শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লিপু হত্যাকাণ্ড: রহস্য অজানা, খুনিরা অধরা

প্রকাশিত : ০৭:৩২ অপরাহ্ণ, ২৭ মে ২০২২ শুক্রবার ২০ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোতালেব হোসেন লিপু হত্যাকাণ্ডের রহস্য সাড়ে ৫ বছরেও উদঘাটন হয়নি। বারবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনে তদন্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আদালতে জমা পড়েনি চার্জশিট। ফলে অজানাই রয়ে গেছে হত্যার রহস্য, আর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলো আসামিরা।

এদিকে পাঁচজনের হাতবদল হয়ে মামলাটি এখন তদন্ত করছেন মতিহার থানার ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান। মামলার তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত দুই মাস হলো তদন্তভার পেয়েছি। মামলার বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি আগামী ১ মাসের মধ্যে ভালো একটা অবস্থানে পৌঁছতে পারব। তবে কবে নাগাদ চার্জশিট দেওয়া হতে পারে- এমন প্রশ্নে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।

তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাশ উদ্ধারের পর লিপুর রুমমেট মনিরুলকে আটক করে পুলিশ। এছাড়া ওই দিনই লিপুর চাচা বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তিন দিন পর মনিরুলকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে মনিরুলকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনো ক্লু পায়নি পুলিশ।

ওই সময় মামলার তদন্তে ছিলেন মতিহার থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) অশোক চৌহান। তিনি বলছিলেন, লিপুর রুমমেট মনিরুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রহস্য উদঘাটন সম্ভব। তবে মনিরুল এখন জামিনে মুক্ত রয়েছে।

এরপর অশোক চৌহান বদলি হয়ে গেলে মামলার তদন্তভার যায় মতিহার থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব হাসানের কাছে। তিনি বলেছিলেন, পুলিশ সদর দফতর থেকে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তরের নির্দেশ পেয়েছেন। এখন এর প্রক্রিয়া চলছে। এতে তিন-চার দিন সময় লাগবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত হলেই তার কাছে মামলাটি হস্তান্তর করা হবে।

সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা নিধারণ হওয়ার পর ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি মামলাটি সিআইডির পরিদর্শক আসমাউল হকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই সময় তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে আসমাউল হক জানিয়েছিলেন। তিনিও বলেছিলেন, একটু সময় লাগবে। আশা করি ভালো কিছু জানাতে পারব। এর মধ্যে আবার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলে তদন্তভার যায় সিআইডির আরেক পরিদর্শক আজিজুর রহমানের কাছে।

জানতে চাইলে আজিজুর রহমান বলেন, যোগদানের পর অনেক দিন মামলাটির তদন্ত করেছি কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। অনেক কৌশল প্রয়োগ করেও কারো কাছ থেকে কোনো ক্লু পাইনি। ফলে চার্জশিট দিতে পারিনি। এর মধ্যে বদলি হয়ে যাই।

এরপর ২০২০ সালে আবারো তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়। ওই সময় তদন্তের দায়িত্ব পান সিআইডির আরেক কর্মকর্তা ক্ষিতিশ চন্দ্র সাহা। তিনি জানান, সবার সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। এর মধ্যে করোনার কারণে সারা দেশে লকডাউন শুরু হয়। এ সময় আমার বদলি হওয়ায় তদন্ত বেশি দূর এগোতে পারিনি।

এরপর গত দুই মাস আগে আবারো মামলার তদন্ত শুরু করেন মতিহার থানার ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান। তদন্ত শুরু করলেও কবে নাগাদ মামলার চার্জশিট দিতে পারবেন সেই বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।

এদিকে সাড়ে ৫ বছরেও মামলার রহস্য উদঘাটন ও চার্জশিট না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লিপুর সহপাঠী ও তার পরিবার। আদৌ এ ঘটনার বিচার পাবেন কিনা- এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের ড্রেন থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় লিপুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন বিকালেই লিপুর চাচা মো. বশীর বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এরপর লিপুর রুমমেট মনিরুলকে আটক করে তিন দিন পর হত্যা মামলায় মনিরুলকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। এরপর হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো ক্যাম্পাস। দফায় দফায় আন্দোলন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT