ভূমধ্যসাগরে গাজা উপত্যকা অভিমুখে যাত্রা করা আন্তর্জাতিক নৌবহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ইসরায়েলের ঘোষিত ‘বিপৎসীমায়’ প্রবেশ করেছে। গাজার উপকূল থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার (প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল) দূরে অবস্থান করা এই নৌবহরটি যেকোনো মুহূর্তে ইসরায়েলি বাধার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অংশগ্রহণকারীরা। এই ফ্লোটিলায় পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ-এর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সক্রিয় কর্মীরা রয়েছেন।
নৌবহরের জাহাজগুলোতে খাবার, চিকিৎসা সামগ্রী এবং অন্যান্য জরুরি সরঞ্জামসহ মানবিক সহায়তা বহন করা হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সকল অংশগ্রহণকারী নিরাপদে যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন।
নৌবহরের একটি জাহাজে থাকা ক্রোয়েশিয়ার আইনজীবী মোরানা মিলজানোভিচ আন্তর্জাতিক আইন তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বা অন্য কোনো দেশের আঞ্চলিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজ আটকানোর কোনো অধিকার ইসরায়েলের নেই।
মিলজানোভিচ দৃঢ়ভাবে বলেন, "কোনো রাষ্ট্রই শুধু কোনো কনভেনশনের ভিত্তিতে নয়, সাধারণ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বেসামরিক নৌকাকে আটকাতে পারে না।" ইসরায়েল কেবল তখনই আটক করতে পারে, যখন কোনো অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকে বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য প্রমাণিত হুমকি থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নৌবহর নিছক মানবিক সহায়তা বহন করছে এবং এটি কোনো হুমকি নয়।
নৌবহরটির মূল লক্ষ্য হলো গাজার উপকূলে মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া এবং একইসঙ্গে গাজার বর্তমান সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সচেতন করা। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, গাজার সংকটের প্রতিবাদ এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এই উদ্যোগ ইসরায়েলি নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী এই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
প্রকাশক মোঃ সোহেল রানা ও সম্পাদক: মোঃ মোজাম্মেল হক। ২৭, কমরেড রওসন আলী রোড, বজলুর মোড়, কুষ্টিয়া-৭০০০।
© ২০২৫ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | Design and Developed by- DONET IT