মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বখাটে হেয়ার স্টাইল কি সামাজিক ব্যাধি

প্রকাশিত : ০৭:৫০ পূর্বাহ্ণ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার ৩৪৭ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

 

নরসুন্দরদের কাছে সবাই চুল কাটে নিজেকে পরিপাটি করার জন্য। সম্প্রতি উঠতি বয়সের কিশোরদের মাঝে চুল কাটার যে নতুন নতুন ডিজাইন বা ‘হেয়ার স্টাইল’ চলে এসেছে এটাকে সমাজে এক ধরনের ব্যাধি বলেই বিবেচনা করছেন অনেকেই। কেউ যদি উদ্ভট পোশাক পরে, উদ্ভট স্টাইলে চুল কাটে, যা দৃষ্টিকটূ ও অস্বাভাবিক, সেটি তার জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব অবশ্যই ফেলে।

নাগরিক সমাজের অনেকেই বলছেন, বহির্বিশ্বের অপসংস্কৃতি দেখে কিশোররা এগুলো শিখছে। অনেক সময় স্কুলের গণ্ডি পেরোনোর আগেই অনেক ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তারা। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে শুধু আইনের প্রয়োগ ও কঠোরতায় তেমন ফল আসবে না। বরং কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োজন সামাজিক, পারিবারিক শাসন ও সচেতনতা। বর্তমানে এ ‘হেয়ার কাট’ এমন পর্যায়ে এসে গেছে তা দমনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন বিদ্যালয় কমিটি নিজ থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আর এতেই বাধ সাজছে কিছু অভিভাবক ও স্থানীয় কিশোর-যুবকরা।

জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসের দিকে প্রথম ঘটনাটি ঘটে টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলায়। সেখানে বখাটে স্টাইল করে চুল, দাড়ি ও গোঁফ কাটার ওপর সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নগদ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন তৈরি করে নোটিস দেন ভূঞাপুর থানার ওসি। নোটিসে জানানো হয়, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরপর একে একে মাগুরা সদর থানা পুলিশ চুলের বখাটে কাট বন্ধে প্রচারে নামে।

এছাড়াও রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলা প্রশাসনও চুল-দাড়ির বখাটে কাট বন্ধে মাঠে নামে। জেলার পুঠিয়া উপজেলার সরিষাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি ছাত্রদের বখাটে চুল নিজ হাতে এলোমেলো করে কেটে দিয়ে অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে ক্ষমা চান। এ বিষয়গুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে নাগরিক সমাজের অনেকেই বিষয়টাকে সাধুবাদ জানিয়েছে। আবার অনেকেই বলছেন এই বখাটে ‘হেয়ার স্টাইলকে’ জোর করে বন্ধ না করে আস্তে আস্তে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ছাড়াতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম আমার সংবাদকে বলেন, কিশোরদের যে বয়স এখন তারা অনেক কিছুই করতে চাইবে। তারা নিজেকে সমাজের কাছে প্রকাশ করার জন্য হেয়ার স্টাইল, শার্টের স্টাইল আরও অনেক কিছুই করতে চাইবে। অনেকের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অথবা আকাশ সংস্কৃতি ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে এই স্টাইলগুলো করে তারা।

তিনি আরও বলেন, এই হেয়ার স্টাইল করা, বখাটেপনা হ্রাস করতে গেলে বাবা-মাকে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে রাষ্ট্র আইন করে কিছু করতে পারবে না, আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কিছু করতে পারবে না।

ড. নেহাল করিম আরও বলেন, অনেকেই বাবা-মার কারণে পরিবারে হতাশা তৈরি হলেও খারাপ পথে চলে যায়। কিশোরদের এ পথ থেকে ফিরে আসার বিষয়ে তিনি বলেন, সন্তান কখন ঘুম থেকে উঠছে। স্কুলে পড়াশোনা ঠিকঠাকভাবে করছে কিনা। তার বিভিন্ন বিষয়ে যত্ন সহকারে খোঁজখবর নিতে হবে। সন্তানের সঙ্গে জোর করা যাবে না, তাকে ভালোভাবে বুঝাতে হবে।

বেশ কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সন্তানরা বহির্বিশ্বের সংস্কৃতি ফলো করে বিপথে যাচ্ছে। তাদের এখন হাতের নাগালেই স্মার্ট ফোন, ইন্টারনেট সেবা পাওয়াটাকেও অনেকেই এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একজন অভিভাবক জানান, সন্তানের জেদের কাছে হেরে গিয়ে স্মার্ট ফোন কিনে দিতে হয়েছে। অথচ আমরা এরকম বয়সে ফোন নেয়ার সাহস পাইনি।

উদ্ভট হেয়ার স্টাইলের বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হবে কিনা— এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) সালমা জাহান আমার সংবাদকে বলেন, বখাটে চুল কাটার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশনা নেই। তিনি বলেন, এটা পারিবারিকভাবে কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব। সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের বেশি সচেতন হতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহিদুল হক আমার সংবাদকে বলেন, সরিষাবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি ছাত্রদের বখাটে হেয়ার কাটের কারণে কয়েকবার নিষেধ করার পরও যারা শোনেনি তাদের নিজ উদ্যোগে শালীনভাবে চুল কেটে দিয়েছিলেন। এটা নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছিলো, পরবর্তীতে বিষয়টা নিয়ে অনেকে ভুল বুঝতে পেরে মীমাংসা করেছেন।

শিক্ষা অফিসার আরও বলেন, আমরা হেয়ার স্টাইল, বখাটেপনা ইত্যাদি বিষয়ে পরবর্তীতে উপজেলার সকল স্কুলের প্রধানদের নিয়ে কথা বলেছি। এছাড়াও জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রতিমাসে ইভটিজিং, বখাটেপনা এ সব বিষয় নিয়ে মিটিং করে থাকেন। এ বিষয়টা নিয়ে আমরা অবগত আছি।

এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার ওসি বলেন, যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও অভিভাবকদের সঙ্গে আমরা সচেতনতামূলক সভা করেছি। উদ্ভট স্টাইলে চুলকাটা সমাজের কাছে দৃষ্টিকটূ। এটা জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ কারণে এটি প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। বর্তমানে এটা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।

প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চুল, দাড়ি ও গোঁফ কাটার ওপর সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নগদ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন তৈরি করে নোটিস দেয় ভূঞাপুর থানা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিসে জানানো হয়। নোটিসটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের পাশাপাশি মাগুরা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জেলায় বখাটে ‘হেয়ার স্টাইল’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT