রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১লা বৈশাখ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সমাবেশে বাধার শঙ্কায় ‘কৌশলী’ বিএনপি

প্রকাশিত : ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, ৭ ডিসেম্বর ২০২২ বুধবার ৬৭ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

বাধা আসবে এমনটা ধরে নিয়েই ঢাকার গণসমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। ১০ ডিসেম্বর এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নানা কৌশলে এগোচ্ছে দলটি।

এই মুহূর্তে কোনো সংঘাতে জড়াতে চায় না তারা। তাই সরকারের কোনো ফাঁদে পা না দিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশ সফল করতে চায় হাইকমান্ড।

এদিকে সমাবেশের স্থান চূড়ান্ত না হলেও নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি হবে-এমন বার্তা দেওয়া হয়েছে বিভাগের ১১টি সাংগঠনিক জেলার নেতাকর্মীদের।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পহেলা ডিসেম্বর থেকেই রাজধানীতে আসতে শুরু করেছেন তারা। শুক্রবারের মধ্যেই টার্গেট অনুযায়ী নেতাকর্মী ঢাকায় চলে আসবে বলে জানান সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির একাধিক নেতা। তারা বলেন, সমাবেশের দিন ক্ষসতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। তাই বিশৃঙ্খলা এড়াতে ওইদিন কমসংখ্যক নেতাকর্মীকে রাজধানীতে প্রবেশের জন্য বলা হয়েছে।

সমাবেশের স্থান ও নতুন কর্মসূচি নিয়ে সোমবার স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সভায় ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশের স্থান নিয়ে নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেন। প্রায় সব নেতা একই সুরে বলেন, নয়াপল্টনের বিকল্প হিসাবে আরামবাগে সমাবেশের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সরকার যদি আরামবাগে অনুমতি না দেয় তাহলে নতুন করে আর কোনো স্থান চাওয়া হবে না। অনুমতি না দিলেও নয়াপল্টনেই সমাবেশ করা হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ১০ দফার ভিত্তিতে হবে এ কর্মসূচি। এ সময় এক সদস্য বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে ৯ দফা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর তা ১০ দফা হলেও সেগুলো আমাদের সবার জানা উচিত। এ সময় দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, দফা ও কর্মসূচি নিয়ে বৃহস্পতিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপি নেতারা জানান, আপাতত তারা কোনো সংঘাতে যেতে চায় না। ১০ ডিসেম্বর একই সঙ্গে বিশ্ব মানবাধিকার দিবসও। তাই এদিন সরকারের কাছ থেকে কোনো বাধা এলেও পালটা কোনো প্রতিরোধের নির্দেশনা নেই। সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি পালন রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। অন্য ৯ বিভাগীয় গণসমাবেশের মতোই শান্তিপূর্ণ হবে ঢাকার কর্মসূচি। ওইসব বিভাগীয় কর্মসূচির অভিজ্ঞার আলোকেই পরিকল্পনা করা হয়েছে ঢাকার গণসমাবেশের। যে কারণে দু-একদিন আগেই নেতাকর্মীদের রাজধানীতে অবস্থান নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর। তারা কার্যালয়ের সামনে গণসমাবেশ সফলে মিছিলও করছেন। অনেককে আবার সেখানে দুপুরের খাবারও খেতে দেখা গেছে। নরসিংদী থেকে আসা রমজান আলী নামের এক কর্মী জানান, সোমবার বিকালে জেলার এক নেতার সঙ্গে তারা ২০০ নেতাকর্মী এসেছেন। হোটেলে না থেকে আত্মীয়, বন্ধুদের বাসায় উঠেছেন। টাঙ্গাইল থেকে আসা আতিকুর রহমান জানান, জেলার অধিকাংশ নেতাকর্মী এখন রাজধানীতে। বাধা দেওয়া হবে-এমন শঙ্কা থেকে জেলার নেতারা তাদের নিয়ে এসেছেন বলেও জানান তিনি।

সোমবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায়ও ঢাকার গণসমাবেশে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। প্রস্তুতির বিষয়ে সমাবেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভায় ১০ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণভাবে ঢাকায় গণসমাবেশ সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়। মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্ত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর এবং সারা দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫শ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার, বাড়ি-বাড়ি তল্লাশি, নির্যাতনে দেশে একটা ভয়াবহ ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সভায় অবিলম্বে এ ধরনের বেআইনি গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা, পুলিশি তল্লাশি বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সভা মনে করে বিএনপির সংবিধানসম্মত ১০ ডিসেম্বর গণসমাবেশ নস্যাৎ করার হীন উদ্দেশ্যে এ ধরনের নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেআইনিভাবে ব্যবহার করে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও ভীতিকর করে তুলতে চাইছে সরকার। এই ধরনের গণতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সভা আরও মনে করে, শত বাধা উপেক্ষা করে স্বতঃফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণ ঢাকায় শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশ সফল করবে।

প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা হচ্ছে-সরকার যতই সংঘাতে যাওয়ার ব্যাপারে উসকানি দিক, সেই ফাঁদে পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নয়াপল্টনে যেতে হবে। সরকার ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য বিএনপি ও জনগণকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সরকারের পাতা ফাঁদে আমরা পা দেব না। শত বাধা সত্ত্বেও গণসমাবেশে যেতে নায়ায়ণগঞ্জের বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রস্তুত। ইতোমধ্যেই অনেকে ঢাকা চলেও গেছেন। আশা করছি আগামি দু-এক দিনের মধ্যেই সবাই ঢাকায় থাকবেন।

ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ঢাকা জেলার যারা সচেতন নাগরিক অধিকাংশই রাজধানীতেই থাকেন। আমাদের প্রস্তুতি অনেক ভালো। অন্যান্য গণসমাবেশেও অনেক বাধা দেওয়া হয়েছে। তারপরও নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণকে থামাতে পারেনি। ঢাকার গণসমাবেশে তার চেয়েও কয়েকগুণ উৎফুল্ল নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক বলেন, নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ সবাই প্রস্তুত। বিএনপির দাবি হচ্ছে জনগণের দাবি। শতভাগ শান্তিপূর্ণভাবেই গণসমাবেশ করতে চাই। কোনো বাধা এলে দৃঢ়ভাবে তা আমরা প্রতিরোধ করব।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএ জিন্নাহ কবির বলেন, জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ঢাকার গণসমাবেশে অংশ নেবেন। যদিও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, মামলা, অভিযান-গ্রেফতার তো চলছেই। এতকিছু সত্ত্বেও ঢাকার সমাবেশে অংশ নিতে নেতাকর্মীদের যে উদ্দীপনা ও আগ্রহ তা একটুও কমেনি। বরং মামলা-হয়রানির কারণে অনেকেই ইতোমধ্যে ঢাকায় চলে গেছেন। যারা দুদিন পর যেতেন, তারা এখন দুদিন আগেই যাচ্ছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT