শুক্রবার ১৪ মে ২০২১, ৩১শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

বরিস জনসনের অসু্স্থতায় যেভাবে চলছে ব্রিটেন

প্রকাশিত : ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ, ৮ এপ্রিল ২০২০ বুধবার ১৩১ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

LONDON, ENGLAND - MARCH 25: Prime Minister Boris Johnson leaves 10 Downing Street for PMQ's on March 25, 2020 in London, England. British parliament will be suspended tonight due to concerns about the spread of COVID-19. It had previously been scheduled to break for Easter on March 31; it will tentatively sit again on April 21. The Coronavirus (COVID-19) pandemic has spread to at least 182 countries, claiming over 18,000 lives and infecting hundreds of thousands more. (Photo by Peter Summers/Getty Images)

করোনা ভাইরাস মহামারি গত ৭৫ বছর তো বটেই, কারো কারো মতে গত এক শতাব্দীর সবচেয়ে নজিরবিহীন সংকটে ফেলেছে ব্রিটেনকে। কিন্তু এই ভয়াবহ সংকটের সময় দৃশ্যপটে নেই প্রধানমন্ত্রী। তিনি লন্ডনের এক হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে শয্যাশায়ী।

তাহলে দেশ চলবে কীভাবে? এই জরুরি সংকটে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কে নেবেন? কীভাবে নেবেন? সরকারের নেতৃত্ব কে দেবেন? এদিকে ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে সমবেদনার বার্তা পাঠিয়েছেন। দেশটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী মাইকেল গোভ আইসোলেশনে গেছেন।

স্তম্ভিত ব্রিটেনবাসী

প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঘরে স্বেচ্ছাবন্দি হয়েছিলেন গতকাল থেকে ১১ দিন আগে। এরপর তিনি সেখান থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু টুইট করেছেন, কয়েকটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ডাক্তার-নার্স-কর্মীদের ভূমিকাকে সম্মান জানাতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যখন দেশ জুড়ে সবাই যার যার ঘর থেকে হাততালি দিয়েছেন, তখন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের দোরগোড়ায় তাকেও দেখা গেছে। কিন্তু সেদিন প্রধানমন্ত্রীকে দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা মোটেই ভালো নয়। এরপর পরিস্থিতি বেশ নাটকীয় মোড় নেয় রবিবার। সেদিন হঠাত্ ঘোষণা করা হয়, প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য।

সোমবার সন্ধ্যায় বরিসকে হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে শ্বাসকষ্টের জন্য তাকে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। তাকে ভেন্টিলেটর দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে। ১০ দিন আগে জনসন পজিটিভ শনাক্ত হবার পর থেকে ডাউনিং স্ট্রিটে আইসোলেশনে ছিলেন। দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় ৮৫৪ জন মারা গেছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ডেই মারা গেছে ৭৫৮ জন। কার্ডিফ হাসপাতালে হার্টের সিনিয়র চিকিত্সক জিতেন্দ্র রাথোড করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

সরকার পরিচালনায় সংকট

সরকারের এক মন্ত্রী দাবি করেছেন, সরকার বেশ বলিষ্ঠ, দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গেই তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যাচ্ছে, দায়িত্বে যিনিই থাকুন না কেন। কিন্তু বিবিসির রাজনৈতিক সংবাদদাতা লরা কুন্সবার্গ বলছেন, ব্রিটেনের সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তো কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতীক নন, তিনি সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এরকম এক গুরুতর জাতীয় সংকটের কালে, যখন কি না জনগণের স্বাস্থ্য আর দেশের অর্থনীতি নিয়ে এত গুরুতর সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, তখন প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতি পুরো সরকার এবং প্রশাসনযন্ত্রের জন্য একটা সংকটময় মুহূর্ত। বরিস জনসনের অসুস্থতার কারণ সরকার যেন অতটা স্থিতিশীলভাবে কাজ করতে পারছে না।

বরিসের দায়িত্বে রাব

১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাব, যিনি ‘ফার্স্ট সেক্রেটারি অব স্টেট’, তিনিই এখন প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন। বরিসকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরপরই টেলিভিশনে রাব সাক্ষাত্কারে এমন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন যে প্রধানমন্ত্রীর অসুস্থতা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যাঘাত ঘটবে না। কিন্তু বরিস জনসন সরকারের কাজকর্ম চালাতে শারীরিকভাবে অক্ষম হলে কী করতে হবে সেই বিষয়ে ব্রিটেনের রাষ্ট্রাচারের নিয়মকানুন স্পষ্ট নয়। কারণ ব্রিটেনে লিখিত সংবিধান নেই। আর জাতীয় দুর্যোগে এভাবে প্রধানমন্ত্রীর গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তির নজিরও নেই। বিবিসির রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিটার বার্নস বলছেন, আগামী কয়েক দিন এক্ষেত্রে সরকার কীভাবে কাজ করবে তার কিছুটা আভাস পাওয়া যেতে পারে ‘ক্যাবিনেট ম্যানুয়াল’ দেখে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাজ এবং ভূমিকা এই ম্যানুয়ালে বর্ণনা করা আছে। একজন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার সবকিছু কী রাব করতে পারবেন? এ বিষয়ে পিটার বার্নস মনে করেন, রাব প্রধানমন্ত্রীর বেশির ভাগ কাজই করতে পারবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে মন্ত্রিপরিষদের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে। বিশেষ করে সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু ঘটলে কী হবে?

যদি প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু ঘটে বা যদি তিনি অনেক দীর্ঘ সময়ের জন্য শারীরিকভাবে দায়িত্ব পালনে একেবারে অক্ষম হয়ে পড়েন তখন রানি হয়তো ডোমিনিক রাবকে সরকার গঠন করতে বলতে পারেন। অন্তত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যতক্ষণ না মন্ত্রিপরিষদ সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অন্য কারো নাম প্রস্তাব করছে। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি একজন নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত ডোমিনিক রাবই দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আশঙ্কা, কনজারভেটিভ পার্টিতে নেতৃত্বের জন্য ঠান্ডা লড়াই শুরু হলে ব্রিটেনের বর্তমান সংকটকে আরো ঘনীভূত করবে।

সংহতি এবং স্পৃহা

বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে জানানো হয়েছে, রানিকে জনসনের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত রাখা হচ্ছে। রানি জনসনের পরিবারের কাছেও সমবেদনার বার্তা পাঠিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরিসকে একজন ভালো বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, জনসন খুবই শক্তমনা এবং সহজে হার মানেন না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT