রবিবার ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১লা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারতের গরিবরাও স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন ॥ দ্রৌপদী মুর্মু

প্রকাশিত : ০৫:৪২ পূর্বাহ্ণ, ২৬ জুলাই ২০২২ মঙ্গলবার ৭৮ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

ভারতের ১৫তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু। সোমবার দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লীতে শপথ নেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো আদিবাসী রাষ্ট্রপতি পেল দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি। ভারতের প্রধান বিচারপতি এনভি রমনা দ্রৌপদীকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, আমার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া প্রমাণ করে যে, ভারতের গরিবরাও স্বপ্ন দেখতে এবং স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন। খবর এনডিটিভির।

এর আগে রবিবার শেষ হয় বিদায়ী রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের মেয়াদ। সোমবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মুর শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে যাবতীয় প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়। দিল্লীর সেন্ট্রাল হলে অনুষ্ঠিত এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু, লোকসভার স্পীকার ওম বিড়লা, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপালসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে প্রান্তিক আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে নির্বাচিত ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেছেন, নির্বাচনে তার জয় দেশের প্রত্যেক দরিদ্র মানুষের অর্জন। একেবারে দরিদ্র পরিবার থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদে হওয়া এই নারী বলেন, গরিবরাও স্বপ্ন দেখতে পারেন। সোমবার ভারতের প্রধান বিচারপতি এনভি রমনার কাছে শপথ নেয়ার পর এ মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মুর্মুর আসীন হওয়ার ঘটনাকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশটির প্রায় ৮ শতাংশই আদিবাসী সম্প্রদায়ের, আগামী ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ভারতের নবনির্বাচিত আদিবাসী নারী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রথমবারের মতো আলোচনায় আসেন ২০১৭ সালে। ওই সময় ওড়িশ্যার এই আদিবাসী নারীকে দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি তখন ঝাড়খ- রাজ্যের গবর্নরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাবেক স্কুলশিক্ষক মুর্মু দ্বিতীয় নারী হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপতির পদে আসীন হয়েছেন। যদিও এই পদ অনেকটা আনুষ্ঠানিক মাত্র। দ্রৌপদী মুর্মুর জন্ম ১৯৫৮ সালে ওড়িশ্যার ময়ূরভঞ্জ জেলার বাইদাপোসি গ্রামে। ভারতের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী গোষ্ঠী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সদস্য তিনি।

বিজেপির মনোনয়ন পাওয়ার পর গত সপ্তাহে রাজ্যসভা এবং লোকসভার সদস্যদের ভোটে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু। সোমবার শপথ নেয়ার পর সংসদে দেয়া ভাষণে ৬৪ বছর বয়সী এই নারী বলেছেন, এটি আমার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তির বিষয় যে, যারা শতকের পর শতক ধরে বঞ্চিত এবং যারা উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারেন না, সেই দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, পিছিয়ে পড়া এবং আদিবাসীরা আমার মাঝে তাদের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছেন। মুর্মুর শপথ গ্রহণকে ভারতের বিশেষ করে দরিদ্র, প্রান্তিক ও নিম্নবিত্তদের জন্য এক পরম মুহূর্ত উল্লেখ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ভারতের রাষ্ট্রপতি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ কমান্ডার হিসেবে কাজ করলেও নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী প্রধানমন্ত্রী। তবে দেশের রাজনৈতিক সঙ্কটের সময় রাষ্ট্রপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। যেমন দেশটিতে যখন সাধারণ নির্বাচনের ফল সিদ্ধান্তহীন হয়, তখন কোন্ দল সরকার গঠনের জন্য সেরা অবস্থানে রয়েছে তা ঠিক করতে পারেন রাষ্ট্রপতি।

এর আগে ভোটাভুটির মাধ্যমে ভারতের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন দেশটির ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের প্রার্থী আদিবাসী সাঁওতাল নারী দ্রৌপদী মুর্মু।

গত বৃহস্পতিবার তিন দফায় ভোট গণনা শেষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। এতে ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তিনি। আর এর পরই প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধীদলীয় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী যশবন্ত সিনহা পরাজয় স্বীকার করে নেন। দ্রৌপদী মুর্মু একজন গ্রাম পরিষদ প্রধানের কন্যা মুর্মু রাজ্যের রাজধানী ভুবনেশ্বরের রামাদেবী মহিলা কলেজে পড়াশোনা করেন। ওড়িশ্যা সরকারের একজন কেরানি হিসেবে কর্মজীবন শুরু হয় মুর্মুর। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত সেখানকার সেচ ও জ্বালানি বিভাগের জুনিয়র সহকারী হিসেবে কাজ করেন তিনি। শাশুড়ির পীড়াপীড়িতে ভুবনেশ্বরে চাকরি ছেড়ে দেয়ার পর পরিবারের দেখভালের জন্য রায়রাংপুরে ফিরে আসেন দ্রৌপদী। পরে শ্রী অরবিন্দ ইন্টিগ্রাল স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নেন তিনি। দ্রৌপদীর রাজনীতিতে পথচলা শুরু হয় ১৯৯৭ সালে।

ওই বছর তিনি রায়রাংপুরের স্থানীয় নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তাকে প্রায়ই ড্রেন পরিষ্কার থেকে শুরু করে আবর্জনা অপসারণের সময়ও রোদে দাঁড়িয়ে শহরের স্যানিটেশন কাজের তত্ত্বাবধান করতে দেখা যায়। বিজেপির সদস্য হিসেবে তিনি রায়রাংপুর আসনে দু’বার বিধানসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেনÑ ২০০০ এবং ২০০৯ সালে। ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিজু জনতা দল পার্টির নবীন পট্টনায়কের নেতৃত্বে রাজ্যের জোট সরকারের মন্ত্রী হন। প্রাথমিকভাবে বাণিজ্য ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দফতর সামলান তিনি। পরে রাজ্যের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীও হন তিনি। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ‘তফসিলি উপজাতির’ বিজেপির রাজ্য শাখার সভাপতি ছিলেন মুর্মু। ভারতের সংবিধানে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর সম্প্রদায় হিসেবে এই আদিবাসী গোষ্ঠীর স্বীকৃতি রয়েছে। ২০০৯ সালে দুঃখজনক মোড় নেয় দ্রৌপদীর জীবন।

রহস্যজনক এক পরিস্থিতিতে বড় ছেলেকে হারিয়ে ফেলেন তিনি। এর কয়েক বছর পর দ্বিতীয় ছেলে এবং স্বামীকেও হারান তিনি। নিজেকে সামলে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু করেন মুর্মু। ২০১৫ সালে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খ-ের প্রথম নারী গবর্নর নিযুক্ত হন তিনি। গত বছরের জুলাই পর্যন্ত ছয় বছর এই পদে আসীন ছিলেন তিনি। আর এবার ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ইতিহাসের অংশ হলেন দ্রৌপদী মুর্মু।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



এই বিভাগের জনপ্রিয়

ইরানি বংশোদ্ভূত দুই ব্রিটিশ নাগরিককে দীর্ঘদিন বন্দি রাখার পর মুক্তি দিয়েছে তেহরান। ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে যুক্তরাজ্য ৪০ কোটি পাউন্ড ইরানের কাছে হস্তান্তরের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।     বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির পর নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরি যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।  নাজানিন জাঘারি প্রায় ছয় বছর ধরে ইরানে বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।  নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরিকে বহনকারী প্লেন অক্সফোর্ডশায়ারের ব্রিজ নর্টন ব্রিটিশ সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। এর আগে তারা ওমানে সাময়িক সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি নেন।  তারা একসঙ্গেই প্লেন থেকে নেমে আসেন এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের পর পর উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে হাত নাড়েন। এদিকে মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা মোরাদ তাহবেজ নামে আরও একজনকেও কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।  বুধবার তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ত্রাস এবং প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।   এ বিষয় ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর আগে ইরানের কাছে ইসলামি বিপ্লবের আগে অর্থাৎ প্রায় ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে ব্রিটিশ সরকার তেহরানকে ৪০ কোটি পাউন্ড (৫২০ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করেছে।  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, এটি নিশ্চিত করতে পেরে আমি খুব খুশি, নাজানিন জাঘারি এবং আনোশেহ আশোরিকে অন্যায়ভাবে বন্দি রাখার দিন শেষ হয়েছে। তারা মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরেছে।

ইরানি বংশোদ্ভূত দুই ব্রিটিশ নাগরিককে দীর্ঘদিন বন্দি রাখার পর মুক্তি দিয়েছে তেহরান। ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে যুক্তরাজ্য ৪০ কোটি পাউন্ড ইরানের কাছে হস্তান্তরের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির পর নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরি যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। নাজানিন জাঘারি প্রায় ছয় বছর ধরে ইরানে বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরিকে বহনকারী প্লেন অক্সফোর্ডশায়ারের ব্রিজ নর্টন ব্রিটিশ সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। এর আগে তারা ওমানে সাময়িক সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি নেন। তারা একসঙ্গেই প্লেন থেকে নেমে আসেন এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের পর পর উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে হাত নাড়েন। এদিকে মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা মোরাদ তাহবেজ নামে আরও একজনকেও কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বুধবার তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ত্রাস এবং প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ বিষয় ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর আগে ইরানের কাছে ইসলামি বিপ্লবের আগে অর্থাৎ প্রায় ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে ব্রিটিশ সরকার তেহরানকে ৪০ কোটি পাউন্ড (৫২০ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, এটি নিশ্চিত করতে পেরে আমি খুব খুশি, নাজানিন জাঘারি এবং আনোশেহ আশোরিকে অন্যায়ভাবে বন্দি রাখার দিন শেষ হয়েছে। তারা মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরেছে।

© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT