শুক্রবার ০৭ মে ২০২১, ২৪শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বস্ত্র খাতে করোনার থাবা ক্রেতাদের স্ববিরোধী অবস্থান কাম্য নয়

প্রকাশিত : ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, ২৪ জুন ২০২০ বুধবার ১১৪ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

করোনায় সব সেক্টরই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে তৈরি পোশাক শিল্পে করোনার আঘাতটা এসেছে অন্য যে কোনো খাতের চেয়ে মারাত্মক হয়ে। মূলত যাদের সঙ্গে আমাদের গার্মেন্ট সেক্টরের ব্যবসা-বাণিজ্য, সেই বিদেশি ক্রেতারা আগের অর্ডার বাতিল করছেন, শিপমেন্ট স্থগিত করতে বলছেন; এমনকি পণ্যের দামও কমাতে বলছেন। ক্ষেত্রেবিশেষে তারা বিল পরিশোধের জন্য ১৮০ দিন তথা ছয় মাসের স্থগিত সুবিধা চাচ্ছেন।

এটি সত্য, করোনা পরিস্থিতিতে সবাই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত; কিন্তু তাই বলে আগের অর্ডার বাতিল করা, পুরনো পাওনা অর্থ পরিশোধে টালবাহানা ইত্যাদি কোনো নীতিতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এখানেই শেষ নয়, নিজেদের অর্ডার বাতিল, বিল পরিশোধে বাড়তি সময় চাওয়ার পাশাপাশি তারা শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেয়ার জন্য গার্মেন্ট মালিকদের চাপ দিচ্ছেন। এমন স্ববিরোধী অবস্থানে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকরা অনেকটা হতবাক।

উদ্বেগের বিষয়, দীর্ঘমেয়াদি চাপে পড়া বস্ত্র খাতের ব্যাপারে সরকারও তেমন কিছু বলছে না। সরকার পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল গঠন করলেও এটি ঋণ হিসেবে পাচ্ছেন শিল্প মালিকরা, যা তাদের পরিশোধ করতে হবে। তার ওপর বেশিরভাগ কারখানা বন্ধ, যেগুলো চালু আছে সেগুলোয় সক্ষমতার ৩০-৪০ শতাংশ কাজ হচ্ছে। এ অবস্থায় ৬০ শতাংশ করে বেতন দেয়া মালিকদের পক্ষে কঠিন বৈকি! তার ওপর প্রণোদনায় পাওয়া অর্থ মার্চ-এপ্রিলের বেতন দিয়েই শেষ। এ অবস্থায় প্রধান রফতানি খাতকে রক্ষা ও বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের বিবেচনায় আরও দু-তিন মাসের জন্য গার্মেন্ট শিল্পের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা দরকার। কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে গার্মেন্ট শিল্প স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে পারে, তা সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা না গেলে আমাদের ব্যাপক শ্রমিক বেকারত্বের ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে।

বস্তুত, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর গার্মেন্ট শিল্পে চাপ আসা শুরু হয়। তখন কারখানার কর্মপরিবেশ ঠিক করাসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে চাপ দেন বিদেশি ক্রেতারা। উত্তর আমেরিকার ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স ও ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড কমপ্লায়েন্সের নামে কারখানাগুলোয় সংস্কারের বিষয়ে খবরদারি শুরু করে। তাদের পছন্দের কোম্পানি থেকে কেনাকাটা করে সংস্কারের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও পণ্য ব্যবহার করে সংস্কার করতে গিয়ে কয়েক কোটি টাকা ঋণ করতে হয় অনেক শিল্প মালিককে, যা তাদের অনেকে এখনও পরিশোধ করতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে করোনার ধাক্কায় ক্ষতবিক্ষত গার্মেন্ট মালিকদের পাওনা পরিশোধ না করে, অর্ডার বাতিল করে ও বিল পরিশোধে বাড়তি ছয় মাস সময় চেয়েও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধে চাপ দেয়া স্ববিরোধী তো বটেই, নৈতিকতাবিরোধীও বলতে হবে। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, গার্মেন্ট খাতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য ক্রেতা, মালিক ও সরকারকে যৌথভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় খারাপ পরিস্থিতির ফল সবাইকে আরও ক্ষতির সম্মুখীন করবে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, বিজিএমইএ কর্তৃক যুক্তরাজ্যভিত্তিক ক্রেতা ইডব্লিউএম গ্রুপকে বকেয়া পরিশোধ না করলে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেয়া হয়েছে গত মাসে। পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে বিক্রেতা কর্তৃক ক্রেতাকে কালো তালিকাভুক্ত করার ঘোষণা দেয়া হয়, ভাবা যায়! নিজেদের স্বার্থে বিদেশি ক্রেতা ও সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে গার্মেন্ট মালিকদের পাশে দাঁড়াবে বলে আমরা আশাবাদী।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT