শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সিনিয়রকে ‘তুমি’ বলা নিয়ে কুবিতে সংঘর্ষ

প্রকাশিত : ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ১৬ অক্টোবর ২০২১ শনিবার ২২ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে ১২তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে ১৩তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী `তুমি’ বলা নিয়ে মারধর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিবাদমান দুই পক্ষের কর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী রিয়াজুল ইসলাম বাঁধন, ১২তম ব্যাচের সোহাগ নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করেন। এরপর ১২তম ব্যাচের সোহাগ, শাফী, ওয়াকিল, আবিরসহ কয়েকজন বাঁধনকে হলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করে। এরই জেরে মধ্য রাতে দুই ব্যাচের মধ্যে মারামারি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।

মারধরের শিকার বাঁধন বলেন, সোহাগ ভাই এর নাম বলায় শাফী, সোহাগ, আবির ও ওয়াকিল ভাইসহ কয়েকজন আমাকে নিয়ে চেয়ারের সঙ্গে গামছা দিয়ে বেঁধে বেল্ট দিয়ে মারধর করে। আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর বন্ধুরা গাড়িতে তুলে দিলে আমি হল থেকে বাড়ি চলে আসি।

তবে এই মারধরের কথা অস্বীকার করে ওয়াকিল আহমেদ জানান, তাঁকে রুমে নিয়ে মারধরের প্রশ্নই আসে না। সিনিয়রের নাম ধরে ডাকায় হলের বারান্দায় তাঁকে শাসানো হয়েছিল।

এ অভিযোগের ব্যাপারে মন্তব্য জানতে আবির ও সোহাগকে ফোন করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

এরপর বাঁধনকে শাসানোর জেরে বৃহস্পতিবার রাতে ১১টার দিকে ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এক জোট হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাফীকে ২০০৪ নম্বর কক্ষে দরজা আটকে মারধর করে। শাফীকে মারধরের খবর পেয়ে তাঁর বন্ধুরা রুমের দরজা ভেঙে শাফীকে উদ্ধার করে।

শাফী বলেন, তাঁরা সিনিয়রদের গায়ে হাত তুলেছে, সাংগঠনিক একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। দত্ত হলের ইতিহাসে যা কোনো দিন হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি তাঁরা হলে থাকার যোগ্য না। আমি তাঁদের বোঝাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমাকে মারধর করেছে।

অন্যদিকে ১৩ তম ব্যাচের কয়েকজন বলেন, আমরা কাউকে মারধর করিনি। শুধু বন্ধুকে মারধরের কারণ জানতে ওই কক্ষে গিয়েছিলাম। কথা-কাটাকাটি থেকে পরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

এই ঘটনায় দুই ব্যাচ মারমুখী হয়ে উঠলে শাখা ও দত্ত হল ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা এসে সংঘর্ষে লিপ্ত দুই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। এরপর বিচারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের কক্ষে নিয়ে গিয়ে সেখানেও মারধর করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন কর্মী চোট পায়।

এ বিষয়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত বলেন, আমি জেনেছি কথা-কাটাকাটির জেরে দুই ব্যাচের মাঝে উচ্চ বাক্য বিনিময় হয়। পরবর্তীতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংগঠনিকভাবে মিটমাট করে দিয়েছি।

দুই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির এমন ঘটনাকে অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, এ ঘটনাটি ঘটেছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ম্যাচিউরিটির অভাবে। ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেয়াদবি করবে সেটা অপ্রত্যাশিত।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ জুলহাস মিয়া বলেন, এ ঘটনায় আমি বিব্রত। ঘটনাটির বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নিব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। আর হলের বিষয়গুলো দেখেন হল প্রভোস্ট। প্রভোস্ট আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিব।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT