শনিবার ১৩ আগস্ট ২০২২, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের টি২০ পরীক্ষা হারারেতে আজ

প্রকাশিত : ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, ২৯ জুলাই ২০২২ শুক্রবার ১৯ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

প্রতিপক্ষ জিম্বাবুইয়ে থাকলে বাংলাদেশ দল থাকে অনেকটাই ভারমুক্ত এবং আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু এবার টি২০ সিরিজে জয়ের আত্মবিশ্বাস থাকলেও ভারমুক্ত থাকতে পারছে না বাংলাদেশ। কারণ অভিজ্ঞ ও সিনিয়র কোন ক্রিকেটার ছাড়া নতুন অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বে নতুন আঙ্গিকের একটি দল নিয়ে এবার টি২০ লড়াইয়ে নামতে হবে। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে ৩ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি২০ আজ। মাত্র ২ দিন অনুশীলন করেই বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় স্বাগতিক জিম্বাবুইয়ের মুখোমুখি হচ্ছেন সোহানরা অনেক চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে। সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে মাত্র ১ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, ১১টিতে হার। একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। এই ম্যাচগুলোয় ব্যক্তিগত পারফর্মেন্স বলতে বোলারদের কিছু দুর্দান্ত নৈপুণ্য। কিন্তু ব্যাটাররা নিয়মিতই হয়েছেন ব্যর্থ। তাই মূলত এই সিরিজে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ স্কোয়াডের জয়ের ধারায় ফেরার পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে নিজেদের ফিরে পাওয়ার পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।

ব্যাটিং ব্যর্থতা, টি২০ ক্রিকেটে পাওয়ার হিটিং ও আক্রমণাত্মক মেজাজের ঘাটতি বারবারই ডুবিয়েছে বাংলাদেশ দলকে। এই সমস্যাগুলোর কারণেই টি২০ ক্রিকেটে সাফল্য পেতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে কিছুদিন আগ অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি হাসান দাবি করেছেন, কাইরন পোলার্ড কিংবা আন্দ্রে রাসেলের মতো পাওয়ার হিটার হওয়া সম্ভব নয় বাংলাদেশের কারও, কিন্তু কৌশল খাটিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুসারে খেলতে পারলে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। তবে কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকাটা জরুরী। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে আজ প্রথম টি২০ ম্যাচ থেকেই সাকিব, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ ও তামিমবিহীন দলের সেই চ্যালেঞ্জ শুরু হয়ে যাচ্ছে। দলটি নিয়ে জিম্বাবুইয়ে যাওয়ার আগে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সোহান সংবাদ সম্মেলনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও মিডলঅর্ডারে আছে বড় ঘাটতি। টপঅর্ডার ৩ জনের জন্য দলে ৫ ব্যাটার থাকলেও ৫, ৬, ৭ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ের জন্য জেনুইন ব্যাটার আছেন মাত্র ২ জন- নুরুল হাসান সোহান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এই ৩ পজিশনের জন্য অধিনায়ক সোহানের পাশাপাশি বাকি দুই স্লটে প্রতিযোগিতা হবে মেহেদি হাসান মিরাজ, শেখ মেহেদি ও সৈকতের মধ্যে। মিরাজ-মেহেদি মূলত অফস্পিন অলরাউন্ডার হলেও ব্যাটিং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেকও অফস্পিন করে থাকেন। আর এই সিরিজে চার নম্বর পজিশনে আফিফ হোসেন ধ্রুব থাকছেন। সুযোগ আছে সোহানের কিছুটা ওপরের দিকে ব্যাটিংয়ে নামার।

মিডলঅর্ডারে খুব বেশি বিকল্প না থাকলেও টপঅর্ডারে বেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ থাকছে বাংলাদেশ দলের। কারণ ৩ ফরমেটে এই মুহূর্তে ধারাবাহিক পারফর্মার হিসেবে লিটন কুমার দাসের সঙ্গী হওয়ার লড়াইয়ে ওপেনিং ও ওয়ানডাউন পজিশনে আছেন ৪ জন- মুনিম শাহরিয়ার, এনামুল হক বিজয়, নাজমুল হোসেন শান্ত ও নবাগত পারভেজ হোসেন ইমন। ২০২০ সালের মার্চে বাঁহাতি তামিম ইকবাল সর্বশেষ টি২০ খেলেন জাতীয় দলের হয়ে। এরপর তার ঘাটতি পূরণে বেশ ভুগতে হয়েছে বাংলাদেশকে। তামিমের পরিবর্তে ৩২ ইনিংসে বাংলাদেশ দল ১০টি ভিন্ন ভিন্ন ওপেনিং জুটি খেলিয়েছে। সবচেয়ে বেশি লিটন-মোহাম্মদ নাইম শেখ জুটি ১৩ ইনিংস খেলে মাত্র একটি অর্ধশত রানের জুটিসহ ২৩৮ রান করতে পেরেছেন। দ্বিতীয় সর্বাধিক ৮ ইনিংস ওপেনিং করে সৌম্য সরকার-নাইম জুটি করেছেন ১৯৮ রান। এখন নাইম, সৌম্য ব্যর্থতার কারণে দলে নেই। তাই ব্যাটিং নিয়ে যে সমস্যার মধ্যে আছে বাংলাদেশ সেটা কাটিয়ে ওঠার অগ্নিপরীক্ষা এবার সুযোগ পাওয়া ব্যাটারদের। সেই সঙ্গে মিডলঅর্ডারে আফিফ-সোহানের ওপর অনেক বেশি নির্ভর করতে হবে টাইগারদের। বোলিং বিভাগেও পরীক্ষা পেসারদের। সর্বশেষ কয়েক টি২০ ম্যাচে এই ফরমেটে অন্যতম নির্ভরতা বাঁহাতি মুস্তাফিজুর রহমানের পারফর্মেন্স খুবই হতাশাজনক। সদ্য সমাপ্ত উইন্ডিজ সফরে তিনি এবং ডানহাতি তাসকিন আহমেদ ছিলেন একেবারেই ব্যর্থ। বেধড়ক পিটুনি হজম করার পাশাপাশি উইকেটও নিতে পারেননি তারা (মুস্তাফিজ ১টি পেয়েছেন)। পেস বোলিংয়ে বর্তমানে শরিফুল ইসলাম সফল হলেও রান দেয়ার ক্ষেত্রে তিনিও বাকি দুজনের চেয়ে বিন্দুমাত্র কম যান না।

হারারেতে গত বছরই ৩ ম্যাচের টি২০ খেলেছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ে। সেখানে মাহমুদুল্লাহর নেতৃত্বে খেলা দলটি স্বাগতিকদের কাছে ১ ম্যাচ হেরেছে। এবার টি২০ ফরমেটে অষ্টম অধিনায়ক হিসেবে সোহানের যাত্রুা শুরু হচ্ছে। সেই যাত্রায় সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে ১১ হারের তিক্ততা কাটিয়ে ওঠার কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এই সময়ে বাংলাদেশের স্পিনাররা দুর্দান্ত ছিলেন। তাদের ওপরই জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ভরসা করবেন সোহান। মিরাজ, নাসুম আহমেদ এবং শেখ মেহেদি ও মোসাদ্দেকের স্পিন দিয়েই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সাফল্য পাওয়ার পরিকল্পনা আঁটছে বাংলাদেশ। এই মাঠে সর্বাধিক ২০ উইকেট অবশ্য জিম্বাবুইয়ের পেসার লুক জংউইয়ের। এখানে ১১ টি২০ খেলে তিনি ২০ উইকেট নিয়েছেন। বাংলাদেশী ব্যাটারদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন তিনি। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে সফলতম পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি এবার নেই। সফল টেন্ডাই চাতারাও নেই। দুজনই ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন। নবাগত তানাকা চিভাঙ্গা ও ভিক্টর নিয়াউচিকে নিয়েই পেস আক্রমণ চালাতে হবে সম্প্রতিই বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া জিম্বাবুইয়েকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ৬টি সিরিজ খেলে না জেতা দলটি এবার সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়েই নামবে। সেজন্য তারা বেশ আত্মবিশ্বাসী ও অনুপ্রাণিত। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে হওয়া ১৪ ম্যাচে ৯-৫ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। কিন্তু সার্বিকভাবে ১৬ ম্যাচে ১১ বারই জিম্বাবুইয়ে হেরেছে। তাই নতুন দল নিয়েও সোহানদের লক্ষ্য এবারও সিরিজ জয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT