শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

যে কারণে যৌবনকালের ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ

প্রকাশিত : ০১:২১ অপরাহ্ণ, ২০ জুন ২০২১ রবিবার ৮৮ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

যৌবন মানেই বন্ধু, আড্ডা, গান, মাস্তি নয়। মহান আল্লাহ ক্ষণিকের জন্য মানুষকে তার এই বিশেষ নিয়ামত দিয়ে পরীক্ষা করেন। যারা তাতে উত্তীর্ণ হবে, তারাই সফল। আর যারা তা অবহেলা করবে, তারা চিরব্যর্থ। যে ব্যক্তি তার যৌবনকে আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করবে, কঠিন কিয়ামতের দিন সে মহান আল্লাহর আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবে। পবিত্র হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যেদিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।…যে যুবক বেড়ে উঠেছে মহান প্রতিপালকের ইবাদতের মধ্যে।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৬০)

যুগে যুগে সব পাপ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে যুবকরাই দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেক জাতির ইতিহাসেই দেখা যায়, তাদের মুক্তি, শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যুবকরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তেমনই এক যুবক ছিলেন ইবরাহিম (আ.), যিনি সর্বপ্রথম নিজ গোত্রের মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের কেউ কেউ বলল, আমরা শুনেছি, এক যুবক এই মূর্তিগুলোর সমালোচনা করে। তাকে বলা হয় ইবরাহিম।’ (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ৬০)

মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপযুক্ত সময়ে বিশেষ বিশেষ নিয়ামত দান করেন। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের ওই উপযুক্ত সময় হলো যৌবনের শেষ মুহূর্ত। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর মুসা যখন যৌবনে পদার্পণ করল এবং পরিণত বয়স্ক হলো, তখন আমি তাকে বিচারবুদ্ধি ও জ্ঞান দান করলাম। আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ১৪)
শুধু তা-ই নয়, ঈমান রক্ষার জন্য গোত্র ত্যাগকারী সেই আসহাবে কাহাফকেও পবিত্র কোরআনের মাধ্যমে মহান আল্লাহ চিরস্মরণীয় করে রেখেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাকে তাদের সংবাদ সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই তারা কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের হিদায়াত বাড়িয়ে দিয়েছিলাম।’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ১৩)

যৌবন কখনো কখনো মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। যৌবনের তাড়নায় যুবকরা অনেক ধরনের পাপে লিপ্ত হয়ে যায়। এ কারণেই যুবকদের উদ্দেশে রাসুল (সা.) বলেন, ‘হে যুবকদের দল! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে। এবং যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন সাওম পালন করে। কেননা সাওম যৌনক্ষমতাকে দমন করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০৬৫)

যৌবনে কেউ কেউ অধিক ফ্যাশনপ্রিয় হয়। তাদের চুল, পোশাক ও বেশভূষায় থাকে উগ্রতা। কেউ কেউ নারীদের মতো কানে দুল পরে। কেউ আবার সোনার আংটি, চেইন, ব্রেসলেট ইত্যাদিও পরে থাকে। রাসুল (সা.) এ ধরনের কাজ পছন্দ করতেন না। একবার রাসুল (সা.) হজরত খাব্বাবের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন, তাঁর হাতে একটি সোনার আংটি। তিনি বললেন, এখনো কি এই আংটি খুলে ফেলার সময় হয়নি? খাব্বাব (রা.) বললেন, আজকের পর আর এটি আমার হাতে দেখতে পাবেন না। অতঃপর তিনি আংটিটি ফেলে দিলেন। (বুখারি, হাদিস : ৪৩৯১)

মূলকথা হলো, যৌবনকাল মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামত। এ সময় মানুষের ইবাদতের শক্তি ও সুস্থতা দুটিই থাকে। এ সময় একজন মানুষ যতটা শুদ্ধতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে আমল করতে পারে, বৃদ্ধ হয়ে গেলে তা অনেক সময় সম্ভব হয় না। তাই এই মহামূল্যবান নিয়ামত কোনোভাবেই অবহেলায় কাটানো উচিত নয়। কারণ কিয়ামতের দিন যৌবনকালের সময়ের হিসাব নেওয়া হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৬)

তাই প্রত্যেক যুবকের উচিত তার যৌবনকে পাপমুক্ত রেখে আল্লাহর ইবাদতে রঙিন করা। সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতি, জিনা-ব্যভিচারসহ সব গুনাহ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। আল্লাহকে ভয় করা। মানুষের উপকার করা। সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে বাধা প্রদান করা। তাহলেই আমাদের সমাজটা আরো সুন্দর ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT