শুক্রবার ২৭ মে ২০২২, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ কুকুর ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে বিদেশে গিয়ে ‘লাপাত্তা’ ২ পুলিশ ◈ ‘আমরা আর যুদ্ধ করব না’, জানালেন ক্ষুদ্ধ ইউক্রেনীয় সেনারা ◈ ভারতে গ্রেফতার বাংলাদেশের আর্থিক খাতের আলোচিত জালিয়াত, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি প্রশান্ত কুমার হালদার ওরপে পিকে হালদারকে ১১ দিনের বিচার বিভাগীয় রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতার একটি আদালত। পিকের সঙ্গে আরও পাঁচজন আসামি রয়েছেন। আগামী ৭ জুন পর্যন্ত সবার এই রিমান্ড চলবে। শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের বিচারপতি সৌভিক ঘোষ এ আদেশ দেন। কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাত করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদার গত ১৪ মে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশপরগনা জেলার অশোকনগর থেকে গ্রেফতার হন। পিকেসহ ছয়জনকে ওই দিন গ্রেফতার করে ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গ্রেফতারের পর পিকে হালদারকে আদালতে হাজির করলে প্রথম দফায় তার ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সেই রিমান্ড শেষে গত ১৭ মে তাকে আদালতে হাজির করলে তাকে দ্বিতীয় দফায় আরও ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। এক নারীসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে ‘হাওয়ালা’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে টাকা পাচারের অভিযোগে ২০০২ সালের আইনে মামলা করা হয়। পিকে হালদার ও তার সহযোগীরা পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পত্তিতে এসব অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। ◈ রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ লিপু হত্যাকাণ্ড: রহস্য অজানা, খুনিরা অধরা ◈ গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশনের দখল নিয়ে নিল রাশিয়া ◈ ‘বিশেষ দক্ষ কমান্ডারদের ব্যবহার করে শহরটি দখল করেছে রাশিয়া’ ◈ ২৬ জনকে গ্রেফতার, নানা কৌশলে ছিনতাই-চাঁদাবাজি করত তারা ◈ গাঁজাসহ দম্পতি গ্রেফতার ◈ হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবি ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও ১১ ছাত্রসংগঠনের

২৩ বছর কলকাতায় ছিলেন মাজেদ

প্রকাশিত : ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ, ৮ এপ্রিল ২০২০ বুধবার ২৪৫ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদ ২৩ বছর ভারতের কলকাতায় পালিয়ে ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার আদালতের কাঠগড়ায় ওঠানোর পর পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খানের জিজ্ঞাসাবাদে ৭২ বছর বয়সি এই আসামি এ তথ্য জানান।

পাবলিক প্রসিকিউটরের প্রশ্ন ছিল, এতদিন কোথায় ছিলেন? জবাবে মাজেদ জানান, ২৩/২৪ বছর ভারতের কলকাতায় ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে কেন হত্যা করলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাজেদ হত্যা করেননি বলে জানান। তাহলে পালিয়েছিলেন কেন? প্রসিকিউটরের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে তার এক ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন বলে তিনি আদালতকে জানান। এর আগে গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মাজেদকে ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। পরে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার না দেখানো পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বেশ কয়বছর দেশে থাকার পর হঠাত্ দেশছাড়া হয়ে গা-ঢাকা দেন মাজেদ। ২০১৮ সাল পর্যন্ত পুলিশ সদর দফতরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) বিভাগের কাছে মাজেদের বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। সরকারের কাছেও তার অবস্থান সম্পর্কে ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য। অপর একটি সূত্র জানায়, আব্দুল মাজেদ কলকাতায় কোথায় ছিলেন তার বিস্তারিত তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংগ্রহ করেছে। তবে দেশত্যাগের পর মাজেদ আর দেশে ফিরেছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

২০১৯ সালের আগস্টে প্রথম বারের মতো এনসিবির সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক (এআইজি) মহিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সর্বশেষ মাজেদের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানে ছিল বলে শোনা যাচ্ছিল। তখন দুই দেশকে চিঠিও দেওয়া হয়। জবাবে ভারত বলেছিল, মাজেদ তাদের দেশে নেই। তবে পাকিস্তান কোনো জবাব দেয়নি।

মাজেদকে গ্রেফতারে সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাজেদ জানিয়েছেন, গ্রেফতার এড়াতে দীর্ঘদিন তিনি ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে ছিলেন। ঐ কর্মকর্তা আরো বলেন, মাজেদ আমাদের কাছে খুব বেশি সময় ছিলেন না। হয়তো তদন্তকারী সংস্থা (সিআইডি) তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তবে আদালতে আইনজীবীর জিজ্ঞাসাবাদে কিছু না বললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধারণা করছে, করোনা ভাইরাসের কারণে ভারত থেকে অনেককেই পুশব্যাক করা হয়েছে। সে কারণে সেখান থেকে ২৬ মার্চ ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে থাকতে পারেন মাজেদ। এর আগে লিবিয়া ও পাকিস্তানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।

তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরপরই বাংলাদেশ থেকে ভারতে আত্মগোপন করেন মাজেদ। সেখান থেকে পাকিস্তানে, এরপর লিবিয়ায়। সেখান থেকে ২০১৬ সালে আবারও ভারতে ফেরেন তিনি।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল হক গতকাল আদালতকে জানান, ‘সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে আব্দুল মাজেদকে গাবতলিতে রিকশায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তখন সন্দেহ হয় পুলিশের। এসময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে মাজেদ জানান, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

আরও পড়ুন  


© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT