রবিবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সাংবিধানিক মহাসঙ্কটে সংসদ

প্রকাশিত : ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ, ৭ এপ্রিল ২০২০ মঙ্গলবার ৬৮ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

অধিবেশন আহ্নবান করাকে কেন্দ্র করে সাংবিধানিক মহাসঙ্কটে পড়েছে জাতীয় সংসদ। একদিকে নভেল করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের মিছিল বাড়ছে, অন্যদিকে করোনা ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণও ঠেকানো যাচ্ছে না।

এই অবস্থায় এমপিদের সুরক্ষা এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই সময়ে তাদের জনগণের পাশে থাকাটাকেই সমীচীন মনে করছেন সবাই। কিন্তু সংবিধানে এমন কোনো একটি ধারা কিংবা উপধারাও খুঁজে পাওয়া যায়নি, যার ওপর নির্ভর করে এই মুহূর্তে অধিবেশন আহ্নবান করা থেকে বিরত থাকা যায়।

সংসদ সংশ্লিষ্টদের এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত করোনার মধ্যেই সংসদের অধিবেশন আহ্নবান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সংসদকে সাংবিধানিক মহাসঙ্কট থেকে উত্তরণে আগামী ১৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্নবান করেন তিনি। তবে দুর্যোগকালীন সময়ে অনুষ্ঠেয় এই অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে বলে জানা গেছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ শাখা থেকে সোমবার জানানো হয়েছে, সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জাতীয় সংসদের সপ্তম অধিবেশন আহ্নবান করেছেন। বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা সত্তেও সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতার কারণে আগামী ১৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশন বসবে। ওই দিন বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে। চলতি সংসদের সদস্য শামসুল রহমার শরীফ মারা যাওয়ায় অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনা হবে।

তবে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার কারণে এই অধিবেশন খুবই সংক্ষিপ্ত হবে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, সংবিধান অনুযায়ী একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার বাধ্য-বাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আগামী ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসতে হবে। কারণ চলতি সংসদের সর্বশেষ ষষ্ঠ অধিবেশন শেষ হয়েছিল ১৮ ফেব্রুয়ারি।

সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘সরকারি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্নবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করবেন এবং সংসদ আহ্নবানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন। সংসদের এক অধিবেশনের সমাপ্তি ও পরবর্তী অধিবেশনের প্রথম বৈঠকের মধ্যে ৬০ দিনের অতিরিক্ত বিরতি থাকবে না। তবে রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবেন।’

এই অনুচ্ছেদের শেষাংশে আরো বলা হয়েছে, ‘কার্যপ্রণালি বিধি দ্বারা বা অন্যভাবে সংসদ যেভাবে নির্ধারণ করবে, সংসদের বৈঠক সেভাবে সময়ে ও স্থানে অনুষ্ঠিত হবে।’

সংসদ সংশ্নিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়ে সাংবিধানিক নির্দেশনা মানার বা সংসদের বৈঠক আহ্নবানের যৌক্তিকতা নেই। জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের এখন জনগণের পাশে দাঁড়ানোর দাবিও উঠছে। তবে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, সংবিধান পর্যালোচনা করে তিনি এমন কোনো নির্দেশনা পাননি যাতে বৈঠক না ডেকে পারা যায়।

তার মতে, একদিনের জন্য হলেও সংসদ বসে দীর্ঘ সময়ের জন্য মুলতবি করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সব সংসদ সদস্যের উপস্থিত হওয়ারও কিছু নেই। ঢাকা ও আশপাশের এলাকার এমপিরা যোগ দিলেই কোরামের জন্য নির্ধারিত ৬০ জন সদস্য হয়ে যাবেন।

তবে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ৩ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়। যা ২২ মার্চ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে অধিবেশন বাতিল করেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT