সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পুলিশসহ সব পক্ষের দরকার সহিষ্ণুতা: এ কে এম শহীদুল হক

প্রকাশিত : ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ মঙ্গলবার ১৯ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকে আগ্রাসী বা বাড়াবাড়ি বলার সুযোগ নেই। এটা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা। এসব ক্ষেত্রে পুলিশসহ সংশ্নিষ্ট সব পক্ষের সহিষুষ্ণতা দরকার। পারস্পরিক সম্মানবোধ ও বোঝাপড়া দরকার। দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিবেদক ইন্দ্রজিৎ সরকার

##:সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে সহিংসতার

ঘটনায় পুলিশের ভূমিকাকে ‘আগ্রাসী’ বা ‘বাড়াবাড়ি’ মনে করছেন অনেকে। আপনার কী মত?

শহীদুল হক:পুলিশের বাড়াবাড়ি ছিল কিনা, তা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। তবে গণমাধ্যম ও ফেসবুকে নারায়ণগঞ্জে যেমনটা দেখেছি- তারা পুলিশকে ইটপাটকেল ছুড়েছে, পুলিশও লাঠিপেটা করেছে, টিয়ার শেল ছুড়েছে, শটগানের গুলি ছুড়েছে। এটা পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষেরই সহিষুষ্ণ থাকা উচিত। রাজনীতি যাঁরা করেন, তাঁরা যদি দেশের প্রচলিত আইনকানুন-বিধিবিধান না মানতে চান, গায়ের জোরে সব করতে চান, তাহলেই সমস্যা হয়। জেলা পর্যায়ে যাঁরা রাজনৈতিক নেতা থাকেন, তাঁরা কোনো কর্মসূচি দিলে আগে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। পুলিশও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। এই সম্পর্কটা যদি না থাকে, পুলিশকে যদি শুধু আপনি প্রতিপক্ষই মনে করেন, তাহলে তো সমস্যা। একটা বোঝাপড়া থাকা উচিত।

##:অনেকেই বলছেন, নারায়ণগঞ্জে গুলি ছোড়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। ভিন্ন কৌশলেও হয়তো মোকাবিলা করা যেত।

শহীদুল হক:যখন লাঠিপেটা, টিয়ার শেল ব্যর্থ হয়, তখনই শটগান ব্যবহার করার কথা। যদি সে পরিস্থিতিতে শটগান ব্যবহার না হয়ে থাকে, তাহলে ভিন্ন কথা। এখানে একটা নির্বাহী তদন্ত হবে, যা ম্যাজিস্ট্রেট করবেন। তিনি যদি দেখেন, গুলি ছোড়ার মতো পরিবেশ ছিল না, তাহলে তদন্ত প্রতিবেদনে সেটা লিখবেন। তখন জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

##:অতিউৎসাহী পুলিশ সদস্যরা এমন ঘটাচ্ছে কিনা? এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে কি?

শহীদুল হক:অতিউৎসাহী হওয়ার চেয়ে বড় কথা হলো, ইটপাটকেল ছুড়লে কনস্টেবল বা যাঁরা মাঠে থাকেন, তাঁরা আহত হন। তখনই তাঁদের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। তাঁদের টেম্পার লুজ হয়ে যায়। অতিউৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তা থাকার কথা নয়। তবে নির্বাহী তদন্তের পাশাপাশি পুলিশের বিভাগীয় তদন্তও হবে। তাদের প্রতিবেদনে সেটা স্পষ্ট হবে।

##:জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনা সরকারকে সমস্যায় ফেলবে কিনা?

শহীদুল হক:আমাদের দেশে সংস্কৃতিই তো এটা- রাজনৈতিক সহিংসতা। নির্বাচন এলে এটা বাড়ে। দলগুলো চায়, তাদের কৌশল ব্যবহার করে, পেশিশক্তি ব্যবহার করে জনগণকে দেখানো যে, তারা বেশি শক্তিশালী, তারা বেশি জনপ্রিয়। এই সংস্কৃতি থেকে আমরা বের হতে পারিনি। তাই নির্বাচন যত কাছে আসবে, এটা হবেই। আর আমাদের বিরোধী দল যেভাবে কথা বলে, তাতে তাদের নেতাকর্মীরা বেশি উজ্জীবিত হয়, বিপ্লবী হয়। যাঁরা শীর্ষ নেতা, সরকারি বা বিরোধী যে দলেরই হোন, তাঁদের কথার মধ্যে শালীনতা থাকা দরকার।

##:এ ধরনের সহিংস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ কোনো প্রশিক্ষণ আছে কি?

শহীদুল হক:বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার প্রশিক্ষণ পুলিশের অবশ্যই আছে। পুলিশ জানে, কখন কী করতে হবে। যখন দেখা যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না, তখন একটার পর একটা ধাপ বাড়িয়ে দেয় পুলিশ। আর পুলিশ একা কাজ করে না। গোয়েন্দা সংস্থারা বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন দেয়। তারা যদি প্রতিবেদন দেয়- পুলিশের ওপর হামলা হতে পারে, যানবাহন ভাঙচুর করতে পারে, তখন পুলিশ মিছিল-সমাবেশ করতে দিতে চায় না। যে রিপোর্ট দেবে সেটা মানতে হবে। নইলে গোয়েন্দা সংস্থা বলবে, আমরা তো আগেই পুলিশকে জানিয়েছিলাম, তারা গুরুত্ব দেয়নি। অনেক সময় দেখা যায়, পুলিশ অনুমতি দেয় না। কেন দেয় না? এখানে গোয়েন্দা রিপোর্টের ব্যাপার আছে। সেটা তো সাধারণ মানুষ বোঝে না। তারা মনে করে, সরকার বাধা দিচ্ছে।

##:এসব ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণম্ন হচ্ছে কিনা?

শহীদুল হক:কোনো একটি ঘটনা ঘটলে সবাই মিলে পুলিশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে। বাস্তবতা মূল্যায়ন না করে ঢালাওভাবে যে অপপ্রচার হয়, এর ফলে মানুষের মধ্যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি হয়। ভাবমূর্তির বিষয়টা তো সেখানেই আসে।
##:রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?

শহীদুল হক:গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যেমন সাধারণ নাগরিকরা চায়, রাজনৈতিক নেতারা চান, পুলিশও তেমনি এই মূল্যবোধ বাঁচিয়ে রাখতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলো দেশের সংবিধান, আইনকানুন, বিধিবিধান মেনে চলবে, পুলিশকেও সেসব মেনে চলতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে যেন কোনো বাড়াবাড়ি না হয়, কোনো উস্কানি দেওয়া না হয়, পুলিশ যেন ক্ষমতার অপব্যবহার না করে, সেদিকে সতর্ক থাকবে। নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলোকেও পুলিশকে সহায়তা করতে হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT