সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১, ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বৈরী সময়ে উচ্চাভিলাষী বাজেট!

প্রকাশিত : ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ, ২৪ এপ্রিল ২০২০ শুক্রবার ২০৪ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

করোনার কারণে তছনছ অর্থনীতি। ব্যবসা-বাণিজ্য রীতিমতো বিপর্যস্ত। থমকে গেছে সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। বিনিয়োগ তো নেই-ই, উল্টো একে একে লে অফ হচ্ছে শিল্প-কারখানা। পাঁচ কোটি দরিদ্রের সঙ্গে নতুন করে আরো অন্তত আড়াই থেকে তিন কোটি মানুষ দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে। আমদানি সীমিত। সব কিছু অচল, তাই নেই রপ্তানিও। বৈশ্বিক লকডাউনে প্রবাসীরাও আছেন অবরুদ্ধ জীবনে। ফলে তাঁদের আয় নেই। আসছে না রেমিট্যান্স। রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক ধারায় টান পড়ার ঝুঁকিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আয় বা রাজস্ব আদায় বলতে গেলে রেকর্ড নেতিবাচক ধারায়।

এমন পরিস্থিতিতে চলতি বাজেটের বাস্তবায়ন হচ্ছে না ঠিকমতো। এরই মধ্যে কাটছাঁট করা হয়েছে এডিপি ও রাজস্ব আয়। তা-ও করা হয়েছে করোনার আঘাতের আগেই। এখন পরিস্থিতি আরো নাজুক। বর্তমান বাজেট বাস্তবায়ন নয়; বরং সরকার ব্যস্ত আছে প্রয়োজনে সব প্রকল্প বন্ধ করে হলেও দরিদ্র মানুষকে খাওয়া-পরা জোগাতে আর অর্থনীতিটাকে টিকিয়ে রাখতে। এরই মধ্যে শিল্প, সেবা, এসএমই, কৃষিসহ সামাজিক সুরক্ষায় সরকার প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্যাকেজ দিয়েছে। অর্থাৎ বলা যায়, অর্থনীতির রক্তপ্রবাহ সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। অর্থেও সীমাবদ্ধতার কারণে এখানে ব্যাংকগুলোকে নীতি সহায়তা দিয়ে তারল্য বাড়ানো হয়েছে। বৈদেশিক সাহায্যের জন্য অর্থমন্ত্রী হন্যে হয়ে এডিবি, এআইআইবি, বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের নিজে ফোন করে ঋণ সহায়তা চাইছেন। ঠিক এমন অবস্থায় একটিকে অপূর্ণ রেখেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে আরেকটি বাজেটের। মানে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট তৈরির কাজ করছে সরকার।

জানা যায়, আসছে অর্থবছরের নতুন বাজেটটিও চলতি বাজেটের ধারাবাহিকতায় উচ্চাভিলাষী হতে যাচ্ছে। আকার হতে পারে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা বিদ্যমান বাজেটের চেয়ে ৬৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা বেশি। যেহেতু কাঙ্ক্ষিত আয় নেই, ঘাটতি ধরা হয়েছে পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা। বাস্তবায়ন অদক্ষতায় চলতি এডিপি কাটছাঁট করা হলেও আগামী এডিপির আকার হতে পারে দুই লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমান এডিপির চেয়ে বেশ খানিকটা বড়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এবং অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী বাজেটে রাজস্ব আদায়, ঘাটতি বাজেট মোকাবেলা কিভাবে হবে তা বড় চ্যালেঞ্জ। ঘাটতি বাজেট সব সময় ৫ শতাংশের নিচে রাখার চেষ্টা করা হয়। এবার তা ধরে রাখা একটি চ্যালেঞ্জ। ঘাটতি মোকাবেলায় সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংক থেকে কিভাবে ঋণ নেওয়া হবে তা দেখতে হবে। কারণ সঞ্চয়পত্রে ইতিমধ্যে ধস নেমেছে। ব্যাংকগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। ইতিমধ্যে সরকার অনেক ঋণ নিয়েছে। আরো ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ কমে যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া এবং বৈদেশিক সাহায্য জোগাড় করতে হবে। তবে বিদেশি সাহায্য জোগাড়ও একটি চ্যালেঞ্জ হবে বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এ খাতে প্রকৃত যারা পাওয়ার কথা তারাই যেন বরাদ্দ পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এটা একটা প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। মানুষ যাতে অনাহারে না মারা যায় সেটা দেখতে হবে। কিছুটা খাদ্য বিতরণের মাধ্যমে, কিছুটা ওএমএসসহ যেসব প্রকল্প আছে তার মাধ্যমে করতে হবে। কর্মসংস্থানের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, বাজেটের আকার ছোট করতে হবে। এ জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্প বরাদ্দ কমাতে হবে। এখানে অনেক অহেতুক প্রকল্প নেওয়া হয়। তা বাদ দিতে হবে। বরং স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ আরো বাড়াতে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কাঙ্ক্ষিত আয় নেই, স্থবির হয়ে আছে সব কিছু, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অচল। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স না এলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ার ঝুঁকি হতে পারে সামনে। তখন আমদানি ব্যয় মেটানো কঠিন হবে। যেহেতু সরকারি ও বেসরকারি সব খাত অচল; করোনার কারণে উল্টো সব খাতকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা দিতে হচ্ছে। দরিদ্র, অসহায়, গরিব দিনমজুরদের খাওয়াতে হচ্ছে সরকারের তহবিল থেকে। পোশাক, চামড়াসহ সম্ভাবনাময় প্রধান প্রধান রপ্তানি খাতে বিপুল পরিমাণ তহবিল দিতে হচ্ছে। সেখানে উচ্চাভিলাষী নতুন বাজেট বাস্তবায়ন তো সম্ভবই নয়; বরং তৈরি করবে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এ বিষয়ে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি বিশেষ পরিস্থিতির পর সামনে আসছে আরেকটি বাজেট। এমন পরিস্থিতি কখনোই মোকাবেলা করেনি বাংলাদেশ। ফলে এবারের বাজেটটি হতে হবে খুবই মেদহীন ও পরিশীলিত। যেটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই প্রাক্কলন করা উচিত। শুধু শুধু ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে অঙ্ক বড় করে লাভ নেই। চলতি বাজেটটিই এবার পূর্ণ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। রাজস্ব আয় বড়জোর আড়াই লাখ কোটি টাকা হতে পারে। আসছে বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা কমানো উচিত অন্তত এক লাখ কোটি টাকা। কারণ ব্যবসা-বাণিজ্যই যেখানে স্থবির, চালুর জন্য যেখানে সরকারকে বিপুল অঙ্ক প্রণোদনা দিতে হচ্ছে, সেখানে আয়ের বিরাট লক্ষ্য দিয়ে কী লাভ? আর অর্থায়নের জন্য দাতাদের সহায়তাও নিতে হবে। সেখান থেকে কতটুকুই বা পাওয়া যাবে, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তাই আমি মনে করি, চলতি বাজেটের ধারাবাহিকতায় উচ্চাভিলাষী বাজেট না করে আগামী বাজেটের আকার হওয়া উচিত চলতি বাজেটের সমান। তা ছাড়া আয়ের জন্য রাজস্ব খাতে বড় কোনো সংস্কার পদক্ষেপও নেওয়ার সুযোগ কম। কারণ নতুন করে কর আরোপের অবস্থা নেই। উল্টো সবাই ছাড় চাইছে। ফলে আয় যেহেতু কম হবে, ঘাটতি বা ঋণের ওপর ভর করে বড় বাজেট না দিয়ে পরিমিত ব্যয়ের প্রাক্কলন করা উচিত, যা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।’

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, এবারের বাজেটের রাজস্ব আয়ের দিক থেকে নীতি-কৌশল কী হবে এখনো তার রূপরেখা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। লকডাউনের কারণে সব বন্ধ থাকায় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। বাজেট ঘোষণার আর মাত্র দেড় মাসেরও কম সময় হাতে রয়েছে। অথচ এবারের বাজেট কী হবে, কেমন হবে, নতুন কর আরোপ হবে কি না, ভ্যাট ও শুল্ক খাতে কী কৌশল নেওয়া হবে, এখনো তার উল্লেখ করার মতো কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। যদিও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন ও সংগঠনের পক্ষ থেকে বাজেট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ওই সব প্রস্তাবে নতুন কর আরোপ না করার সুপারিশ করা হয়েছে। বরং পাওনা কর স্থগিত করা এবং শুল্ক করা ছাড় দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। এনবিআর সূত্র আরো জানায়, বাজেটের এখনো তেমন কাজ না হলেও, আগামী সপ্তাহে কিছু কিছু কাজ হবে।

তবে এনবিআরের আয়কর নীতির সদস্য আলমগীর হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অফিস বন্ধ থাকলেও আমাদের অফিসাররা বাসায় বাজেটের কাজ করছেন। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক না হলেও, তাঁদের অনেকেই বাজেট প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করছি।’ তিনি জানান, আসছে বাজেটে নতুন কর আরোপের তেমন চিন্তা না থাকলেও কর প্রশাসনকে আরো শক্তিশালী করা, মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধে বিশেষ পদক্ষেপ থাকবে আসছে বাজেটে। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের বাজেট তিন মাসের জন্য দেওয়া হবে নাকি পুরো এক অর্থবছরের জন্য দেওয়া হবে তা নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে। পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। সব ঠিক থাকলে আগামী অর্থবছরের বাজেট ১১ জুন জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে।

সূত্র মতে, অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী অর্থবছরের নতুন বাজেটের কাজ প্রায় শেষ করে এনেছে। ইতিমধ্যে আসছে অর্থবছরের জন্য দুটি বাজেট কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। প্রথমটিতে স্বাভাবিক মতে পুরো এক অর্থবছরের জন্য বাজেট ছক তৈরি করা হয়েছে। আর দ্বিতীয়টিতে এক প্রান্তিকের জন্য বাজেট তৈরি করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কাছ থেকে যে ছকটির ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে সেটি নিয়েই আগাবে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে আপাতত পুরো অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নেই কাজ করছে মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই ধরনের বাজেট দেওয়ার সক্ষমতাই আমাদের আছে। সে অনুযায়ী কাজও প্রায় শেষের পথে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ওপর।’

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রাক্কলন করা হয়েছে। চলতি বাজেটটির আকার পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যা বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকায় ইতিমধ্যে তা কাটছাঁট করা হয়েছে। সামনে হয়তো আরো কাটছাঁট করতে হতে পারে। আসছে বাজেটটি আকারে যেমন বড় তেমনি এর এডিপিও ধরা হয়েছে বড় আকারের। আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ধরা হতে পারে দুই লাখ ২৯ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। তবে শেষ মুহূর্তে এটির আকার বেড়ে দুই লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। আর আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি গিয়ে দাঁড়াবে পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশের কিছু ওপরে। সাধারণত বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের নিচে রাখা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট গতানুগতিক হওয়া উচিত নয়। গত্বাঁধা বাজেট না হয়ে অর্থনীতিতে করোনা প্রভাব কিভাবে মোকাবেলা করা হবে তা নিয়ে দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। শুধু এক বছরের নয়, বাজেটে দু-তিন বছরের রূপরেখা থাকতে হবে। বাজেটে অপচয় রোধ করতে হবে। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর মতো ব্যাপারগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে। এডিপিতে অযথা প্রকল্প পরিহার করতে হবে। তিনি বলেন, রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে আয়করে কোনো ধরনের যেন ঘাটতি না থাকে, দুর্নীতি যেন না হয়, সেদিকটা দেখতে হবে। বাজেটটিকে মনিটারি পলিসির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে। ঘাটতি বাজেট দিয়ে এটিকে অযথা বড় করার দরকার নেই। খাদ্যে যেন ঘাটতি না হয় সে জন্য কৃষি খাতে আগামী বাজেটে বিশেষ নজর দিতে হবে। কৃষি মানে শুধু ধান নয়, পোল্ট্রি, মত্স্যসহ সব দিক বিবেচনায় নিতে হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT