রবিবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

যেভাবে চলছে সাভারের পোশাক কারখানা

প্রকাশিত : ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ২ মে ২০২০ শনিবার ১১৬ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়ে পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হলেও এসব নির্দেশনার
সব মানা হচ্ছে না সাভারের কারখানাগুলোতে। কিছু কারখানায় বেশি শ্রমিক কাজ করছেন। কোথাও কাজের সময় দূরত্ব মানা হচ্ছে না।
বিরুলিয়া রোডে রয়েছে আজিম গ্রুপের জেকে গার্মেন্টস।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাততলা এই ভবনটির প্রতিটি ফ্লোরে কারখানা রয়েছে। দুটি ফ্লোর বন্ধ থাকলেও গত ২৬ এপ্রিল থেকে বাকি পাঁচটি ফ্লোরের কার্যক্রম চালু রয়েছে। পুরো কারখানায় প্রায় সাত থেকে আট হাজার শ্রমিক কাজ করে ইতিমধ্যে চার থেকে পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজে যোগদান করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেকে গার্মেন্টসের সামনে গিয়ে দেখা যায়, গার্মেন্টস খোলার কারণে আশপাশে বন্ধ থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে শুরু করেছে। খাবার হোটেল, চায়ের দোকান, মোবাইল রিচার্জের দোকানে আগের মতই চলছে বেচাবিক্রি।

দুপুরের খাবার বিরতিতে পোশাক শ্রমিকরা যে যার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। একসাথে চা খাচ্ছে,গল্প করছে। থান কাপড়ের দোকানে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করছে মহিলা পোশাক শ্রমিকরা। নেই কোনো সামাজিক দূরত্ব। শুধু মুখে মাস্ক ছাড়া নেই কোন হ্যান্ডগ্লাভস কিংবা অন্য কোন সুরক্ষা ব্যবস্থা। ২৬ এপ্রিল এর আগে পুরো এলাকাটি লকডাউন ছিল, বন্ধ ছিল সব দোকানপাট। এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকে সব দোকান।

এদিকে গার্মেন্টস এর প্রধান গেটে গিয়ে দেখা যায় ভিতরে (পিপিই) পরে দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী। দুপাশে দুজন বসে আছেন জীবানুনাশক স্প্রে নিয়ে। কারখানার ভিতরে প্রবেশের সময় শ্রমিকদের জুতা-স্যান্ডেলের এসব জীবাণু নাশক ওষুধ দিচ্ছে নিরাপত্তাকর্মীরা।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, ভিতরে সবকিছুই চলছে আগের মত। এখান থেকে জুতায় স্প্রে দেওয়ার পরে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রয়েছে ঠিকই তবে একই স্থানে অনেকে হাত ধুলে সেখান থেকে আমাদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া একটি পাঞ্চ মেশিনে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ জন শ্রমিক হাজিরা দিতে হয় এতে করে সেখান থেকেও আমাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া প্রতিদিন ছুটি এবং বের হওয়ার সময় সবাই যেভাবে হুড়োহুড়ি করে বের হয় তাতে সামাজিক দূরত্ব বলতে কিছুই থাকে না । ভিতরে কাজের পরিবেশও রয়েছে আগের মত যে যেখানে ছিলাম সেখানে বসেই কাজ করছি। কোন সামাজিক দূরত্ব নেই। পুরো ফ্যাক্টরি চালু হলো সমস্যা বেড়ে যাবে। সুতরাং এখানে নামেমাত্র স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হয়েছে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। নামমাত্র স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে আমরা সবাই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছি। আমরা আতঙ্কে আছি জানিনা কখন কি হয়ে যায়।

এদিকে গেটের সামনে জড়ো হয়ে চিল্লাপাল্লা করছে ১০ থেকে ১৫ জন যুবক। তাদেরকে শান্ত করার চেষ্টা করছে একজন নিরাপত্তাকর্মী। জানতে চাইলে তারা বলেন, কোনো নোটিশ ছাড়াই কোম্পানি আমাদেরকে ছাঁটাই করেছে। আমরা একেকজন কোম্পানিতে কেউ আট বছর, কেউ করেছে পাঁচ বছর, কেউ তিন বছর কাজ করেছি। প্রতিবছরের অর্জিত ছুটির যে টাকা সেটা আমরা কোম্পানির কাছে পাব । প্রত্যেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার করে টাকা পাব। কিন্তু তারা আমাদেরকে একটি টাকাও দিচ্ছে না। আমাদেরকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না, কারো সাথে কথা বলতে দিচ্ছে না, যোগাযোগের জন্য যে নাম্বারটি দেয়া হয়েছিল সেটিও এখন বন্ধ। এই মুহূর্তে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কিন্তু তারা কিছুতেই বিষয়টা আমলে নিচ্ছে না। আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা চাচ্ছি।

ভিতরে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য কি কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান গেটে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা। তারা বলেন, আমাদের এখানে সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধ। এ বিষয়ে আমাদের স্যার এখন কোন কথা বলবেনা। এই মুহূর্তে আমাদের ফ্যাক্টরিতে কোন ভিজিটর এলাও না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT