, আসাদগেটে ঢাকা ওয়াসার একটি ওয়ার্কশপ আছে। গ্রাহকের কাছ থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো মিটারগুলো ওয়ার্কশপে মেরামত করা হয়। নৃপেন চন্দ্র বসাক নামের এক ফোরম্যানকে (মেকানিক্যাল) দিয়ে এই পুরোনো মিটারগুলো ঠিক করানো হয়। এর পর সেগুলো রং করে নতুন দরে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব মিটার পানি ছাড়া বাতাসেই ঘোরে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে গ্রাহকের বেশি বিল ওঠে। আর এই অতিরিক্ত বিল নিয়ে গ্রাহককে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। অবশ্য নৃপেন চন্দ্র বসাক সমকালকে বলেন, গ্রাহক আপত্তি করলে মিটার পরিবর্তন করে আগের মিটার নিয়ে আসা হয়। ওয়ার্কশপে পরীক্ষা করে যদি দেখা যায়, সেটা ভালো, তখন সেটা আরেক গ্রাহককে দেওয়া হয়। ঠিক না থাকলে ওয়াসার ভান্ডারে পাঠানো হয়। অনেক জমা হলে নিলামে বিক্রি করা হয়। কারা কী বলছেন

এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের সদস্য ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব দীপ আজাদ সমকালকে জানান, তিনি বোর্ড সদস্য হওয়ার পর পানির মিটার বা পানির সংযোগের আবেদন ফরমের দাম বাড়ানোর কোনো প্রসঙ্গ বোর্ডে তোলা হয়েছে বলে তাঁর মনে পড়ে না। ঢাকা ওয়াসার নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহকের যে কোনো সেবার দাম বাড়াতে হলে বোর্ড থেকে অনুমোদন নেওয়ার কথা। সেটা না করে দাম বাড়ানো হলে তা অনৈতিক। প্রয়োজনে আগামী বোর্ডসভায় এ প্রসঙ্গ তিনি তুলবেন।

ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান বিদেশে অবস্থান করায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। অন্য দায়িত্বশীল কেউ এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। সংস্থাটির মুখপাত্র মোস্তফা তারেক বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাব। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আবার যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এখনও তিনি এ বিষয়ে জানতে পারেননি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2026 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT