শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২, ১৭ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

‘পদ্মা সেতু দক্ষিণের ৬ কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে’

প্রকাশিত : ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, ২৩ জুন ২০২২ বৃহস্পতিবার ১০ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

উদ্বোধনের অপেক্ষায় নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বাংলাদেশের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সেতু চালুর পরপরই বদলে যাবে দেশের অর্থনীতি। পদ্মা সেতু হওয়ার ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হারে শিল্পায়ন হবে এবং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বিশেষ করে কৃষিতে আসবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সেই সঙ্গে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ব্যাপক হারে পরিবর্তন সাধিত হবে। উৎপাদিত কৃষি পণ্য দ্রুত পরিবহণের ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যাবে। এতে প্রতি বছর দারিদ্র্য নিরসন হবে ০ দশমিক ৮৪ ভাগ। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ছয় কোটি মানুষের।

বৃহস্পতিবার দুপরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষক কমপ্লেক্সে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম আয়োজিত ‘স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন ও কৃষিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রমিজ উদ্দিন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালু হলে ওই এলাকার কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে এবং অল্প সময়ে কৃষি পণ্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে পারবে। ফলে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে আসবে ব্যাপক হারে।

এছাড়া সেতু চালু হলে খুলনা ও বাগেরহাটের মাছ, যশোরের সবজি আর গদখালীর ফুল, বরিশালের ধান ও পানসহ পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি পণ্য ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর পাশাপাশি বিদেশেও রফতানি সম্ভব হবে। পদ্মা সেতু চালু হলে যশোর ও ফরিদপুরের খেজুরের গুড়ের রফতানি বৃদ্ধি পাবে। পটুয়াখালী থেকে প্রতি বছর প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন মাছ জেলার বাইরে রফতানি হয়। সেতু উদ্বোধনের ফলে মাগুরার লিচু চাষিরা আগামী বছর থেকে প্রতি মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার বাড়তি লিচু বিক্রি করতে সক্ষম হবেন। লিচুর পাশাপাশি মাগুরায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি, ১২ হাজার হেক্টরে পেঁয়াজ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়। এসব পণ্য দ্রুত ঢাকার বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. সুবাস চন্দ্র দাস বলেন, সেতু চালুর ফলে শরীয়তপুরে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত মাংস ও দুধ মাত্র ২ ঘণ্টায় ঢাকায় পৌঁছবে। এতদিন ফেরিঘাটের ভোগান্তির কারণে এসব মাংস ও দুধ ঢাকায় সঠিক সময়ে এনে বিক্রি সম্ভব হয়নি। পদ্মা সেতু চালু হলে পরিবহণে আর বাড়তি সময় লাগবে না।

এ সময় সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খান বলেন, চিংড়ি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি পণ্য। চিংড়ি উৎপাদনের ৯০ শতাংশের বেশি উৎপাদিত হয় খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে। সেতু চালু হলে চিংড়ি খামারের উৎপাদনশীলতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। আধুনিক চাষপদ্ধতি শুরু হলে উৎপাদন সাতগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব; যার আর্থিক মূল্য প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা হবে; যা দেশের বাজেটের এক চর্তুথাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে চিংড়ি উৎপাদিত হবে এবং বিদেশে চিংড়ি রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। রফতানি বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে বিশেষ করে রাজধানী শহর থেকে শুরু করে অন্যান্য বিভাগীয় শহরে চিংড়ির সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। কৃষক ও উৎপাদকরা তাদের উৎপাদনের ন্যায্যমূল্য পাবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীনসহ বাকৃবির গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের প্রায় ৩০ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT