Monday 26 October 2026,

নতুন সংবিধান রচনা ও জুলাই হত্যাকারীদের বিচারের দাবি

প্রকাশিত : 06:47 AM, 6 October 2024 Sunday 296 বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

আওয়ামী লীগ সরকারের সংবিধান বাতিল করে দ্রুত নতুন সংবিধান রচনার দাবি জানানো হয়েছে নাগরিক সমাবেশে। একই সঙ্গে যাদের নির্দেশে নির্বিচারে গণহত্যা চালানো হয়েছে, তাদের বিচার দ্রুত এই বাংলার মাটিতে করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহিদদের স্বজনরা। শনিবার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে এই দাবি জানান তারা। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহিদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এ সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ থেকে জানানো হয়, হত্যাকারীদের বিচার ও মামলা পরিচালনার জন্য সারা দেশে সাত সদস্যের আইনজীবী প্যানেল গঠন করা হয়েছে।

নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্ররা আরেকটি মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী সরকারের সংবিধান বাতিল করে দ্রুত নতুন সংবিধান করতে হবে। দ্রব্যমূল্যের লাগাম টানতে হবে। আর কোনো প্রতিহিংসা চাই না। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করব, যেন দ্রুত হত্যাকারীদের বিচার করা হয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল টাকার বিনিময়ে জঘন্যভাবে শহিদদের কুরবানির পশুর হাটের মতো কেনাবেচা করছে। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, সেসব রাজনীতিবিদকে আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার নামে যারা রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য ঘৃণ্য-জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়েছেন, আপনাদের এই জঘন্য কৃষ্টি-কালচার অতিসত্বর পরিত্যাগ না করলে তরুণ সমাজ আপনাদের ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলবে। সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান, এখনো সময় আছে জনগণ ও তরুণ শিক্ষার্থীদের পালস (মন) বোঝার চেষ্টা করুন।

সমাবেশ থেকে সেনাবাহিনীকে দ্রুত ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী। তিনি বলেন, আজ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। পুলিশ বাহিনী এখনো সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে না। মাঠে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। পুলিশের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে সেনাবাহিনীকে দ্রুত ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সংস্কার কমিশনের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী পুলিশ কাঠামো গঠন করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এ সময় সরকারের সমালোচনা করে নাসিরউদ্দিন বলেন, ফেনী, কুমিল্লাসহ কয়েক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর ছিল। দুই মাস পেরিয়ে গেলেও শহিদদের পরিবারের পুনর্বাসনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। আহত ব্যক্তিদের অনেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে ঘুরছেন, অনেকে অন্ধ ও পঙ্গু হয়ে যাচ্ছেন। তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি শ্রমিক অঙ্গন ও পাহাড়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

দ্রব্যমূল্য ও চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রতি আহ্বান, বেকার ও প্রান্তিক মানুষের পেটে লাথি দেবেন না। তাহলে তারা পঙ্গপালের মতো মাঠে নেমে এসে আপনাদের জবাব দেবে।

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কয়েক বছর ধরে দেশের মানুষের সঙ্গে অন্যায় করেছে। ভারতীয় গোলামির কারণে এখনো সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করা হচ্ছে। যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে। আহতদের সুচিকিৎসা দিতে হবে। কিন্তু দুই মাস পার হয়ে গেলেও আমরা কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। যারা জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তারা এখনো বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, শত শহিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই বাংলাদেশ। শহিদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না। যাদের কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে, সেসব সিন্ডিকেটের কালো হাত ভেঙে দিতে হবে।

নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের আক্ষেপ: ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত মমিনুল ইসলামের বাবা, রায়হান হোসেনের ভাই, মারুফ হোসেনের বাবা, শাহরিয়ার হাসান আলভীর বাবা, খালিদ সাইফুল্লাহর বাবা, নাহিদুল ইসলামের ভাইসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন সমাবেশে।

শহিদ মোমিনুল ইসলামের বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে গত ১৯ জুলাই গুলশানে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। আমি কখনো ভাবতে পারিনি, আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারব। আমার ছেলে আজ আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আমার ছেলের জন্য আমি গর্ববোধ করি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমার ছেলের হত্যাকারীদের এখনো বিচার হয়নি। আমার ছেলে দেশের জন্য যুদ্ধ করে শহিদ হয়েছে। আমি অন্তর্বর্তী সরকারকে বলতে চাই, আমি যেন হত্যাকারীদের বিচার দেখে মরতে পারি।

শহিদ মারুফ হোসেনের বাবা বলেন, আমি খেটে খাওয়া মানুষ। আমার ছেলে গত ১৯ জুলাই বাড্ডায় যখন পুলিশের গুলিতে আহত হয়, তখন তাকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার সময় পুলিশ গতিরোধ করে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আমার ছেলে মারা যায়। ডিবি পুলিশ আমার বাসায় যায়। আমাকে জামায়াত-শিবির বলে ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করে। দেশ স্বাধীনের পর আমি ২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় সবাই পলাতক। আমি তাহলে কাদের কাছে বিচার চাইব। যেসব সমন্বয়কের ডাকে আমার ছেলে রাস্তায় জীবন দিয়েছে, সরকার পতনের পর তারা একটিবারও আমার খোঁজ নেয়নি। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2026 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT