Friday 07 August 2026,

ঢাবি ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে শক্তিশালী প্রক্সি সিন্ডিকেট

প্রকাশিত : 08:33 AM, 10 May 2023 Wednesday 281 বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল হাসান রাব্বির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী প্রক্সি সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ‘প্রক্সি’ বাণিজ্য করে আসছিল।

প্রার্থীদের সঙ্গে তারা মোটা অঙ্কের টাকায় চুক্তি করতেন। এরপর ভাড়ায় খাটা মেধাবী শিক্ষার্থীদের দিয়ে তারা পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়াতেন। দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা ছাত্রলীগ নেতা রাব্বীকে অবশেষে সোমবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রাব্বী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি-১৬৪ ধারায় মঙ্গলবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

আদালত এবং পিবিআই তদন্ত সংশ্লিষ্টদের রাব্বী জানিয়েছেন, ওই প্রক্সি সিন্ডিকেট তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার সিন্ডিকেটে এখনও ১০-১২ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঠাকুরগাঁও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাও রয়েছেন। মূলত উত্তরাঞ্চলের প্রার্থীদের টার্গেট করে এই প্রক্সি সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন রাব্বী। তার চক্রেরে সদস্যদের কেউ কেউ প্রক্সি কাস্টমার সংগ্রহ করতেন। আর কেউ কেউ প্রক্সি পরীক্ষায় ভাড়া খাটতেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ পরীক্ষায় চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে তারা চুক্তি করে প্রক্সি দেওয়াতেন।

একেকজন প্রার্থীর কাছ থেকে সর্বনিু তিন লাখ এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা নেওয়া হতো। আর যারা ‘প্রক্সি’ পরীক্ষা দিতেন, তাদের দেওয়া হতো ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

গত বছরের ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত মানবিক ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রক্সি দিতে গিয়ে ধরা পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা আকতারুল ইসলাম আবির। তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়। আবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীমউদ্দীন হলের একজন আবাসিক ছাত্র। আবির সেজান মাহফুজের স্থলে প্রক্সি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। প্রক্সি দিতে চুক্তি হয়েছিল ৩ লাখ টাকা। অগ্রিম ৪ হাজার টাকা এবং পরীক্ষার পরে বাকি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সেজান মাহফুজের রোল নং ৩০৯৯৭৬। সেজান মাহফুজের বাবার নাম আব্দুল বারী ও মায়ের নাম মাহফুজা বেগম। তিনি সেন্ট জোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা করেছেন। সেজান মাহফুজের হয়ে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়া আবিরের বিরুদ্ধে জগন্নাথ বিশ্ববিদালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদদীন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। পরে আবির আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন। এদিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মামলাটির কোনো কূলকিনারা করতে না পারায় মামলার বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। পিবিআই অরগানাইজড ক্রাইম দক্ষিণের কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন তদন্ত শুরু করেন। জামিনে থাকা আকতারুল ইসলাম আবিরকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পিবিআই নিশ্চিত হয়, এই প্রক্সি সিন্ডিকেটের মূল হোতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপ-সাহিত্য সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাব্বি। এরপর রাব্বিকে সোমবার গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। মঙ্গলবার বিকালে রাব্বীকে আদালতে হাজির করে পিবিআই। রাব্বী আদালতের কাছে মঙ্গলবার ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পিবিআই তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা, এলজিইডি, পাসপোর্ট অধিদপ্তর, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিতেন ছাত্রলীগ নেতা রাব্বি ও তার সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে ২০ লাখ টাকা চুক্তি করেছিলেন রাব্বী। পিবিআই ওই পরীক্ষার্থীকেও খুঁজছে। প্রয়োজনে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। রাব্বী পিবিআইকে আরও জানিয়েছে, তার প্রক্সি পরীক্ষা দেওয়ানোর জন্য একটি গ্রুপ রয়েছে। বিভিন্ন জনের সঙ্গে চুক্তি সাপেক্ষে এসব শিক্ষার্থীদের সে প্রক্সি পরীক্ষা দিতে পাঠাতেন। তবে সে চুক্তির অবৈধ লেনদেনের টাকা বিভিন্নজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ ও এসএ পরিবহণের মানি ট্রান্সফার সার্ভিস ব্যবহার করত।

যোগাযোগ করা হলে পিবিআই অরগানাইজড ক্রাইম দক্ষিণের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সাগর সরকার বলেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। অপরাধী যেই হোক, আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করি। এ ক্ষেত্রেও কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© 2026 সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT