Sunday 23 August 2026,

নারী পুলিশ কর্মকর্তা ও তার সাবেক দেহরক্ষীর আত্মহত্যা

প্রকাশিত : 05:30 AM, 22 July 2022 Friday 263 বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

একই দিনে আত্মহত্যা করেছেন মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লাবনী আখতার এবং তার সাবেক দেহরক্ষী মাহমুদুল হাসান। বৃহস্পতিবার সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লাবনী আখতার (৪০) গলায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং পুলিশ কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান (২৩) মাথায় শর্টগান ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাটি মাগুরায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেেেছ। কাজী লাবনী আখতার মাগুরার শ্রীপুরের বরালীদহ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের মেয়ে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ তারেকের স্ত্রী। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে। তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন রেঞ্জে ডি বি পুলিশের এডিসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাগুরার শ্রীপুরের সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানা বাড়িতে এসে তিনি আত্মহত্যা করেন। তার স্বামী ক্যান্সার রোগী, বর্তমানে ভারতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্যদিকে পুলিশ কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের পুলিশ সদস্য এজাজুল হকের ছেলে। এজাজুল হক চুয়াডাঙ্গায় পুলিশে কর্মরত রয়েছেন। মাহমুদুল দেড় মাস পূর্বে মাগুরা পুলিশ লাইনে যোগদান করেন। কাজী লাবনী আখতার খুলনায় কর্মরত থাকাকালে মাহমুদুল হাসান তার গানম্যান ছিলেন।

একই দিনে পুলিশ সদস্যের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে মাগুরায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে কাজী লাবনী আখতারের পারিবারিক সূত্রে বলা হয়, তার সঙ্গে স্বামীর পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। এর অগে তিনি খুলনায় থাকাকালে দুই বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা য়ায়। কাজী লাবনী আখতার ৩০তম বিসিএসে পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার পদে চাকরি পান। তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে হতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিক মাহমুদুল হাসানের পিতা, ভাই ও ভগ্নিপতি বলেন, সে ঈদের দিনে একদিনের ছুটিতে বাড়ি গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকালে তারা খবর পান মাহমুদুল মারা গেছে। সেই খবর পেয়ে মাগুরায় এসেছেন তারা। শুনেছেন মাথায় গুলি লেগেছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী লাবনী আখতার মাগুরার শ্রীপুরের সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানার বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন । মাহমুদুল হাসান পুলিশ লাইনের ছাদে শটগানের গুলিতে মারা যান। তিনি মুখে শটগান ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে পুলিশের ধারণা। লাবনী আখতার পারিবারিক কারণে মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মাহমুদুল হাসান কি কারণে আত্মহত্যা করেছেন তা জানা যায়নি।

লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশী তদন্ত চলছে। কাজী লাবনী দুই কন্যা সন্তানের জননী এবং মাহমুদুল হাসান অবিবাহিত।

মাহমুদুল হাসানের বোনের দাবি ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা, দৌলতপুর কুষ্টিয়া থেকে জানান, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এডিসি লাবণীর সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানের ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি নিহত মাহমুদুল হাসানের বড়বোন সুমাইয়া খাতুনের। তিনি জানান, মাহমুদুল হাসানকে অনেক স্নেহ করতেন এডিসি খন্দকার লাবণী। বৃহস্পতিবার বিকালে কুষ্টিয়া শহরতলীর পূর্ব আলফামোড় এলাকায় নিজ বাসভবনে এসব কথা বলেন তিনি। সুমাইয়া খাতুন আরও বলেন, মাগুরা পুলিশ লাইন থেকে সকালে মাহমুদুল হাসান সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে খবর আসে। পরে আত্মহত্যা করেছে বলে জানানো হয়। মাহমুদুলের এমন মৃত্যু কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিনা।

খন্দকার লাবণী মাহমুদুল হাসানকে শুধু ছোট ভাই ভাবতেন। তাদের মধ্যে কোন খারাপ সম্পর্ক ছিল না। দুদিন আগেও আমার আর মাহমুদুল হাসানের মোবাইলফোনে স্বাভাবিক কথা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত আমার বাবা মোঃ এজাজুল হক খান। ভাই মাহমুদুল হাসান পুলিশে চাকরি পায় ‘দুই বছর চার মাস আগে। তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি খন্দকার লাবণীর দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দেড় মাস আগে মাহমুদুল হাসান মাগুরা পুলিশ লাইনে বদলি হয়ে আসে। সেখানেই সে কর্মরত ছিলেন। এর বেশি কিছু আমি জানি না।

নিহত মাহমুদুল হাসানের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের পিপুলবাড়িয়া গ্রামে। তবে নিজ গ্রামে তার কেউ থাকেন না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2026 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT