রবিবার ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘বিপ্লব’ দীর্ঘজীবী হবে তো?

প্রকাশিত : ০৭:০২ পূর্বাহ্ণ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার ২৩১ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের দিনে ফিল্ডিংয়ের সময় হ্যামিল্টন মাসাকাদজার শট থামাতে গিয়ে হাতে যে চোট পেয়েছেন, গভীর রাতে হাসপাতালে নিয়ে দিতে হয়েছে তিনটি সেলাই। এই অবস্থায় সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচে তাঁর খেলার অনিশ্চয়তার কারণেই প্রশ্নটা জাগছে, ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী’ হবে তো?

চট্টগ্রামের র‌্যাডিসন হোটেলের মূল ফটক দিয়ে আমিনুল ইসলাম যখন বেরিয়ে আসছেন, তখন তাঁর বাঁ হাতের কবজিটা সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো। আগের রাতেই অভিষেক হয়েছে ‘বিপ্লব’ ডাকনামের এই ক্রিকেটারের। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ছিলেন ব্যাটসম্যান, জাতীয় দলে ঢুকেছেন লেগ স্পিনার পরিচয়ে। অভিষেকটা খারাপ হয়নি, ক্যারিয়ারের তৃতীয় বলেই পেয়েছেন প্রথম উইকেটের দেখা। দিনশেষে ঝুলিতে জোড়া শিকার আর ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অগ্রজ সতীর্থের মুখে উদাত্ত প্রশংসা, সব মিলিয়ে বুধবার রাতটা হতে পারত আমিনুলের জন্য গভীর প্রশান্তির। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের দিনে ফিল্ডিংয়ের সময় হ্যামিল্টন মাসাকাদজার শট থামাতে গিয়ে হাতে যে চোট পেয়েছেন, গভীর রাতে হাসপাতালে নিয়ে দিতে হয়েছে তিনটি সেলাই। এই অবস্থায় সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচে তাঁর খেলার অনিশ্চয়তার কারণেই প্রশ্নটা জাগছে, ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী’ হবে তো?

অ্যাশেজ-পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটদুনিয়া আসলে ব্যস্ত স্টিভেন স্মিথ বন্দনায়। একজন ব্যাট করতে জানা লেগ স্পিনারের পক্ষে এতটা ভালো ব্যাটসম্যান হয়ে যাওয়া কিভাবে সম্ভব যে স্যার ডন ব্র্যডম্যানের রেকর্ডও হুমকির মুখে পড়ে যায়? বাংলাদেশে হয়েছে ঠিক উল্টো। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে আমিনুল ছিলেন ব্যাটসম্যান, বোলিংটা করতেন শখের বশে। বাংলাদেশ সফরে আসা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিপক্ষে শতরানও করেছিলেন আমিনুল। হাইপারফরম্যান্স স্কোয়াডের কোচ সাইমন হেলমট তাঁর ভেতর দেখেছেন লেগ স্পিনার হওয়ার সম্ভাবনা, কোচের সুপারিশেই আমিনুলের দলে আসা। এরপর ‘ভিনি ভিডি ভিসি’ না হলেও মন্দ করেননি আমিনুল, পারফরম্যান্সের সঙ্গে সতীর্থদের প্রশংসার যোগফলে ভালো একটা শুরু পেয়েছেন ক্যারিয়ারে। মঙ্গলবারের ম্যাচ শেষে মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ এসে বলছিলেন, ‘আমি ওর খেলা আগে দেখিনি, চিনতামও না। যখন আমি ওকে নেটে দেখলাম, আমি অনুভব করলাম ওর ভেতরে কিছু একটা আছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাইছিলাম ও যেন ভালো করে, তাহলে দলের জন্যও ভালো হবে। আমি ওর জন্য আসলে অনেক বেশি খুশি। আমি সাকিবের সঙ্গে কথা বলছিলাম, যে সাহস নিয়ে ও বল করেছে, এক কথায় অসাধারণ। আমার মনে হয় ওর ব্যাটিং সামর্থ্যও ভালো। ইনশাআল্লাহ যেভাবে শুরু করেছে, এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের জন্য আরো সাফল্য এনে দিতে পারবে।’

আমিনুল নিজেও ভাবেননি, এভাবে শুরু হবে জাতীয় দলের অধ্যায়টা, “সত্যি বলতে কি, এতটা আশা করিনি। প্রথমে সোহেল স্যার (স্পিন বোলিং কোচ) ফোন করে জানান যে কোনো খবর পেয়েছ নাকি। আমি বলি, ‘না’। তখন জানান সামনেই একটা সুখবর পাবে। এরপর সাব্বির ভাইয়ের (ম্যানেজার) ফোন পাই, উনি বলেন আমাকে দলে নেওয়া হয়েছে। দলে এসে অনুশীলনে যোগ দিই, যাদের খেলা দেখেছি তাদের সঙ্গে অনুশীলন করি। দলীয় বৈঠকের সময় বলা হয় যে আমি ম্যাচে খেলছি। রাতে ঘুমাতে পারিনি, প্রথমবার তো!” নির্ঘুম রাতের পর যে আলোর ভোরটা এসেছে, তাতে আলোকিত পারফরম্যান্সে সতীর্থদের মন জয় করেছেন আমিনুল। প্রশংসা পেয়েছেন অগ্রজদের, ‘ম্যাচের শুরুর দিকে আমি একটু নার্ভাস ছিলাম। যখন এত অভিজ্ঞ মানুষ সাপোর্ট করে, বলে যে কিছু হবে না, ডোন্ট ওরি…সাকিব ও রিয়াদ ভাইয়ের মতো বড় খেলোয়াড় এগুলো বলে তখন আপনাতেই আত্মবিশ্বাস চলে আসে। আমি শুধু ওটাকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি।’

লেগ স্পিনারের জন্য হাহাকার তো লম্বা সময় ধরে। সেই শূন্যতা পূরণে জুবায়ের হোসেন, তানবীর হায়দারসহ অনেককেই তো বাজিয়ে দেখা হয়েছে। কিন্তু কেউই প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। আমিনুল কি পারবেন? এমন প্রশ্নে তাঁর উত্তর, ‘আমি দেখেছি আগে কে কী করেছেন। চেষ্টা থাকবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নতি করার। একটা একটা করে ম্যাচ ধরে ধরে ভালো করার চেষ্টা করব।’ কিন্তু পরের ম্যাচটি কবে খেলবেন আমিনুল, সেটা নিয়েই যে এখন শঙ্কা! ম্যাচে বোলিংয়ের সময় চোট পাওয়ার ঘটনাটা শোনা যাক তাঁর মুখেই, ‘ফিল্ডিং করার সময় হাতে মাসাকাদজার একটা বল লেগেছিল। হাতে তিনটি সেলাই পড়েছে। এখন আল্লাহর রহমতে ভালো লাগছে। ব্যথা আগের থেকে কমেছে। ফিজিও যেটা বলছেন সেটা করছি। টিম ম্যানেজমেন্ট যেটা বলবে সেটা হবে। আমার কাছে ভালো মনে হচ্ছে।’ আঘাতটা বোলিং হ্যান্ডে নয় বলেই খেলার সুযোগ থাকছে আমিনুলের, আবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাওয়াতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি হয়ে গেছে নিয়মরক্ষার। তাই আমিনুলকে হয়তো বিশ্রামই দেওয়া হতে পারে। বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানালেন, ‘তিনটি সেলাই নিয়ে আমি অনেককেই খেলতে দেখেছি, তা ছাড়া চোট তো ও যে হাতে বোলিং করে ওটায় নয়। পরের ম্যাচ যেহেতু দুই দিন পর তাই বলা কঠিন। সব কিছু নির্ভর করছে ফিজিও ও টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর। ম্যাচের আগে তাঁরাই দেখে বুঝতে পারবেন যে পরের ম্যাচে ওকে খেলানো যাবে কি না।’

ক্যারিয়ারটা শুরুর ম্যাচেই চোট, সঙ্গে যোগ হচ্ছে পূর্বসূরি লেগ স্পিনারদের ভাগ্য। সব মিলিয়ে প্রশ্নটা তাই থেকেই যাচ্ছে—‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী’ মানে সঠিক ট্র্যাকেই টিকে থাকতে পারবেন তো?

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT