শনিবার ২৫ মে ২০২৪, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশ আরামবাগে মিলতে পারে অনুমতি, সিদ্ধান্ত আজ

প্রকাশিত : ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ বুধবার ৭০ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির গণসমাবেশের স্থান নিয়ে চলা টানাপোড়েনের অবসান হতে যাচ্ছে।

নয়াপল্টন নয়, আরামবাগ আইডিয়াল স্কুলের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। আজ পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমতি দেওয়া না দেওয়ার ব্যাপারে বিএনপিকে অবহিত করা হবে।

সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার রাতে মতিঝিল ডিসি অফিসে যান বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। ডিসি হায়াতুল ইসলাম খানের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে এ্যানী বলেন, সমাবেশের অনুমতি নিয়ে আলোচনা করতে আমি সেখানে যাই।

আমরা স্পষ্ট বলেছি, নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আরামবাগ ছাড়া অন্য কোথাও সমাবেশ করব না। তারা নয়াপল্টনের সামনে দিতে রাজি নয়। তবে আরামবাগের ব্যাপারে বুধবার আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

সূত্র জানায়, নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুমতি দেবে না জানতে পেরেই বিকল্প স্থান হিসাবে আরামবাগের জন্য আবেদন করে বিএনপি। গত কয়েক দিন এ নিয়ে দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে আলোচনা হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। সরকারের উচ্চমহলে তা অবহতি করা হয়। সমাবেশের অনুমতি নিয়ে টানাপোড়েনের অবসান হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় কুমার ভার্মা মঙ্গলবার বিকালে সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশের স্থান নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে। দেশে বিশৃঙ্খলা হোক, কেউ চায় না। সমঝোতা হয়ে যাবে। বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে মেঘ, ঘন মেঘ ঘনীভূত হয়, আবার চট করে চলে যায়। আমি আশাবাদী। বিএনপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করবে নাকি সরকার আরামবাগে অনুমতি দেবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেটাই হোক, একটা সমাধান হবে। ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্যের পর বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে রাতেই এ্যানীকে পাঠানো হয়। আরামবাগে অনুমতি পাওয়ার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যে আমরা তো আশাবাদী হতেই পারি। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও আগের মতো কঠোর অবস্থানে নেই। তারা অনেকটাই নমনীয়। ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের স্থান নিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরেই চলছে রশি টানাটানি। বিএনপির পক্ষ থেকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুমতি চাওয়া হলেও পুলিশ তা নাকচ করে দেয়। উলটো ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেয় পুলিশ। কিন্তু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি সমাবেশ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। নয়াপল্টনের বিকল্প হিসাবে আরামবাগ মোড় চাওয়া হয়। কিন্তু রাস্তায় কোনো সমাবেশের অনুমতি দিতে রাজি নয় বলে জানায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মঙ্গলবার এক ব্রিফিংয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে বিকল্প ভেন্যু হিসাবে পূর্বাচল এবং ইজতেমা মাঠকে বিবেচনা করতে বলা হয়। কিন্তু এই দুটি স্থানে সমাবেশ করতে রাজি নয় বিএনপি। এমন পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলে ভুল করবে বিএনপি। তাদের অশুভ উদ্দেশ্য সফল হবে না।

এদিকে গোয়েন্দাদের পছন্দ পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরে পূর্বনির্ধারিত বৈঠকে (পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত) বিস্তর আলোচনা হয়। সবপক্ষের আশা শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে সমাবেশের জন্য একটি ভেন্যু ঠিক করা সম্ভব হবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সমাবেশের স্থান চূড়ান্ত করতে কয়েক দিন ধরে পুলিশের আইজি এবং ডিএমপি কমিশনারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে বিএনপি। রোববার বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরে বেঠক করেন পদস্থ কর্মকর্তারা। সেখানে ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বিএনপিকে সমাবেশ করতে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সভার জন্য পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বাইরে কোনো স্থান দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতনরা। এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে আরামবাগ মাঠটি সমাবেশের বিকল্প হিসাবে প্রস্তাব করা হয়।

এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ দলীয় কার্যালয় নয়াপল্টন অথবা আরামবাগ আইডিয়াল স্কুলের সামনের সড়কে করতে চায় বিএনপি। আমরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি চাইনি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আমাদের জন্য অনিরাপদ। সেখানে আমরা কোনো প্রোগ্রাম করব না। রহমতগঞ্জ লেখার মাঠ বা অন্য যেসব স্থানের কথা বলা হচ্ছে আমরা সেখানেও সমাবেশে করব না। আমরা তো ইজতেমা বা বাণিজ্যমেলার ডাক দিইনি যে, আমাদের ইজমেতা মাঠে বা মেলার মাঠে যেতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়ে বলছি, অতীতেও বিএনপির অফিসের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে অনেক প্রোগ্রাম হয়েছে, মহাসমাবেশ হয়েছে, রাজপথেই হয়েছে। সেভাবে বিএনপি অফিসের সামনে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে করতে চাই। তার পরও ডিএমপি যেহেতু বিভিন্ন দিক থেকে চিন্তা-ভাবনা করে অনুরোধ করেছে, তাই পরবর্তীতে আমরা বলেছি, বিএনপি অফিসের পাশে আরামবাগ আইডিয়াল স্কুলের সামনে যে স্থানটি রয়েছে, সেখানে দেওয়া হোক; সেখানে আশপাশে মাঠ আছে, অনেক ফাঁকা জায়গা আছে। ১০ ডিসেম্বর শনিবার ছুটির দিন উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সেদিন সেখানে আমরা প্রোগ্রাম করতে পারি। আমরা তাদের (ডিএমপি) কাছে সেই সহযোগিতা কামনা করেছি। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী তারা সেই সহযোগিতা করবে। না হলে নয়াপল্টন এরিয়ার মধ্যেই আমাদের থাকতে হবে। বিএনপিকে কোনো সড়কে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না-পুলিশের এই বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সড়ক ছাড়া কোথায় করব? আমরা তো রাজপথের লোক, রাজপথেই করব। আমরা রাজপথকে বেছে নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ তারা রাজপথে আমাদের প্রোগ্রাম করতে দিতে বাধ্য হবে। আশা করছি, সেই সহযোগিতা আমাদের করবেন। না হলে সেই দায়-দায়িত্ব তাদের নিতে হবে। ডিএমপির সঙ্গে বিএনপির অব্যাহত যোগাযোগ আছে উল্লেখ করে এ্যানী বলেন, আমরা আশাবাদী তারা বিএনপি অফিসের সামনেই আমাদের প্রোগ্রাম করতে দেবেন। যদি না দেন তাহলে বিকল্প প্রস্তাব হিসাবে আরামবাগ আইডিয়াল স্কুলের সামনে সমাবেশ করার জন্য সহযোগিতা করবেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এখন পার্কে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে এ্যানী বলেন, সেখানে অনেক ষড়যন্ত্র লুকায়িত রয়েছে। সেগুলো আমরা জানি ও বুঝি। যে কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বেছে নিইনি। এদিকে গণসমাবেশের নামে বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করলে কঠোর অ্যাকশনে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এরই মধ্যে রহমতগঞ্জ মাঠসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে চারস্তরে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সতর্ক রাখা হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে। সাদা পোশাকে মাঠে রয়েছে র‌্যাব-পুলিশের একাধিক সদস্য।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার (ডিসি) ফারুক হোসেন জানান, ডিএমপির পক্ষ থেকে আগামী ১০ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অনুমতি দেওয়ার পরেও ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে তারা দেখা করে বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন। বিএনপির পক্ষ থেকে আরামবাগে বিকল্প ভেন্যুর জন্য মতিঝিল বিভাগের ডিসির কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে ডিএমপি কমিশনারের কাছে আসেনি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে না চাওয়ার পেছনে বিএনপি কোনো কারণ উল্লেখ করেছে কি না জানতে চাইলে ডিসি ফারুক হোসেন বলেন, তারা সিকিউরিটির একটা থ্রেট ফিল করছে বলে জানা গেছে। তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে-সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যত ধরনের পুলিশি সহায়তা দেওয়ার প্রয়োজন সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস আমরা দিয়েছি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT