Monday 26 October 2026,

নতুন বউকে ঈদে সুতা কিনে দেওয়ারও সামর্থ্য নাই

প্রকাশিত : 05:12 AM, 17 April 2023 Monday 176 বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

‘এই ছিল কপালে লেখা। এক আগুনে সব শেষ। ১০-১২ লাখ টাকার জিন্স প্যান্ট পুড়ে ছাই। ক্যাশে থাকা ১ লাখ টাকা রক্ষা করতে পারলেও তো সান্ত্বনা পেতাম। মানিব্যাগে ২শর মতো টাকা ছিল। সেটা নিয়ে শনিবার ভোররাতে দোকান থেকে বের হয়েছিলাম। দুই বন্ধু আজ ১ হাজার টাকা দিয়ে গেল। বিয়ে করলাম দেড় মাসও হয়নি। ঘরে নতুন বউ, ঈদে এখন সুতা কিনে দেওয়ারও সামর্থ্য নাই।’

রাজধানীর নিউ সুপারমার্কেটে আগুন লেগে পুড়ে যাওয়া নিজের দোকানের সামনে গতকাল রোববার আহাজারি করে এসব কথা বলছিলেন যুবক রবিউল আউয়াল সাদ্দাম। মার্কেটের তৃতীয় তলায় ‘ড্রিম টাচ গ্যালারি’ নামে দোকানের কর্ণধার তিনি।

মালিকের আহাজারি দেখে কান্না থামাতে পারছিলেন না কর্মচারী সাব্বির। তিনি বলেন, মালপত্র, নগদ টাকা ও ড্রয়ারে রাখা সার্টিফিকেট পুড়ে গেছে। কত স্বপ্ন ছিল। এখন পথের ভিখারি হয়ে গেছি।

চাঁদপুরের কচুয়ার বাসিন্দা রবিউল ব্যবসার পাশাপাশি লেখাপড়া করছেন নর্দান ইউনিভার্সিটিতে। মাঝে কিছুদিন চাকরিও করেছেন। দুই বছর আগে চাকরি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন। নিউ সুপারমার্কেটে জিন্স প্যান্টের দোকান খুলে বসেন। ব্যবসা মোটামুটি ভালোই চলছিল। কিন্তু শনিবারের অগ্নিকাণ্ডে যেন সব থেমে গেল।

রবিউল জানান, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে ধারদেনা করেই প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে ৮ লাখ টাকা ঋণ আছে। দুই কর্মচারী সাব্বির ও ফরহাদকে নিয়ে দোকানটি চালিয়ে আসছেন। শনিবার ভোরে তাঁর বাবা ফোন করে আগুন লাগার খবরটি জানান। এর পর দৌড়ে দোকানে গিয়ে দেখেন, চারদিকে আগুন। চোখের সামনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে।

মার্কেটের বিসমিল্লাহ পোশাক হাউসের মালিক শহীদুল ইসলামও নিজের পোড়া দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন। তিনি জানান, ২০ বছর ধরে নিউমার্কেট এলাকায় ব্যবসা করছেন। এক দোকানের ওপর পুরো সংসার চলে। ২৩৩ নম্বর দোকানটি তাঁর কেনা। নিজের জায়গায় পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান খুলে বসেছিলেন। বৃদ্ধ মা, সন্তান ও নাতিদের ভরণপোষণ দোকানের আয় থেকে চলে। করোনার কারণে তিন বছর ব্যবসা তেমন ছিল না। এবার একটু লাভের মুখ দেখার আশায় ছিলেন।

শহীদুল বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে দোকানে ছুটে যান। ছেলেদের সঙ্গে ধরাধরি করে কিছু মালপত্র নামানোর চেষ্টা করেন। অনেক মালপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। আগুন থেকে বাঁচিয়ে নামানো মালপত্রের একটি বস্তা কে বা কারা নিয়ে গেছে।

শহীদুলের প্রশ্ন– কেন সিটি করপোরেশন ঈদের আগে মার্কেট সংলগ্ন ফুট ওভারব্রিজটি ভাঙতে গেল? ওই মার্কেটের তৃতীয় তলায় পোশাকের দোকান রয়েছে রোকসানা ও তাঁর স্বামী পারভেজের। দোকানের নাম ‘আয়ান রয়েল ব্র্যান্ড’। স্বামী-স্ত্রী দু’জন দোকানে বসেন। রোকসানা বলেন, ঈদ উপলক্ষে কয়েক লাখ টাকার মালপত্র তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে দোকানে ২৫ লাখ টাকার মতো পোশাক ছিল। এখন কীভাবে সংসার চলবে, তা ভেবে কূলকিনারা করতে পারছেন না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© 2026 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT