শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ক্ষোভ-অসন্তোষ সড়ক উন্নয়নে অনিয়ম-ধীরগতি

প্রকাশিত : ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ২৭ অক্টোবর ২০২১ বুধবার ২২ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং ধীরগতিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। সেখানে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার যখন দেশকে এগিয়ে নিতে একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, তখন এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক ধীরগতি, অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনা জনমনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, বৈঠকে মূলত সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ জোনে চলমান প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। এর বাইরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্প নিয়েও আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। তবে বৈঠকের পুরো সময়ই আলোচনার বিষয় ছিল সড়কপথের উন্নয়ন। কমিটির একাধিক সদস্য মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন রাখেন, সড়কের উন্নয়নের মহাযজ্ঞ কবে শেষ হবে। যদিও মন্ত্রণালয় এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

কমিটির বৈঠকে সড়কের ঢাকা জোনের অসমাপ্ত ৯টি প্রকল্পের সময় বাড়ানোর কারণ ও ব্যাখ্যাসহ প্রতিবেদন কমিটির কাছে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়া পর্যন্ত এবং পাচ্চর-ভাঙ্গা প্রকল্পে কাজ শেষ না হওয়ার কারণ তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়।

জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ মঙ্গলবার বলেন, আমরা সড়কের চারটি জোন নিয়ে আলোচনা করেছি। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। ওই কাজ কবে শেষ হবে তা জানতে চেয়েছি। কিন্তু মন্ত্রণালয় তা জানাতে পারেনি।

সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ-এই চারটি জোনে কী কী প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী এক মাসের মধ্যে সংসদীয় কমিটিকে দিতে বলা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের হার, ব্যয়, মেয়াদ এবং খরচ বাড়লে তা কী পরিমাণ বেড়েছে তারও প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। একই তথ্য দিতে বলা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কেও। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি, অনিয়মের পাশাপাশি আর্থিক এবং ভৌত অগ্রগতি সমান সমান হওয়া এবং দফায় দফায় সময় বাড়ানো নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এসব অনিয়ম নিয়ে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মন্ত্রণালয় কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

পরে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে সার্বিক বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি বলেন, মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে যে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে, সেখানে দেখা গেছে প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি সমান সমান। কিন্তু কোনোভাবেই এটা হওয়ার কথা নয়। এক শতাংশ হলেও তো পার্থক্য থাকবে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয় কোনো যুক্তি দিতে পারেনি। আমাদের অনেক প্রশ্নের তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সড়কের কয়েকটি প্রকল্পে ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। জবাবে কমিটির সদস্যরা ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ বাড়ানোকেও এক ধরনের অনিয়ম বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘বুঝলাম ব্যয় বাড়ছে না। কিন্তু প্রকল্প সময়মতো শেষ না হওয়ায় জনগণ তো সুবিধাবঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া ওই প্রকল্প শেষ না হওয়ার কারণে মানুষকে দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে।’

কমিটির সদস্য চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন, এবি তাজুল ইসলাম, আহসান আদেলুর রহমান, ওয়াসিকা আয়শা খান এবং খাদিজাতুল আনোয়ার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে উল্লিখিত অনিয়মের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন মঙ্গলবার বলেন, সংসদীয় কমিটিতে এ ধরনের আলোচনা বলা যায় একধাপ অগ্রগতি। অর্থাৎ এতদিন ধরে শুনছি প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়, বাস্তবায়ন দেরি হয়, অনিয়ম হয় কিন্তু সেগুলোর কোনো সমাধান হয়নি। তবে সমস্যাগুলো যেমন চিহ্নিত, তেমনি সমাধানও চিহ্নিত। কিন্তু সমাধান হয় না কেন? সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সমাধানের পথ সবারই জানা। অথচ ওই পথে চলা যাচ্ছে না। বাধাগুলো কোথায়? সমাধান করা যায় না কেন? নাকি আমরা সমাধানের পথে যেতে চাচ্ছি না। এগুলোর বিশ্লেষণ দরকার। সেই জায়গা থেকে বলা যায় সংসদীয় কমিটির যে আলোচনা সেটি ইতিবাচক। এবার সমাধানের দিকেই যেতে হবে।

প্রসঙ্গত, উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতি ও বাস্তবায়নে ধীরগতি প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টদের। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ স্থাপন প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মে জড়িতরা অবসরে গেলেও পার পাবেন না। ৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রকল্প তৈরিতে ত্রুটি করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যাদের কারণে চলমান প্রকল্পে পরবর্তী সময়ে নতুন আইটেম যোগ করতে হয়। এ কারণে ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। ওই দিন অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘প্রকল্পটি তৈরির সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন তাদের খুঁজে বের করুন, কারা জড়িত ছিলেন। শুধু তাই নয়, এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটিও জানাতে হবে। এছাড়া প্রকল্প পরিচালকদের প্রকল্প এলাকায় থাকতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী।’ তিনি বলেছেন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখতে হবে যাতে একজন প্রকল্প পরিচালক একাধিক প্রকল্পের দায়িত্বে না থাকেন। সেই সঙ্গে তারা যাতে প্রকল্প এলাকায় থাকেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, শুধু বড় ঠিকাদাররা যেন কাজ না পান, ছোট ঠিকাদাররাও যাতে কাজ পান সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে। কেননা এক ঠিকাদার একাধিক কাজ পেলে প্রকল্প বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT