শনিবার ১১ জুলাই ২০২০, ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মাস্ক কেলেঙ্কারি: একতরফা তদন্ত সিন্ডিকেটের কালো থাবার প্রমাণ

প্রকাশিত : ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ, ৪ জুন ২০২০ বৃহস্পতিবার ৩৪ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সবাই যখন ভয়ে জবুথবু, তখন সামনের সারিতে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা চিকিৎসকদের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে নকল ও নিম্নমানের মাস্ক।

এন-৯৫ সার্জিক্যাল মাস্ক সরবরাহ করার কথা থাকলেও নকল মাস্ক সরবরাহ করা সিরিঞ্জ ঠিকাদারি কোম্পানি জেএমআইয়ের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, তাদের কাছে কোনো ধরনের জবাবদিহিতাই চাওয়া হয়নি।

অথচ একতরফা তদন্ত করে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার সিএমএসডির পরিচালককে বদলি করা হয়েছে। আমরা মনে করি, যে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে কেবল একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ নেই। সর্বোপরি, বিষয়টি যদি হয় জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে, তবে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও জড়িতদের বের করে শাস্তির আওতায় আনার বিকল্প নেই।

জানা যায়, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে পিপিই ও এন-৯৫ মাস্ক কেনার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএমআই নকল মাস্ক সরবরাহ করলে ডাক্তাররা সেটি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর কেন্দ্রীয় ঔষধাগার কোম্পানির কাছে কারণ জানতে চায় এবং তারা নিজেদের ভুল হয়েছে বলে জানায়; কিন্তু একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি এ ঘটনায় সিএমএসডির পরিচালককে বদলির সুপারিশ করলেও ঠিকাদার কোম্পানির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সদ্য সাবেক সিএমএসডির পরিচালক বলেছেন- সুনির্দিষ্ট কোম্পানির কাছ থেকে কেনাকাটার ক্ষেত্রে একজন মন্ত্রী ও তার ছেলের সুপারিশ রাখার জন্য একজন অতিরিক্ত সচিবের কাছ থেকে মৌখিক নির্দেশ আসে। স্বাস্থ্য খাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সিন্ডিকেট, এমনকি বছর বছর নাম পরিবর্তন করে কোম্পানি তৈরি করে নামে-বেনামে স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে সিএমএসডির বিদায়ী পরিচালকের বিভিন্ন দফতরে দেয়া চিঠি থেকে।

বস্তুত, স্বাস্থ্য খাত ঘিরে যে নানা ধরনের বহুমুখী সিন্ডিকেট সক্রিয়, তা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। মহামারীর মতো অতি জরুরি সময়ে নকল মাস্ক সরবরাহ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন পিয়নের ডজনের বেশি বাড়িসহ শত কোটি টাকার মালিক হওয়া ইত্যাদি ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, আমাদের স্বাস্থ্য খাত অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত।

এ অবস্থায় মাস্ক কেলেঙ্কারির প্রকৃত হোতাদের খুঁজে বের করে শাস্তির মুখোমুখি করা ও স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

করোনাভাইরাস আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে সেটি হল, সরকারি স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এজন্য সরকারি বরাদ্দ যেমন বাড়াতে হবে, তার চেয়ে জরুরি বরাদ্দকৃত অর্থ দুর্নীতিবাজদের খেয়ে ফেলার সব পথ বন্ধ করতে হবে সবার আগে।

এখনই অনিয়ম-দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ও মানসম্মত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনতে হবে। বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটায় অনিয়মের তথ্য বেশ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে আসছে।

করোনাকালে খোদ মাস্ক কেলেঙ্কারি প্রমাণ করে যে, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় দুর্নীতিবাজরা কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। আশার কথা, দুদক মাস্ক কেলেঙ্কারির তদন্ত প্রতিবেদন চাইবে ও পুনঃতদন্ত করবে। করোনায় প্রকাশ হওয়া স্বাস্থ্যসেবার ভঙ্গুর দশা আমলে নিয়ে সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে খাতটিকে মানসম্মত করার প্রচেষ্টা নেবে ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হবে বলে আমরা আশাবাদী।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT