শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সারা দেশে ছড়িয়েছে শুদ্ধি অভিযান

প্রকাশিত : ০৭:৫০ পূর্বাহ্ণ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার ৪৯৬ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

 

সারা দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযান চলছে। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে আওয়ামী লীগ সভাপতি এ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। এ অভিযানের বিষয়ে খুবই গোপনীয়তা অবলম্বন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা ছাড়া দলের অন্য নেতা-সরকারের কর্তাব্যক্তিরা তেমন অবগত নন। এ অভিযানের প্রথম দফায় তাদের ধরা হবে, যারা ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে পদ-পদবী ও অর্থবিত্ত বাগিয়ে নিয়েছেন। দল ও সরকারে শুদ্ধি অভিযানের পর পরিশুদ্ধ একটি দল নিয়ে মুজিব বর্ষ পালন করতে চান বঙ্গবন্ধুকন্যা।

প্রধানমন্ত্রী অনেক আগে থেকেই দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু নিজেদের বলয় ভারী করার জন্য দলের নেতারা তাদের বিষয়ে কঠোর না হয়ে তাদের পাশে রেখেছেন। পরে নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের সর্বশেষ কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন। ছাত্রলীগের শীর্ষ পদধারীদের অব্যাহতি দিয়েছেন। যুবলীগ নেতাদের বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তের কথা না জানালেও তাদের অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এর পরপরই শুরু হয় অভিযান। গত শুক্রবার যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি চালিয়ে আসা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীম ও তার দেহরক্ষীকে নিকেতন এলাকা থেকে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে। এর আগে গত বুধবার রাতে গুলশানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইয়ংমেন্স ক্লাবের সভাপতি খালেদ মাহমুদ ভূইঁয়াকে। তালিকাভুক্ত গডফাদার ও তার সহযোগীরা যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য বিমানবন্দর ও সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নজরদারি রেখেছে। আতঙ্ক জেঁকে বসেছে এসব গডফাদারদের ওপর।

আটককৃত অবস্থায় রিমান্ড এড়াতে পারেননি কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের সভাপতি ও কৃষক লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম ফিরোজ। এ অভিযান ঢাকার বাইরেও ছড়িয়েছে। শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট রোডে চট্টগ্রাম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্র ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বন্ধ কার্যালয়ে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। হালিশহরে আবাহনী লিমিটেডের অফিসেও তল্লাশি চালায় পুলিশ।

বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভবনে সারা দেশের তৃণমূল নেতাদের নিয়ে এক বর্ধিতসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, দলের অনুপ্রবেশকারীরা আওয়ামী লীগের ক্ষতি ছাড়া উপকার করবে না। এসব হাইব্রিডদের কারণে দলের ত্যাগী নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মূল সুরও তাই।

বলা হয়েছে, অবৈধ ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজদের কেউই প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী নয়। তারা কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক দলের নেমপ্লেট ব্যবহার করে আসছে। গ্রেফতারকৃতরা এ তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও প্রকাশ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় ক্ষমতাসীনদের ছত্রছায়ায় বসে বছরের পর বছর চলে আসছে এ অবৈধ কারবার। তবে এবার সরকারের হাইকমান্ডের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনাকারী গডফাদারদের ধরতে শুরু করেছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, রাজধানীর কোথাও অবৈধ জুয়ার আড্ডা, ক্যাসিনো চলতে দেওয়া হবে না। এসব জুয়ার বোর্ড, ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িতরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ কঠোর হবে। পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ যদি ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অবৈধ কোনো ব্যবসা চলতে দেওয়া যাবে না। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে নীতিমালা করে লাইসেন্স দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, সরকারের ইমেজ রক্ষায় শেখ হাসিনা যে কাউকেই ত্যাগ করতে পারেন। সে যত বড় এবং প্রভাবশালী নেতাই হোক না কেন। তার তিলে তিলে গড়া সব অর্জন এসব নেতার অপকর্মে ম্লান হতে দেবেন না। সে জন্যই দলে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তিনি। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির শেষ দেখতে চান তিনি।

এ অভিযান সারা দেশে চলবে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে শুদ্ধি অভিযান চলছে। সারা দেশের যেখানেই দুর্নীতি বা অনিয়ম হবে সবখানেই শুদ্ধি অভিযান চলবে। শুধু যুবলীগ বা ছাত্রলীগের প্রশ্ন নয়, আওয়ামী লীগেরও যারা অনিয়ম দুর্নীতি করবে তাদের সবাই একই পরিণতি ভোগ করবে।

তিনি বলেন, প্রশাসন বা রাজনীতির কেউ যদি দুর্নীতিতে মদদ দিয়ে থাকে তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে আগাছা-পরগাছা দূর করা হবে। অপরাধী যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়ম, দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সময়ের আলোকে বলেন, এটা সময়োপযোগী বাস্তবমুখী একটি পদক্ষেপ। এতে দেশের সাধারণ মানুষ সমর্থন দিয়েছে। যারা আওয়ামী লীগে সারা জীবন ত্যাগ স্বীকার করেছে, তারা এখনও ত্যাগ স্বীকার করে যাচ্ছে। তাদের ত্যাগের বিনিময়েই আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। অথচ কিছু মানুষ আওয়ামী লীগকে ভাঙিয়ে যা খুশি তাই করবে এটা হতে পারে না।

আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, যুবলীগ নেতা গ্রেফতারের ঘটনা এটাই প্রথম না। এটা গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার চলমান প্রক্রিয়া। এর আগে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের যারা ভুল করেছে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। দল শুদ্ধ করার জন্য এ ব্যবস্থা। এতে দেশের উপকার হবে, সরকার, আওয়ামী লীগ ও রাজনীতির জন্য ভালো হবে। জনগণের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।

চাঁদাবাজির অভিযোগে কুষ্টিয়া যুবলীগ নেতা আটক : চাঁদা দাবির অভিযোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের দুই নেতাকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলোÑ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু ও পৌর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুজ্জামান সুজন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় শাহীন জোয়াদ্দার নামের এক ব্যবসায়ী, মিজানুর রহমান মিজু এবং আশরাফুজ্জামান সুজনসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের নামে চাঁদাবাজির মামলা করেন। সেই মামলায় এ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রাঙামাটিতে ১২ জনকে জরিমানা : রাঙামাটি শহরে মধ্যরাতে বিভিন্ন ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। গত শুক্রবার রাতে শহরের ব্রাদার্স স্পোর্টিং ক্লাব ও রাইজিং ক্লাবে এ অভিযান চালানো হয়। এতে মদ্যপান ও জুয়া খেলার অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জমির উদ্দিনসহ অন্তত ১২ জনকে জরিমানা করেছে প্রশাসন। এ অভিযান পরিচালনা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে পুলিশ ও ডিবি পুলিশ।

অভিযান শেষে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব হোম দাশ জানান, শহরের ব্রাদার্স স্পোর্টিং ক্লাব থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জমির উদ্দিনসহ ১১ জন ও রাইজিং ক্লাব থেকে একজন মোট ১২ জনকে মাদকদ্রব্য সেবন ও জুয়া খেলা অবস্থায় আটক করা হয়। পরে তাদের প্রতিজনকে ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। প্রকাশ্যে জুয়া আইন ১৮৬৭’র ৪ ধারায় এ জরিমানা করা হয় বলে জানান তিনি।

শ্রীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৩ : গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোল্ট্রি মাংস, খাদ্য ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। আটককৃতরা হলোÑ আওয়ামী লীগ নেতা কাওরাইদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও যোগিরসিট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই, জেলা যুবলীগের সদস্য নয়াপাড়া গ্রামের আব্দুল বাতেন মন্ডলের ছেলে কামরুল হাসান মন্ডল ও যোগিরসিট গ্রামের আব্দুল মজিদ সরকারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে টাইগার জাহাঙ্গীর।

ঠাকুরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগ নেতা সচিন গ্রেফতার : হাউজি ও জুয়া চালানোর নাম করে ঠাকুরগাঁওয়ের আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মানিক চন্দ্র বর্মণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা সচিন্দ্র নাথ বর্মণকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে তাকে আটক করার পরে দুপুরে টাকা প্রতারণার অভিযোগে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। আউলিয়াপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান নজরুল জানান, তিনি এ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT