বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নোভা কাখোভকা বাঁধ ধ্বংসে লাভ হলো কার?

প্রকাশিত : ০৬:২৯ অপরাহ্ণ, ৮ জুন ২০২৩ বৃহস্পতিবার ৫৯ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

কে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের নোভা কাখোভকা বাঁধে-ইউক্রেন নাকি রাশিয়া। মঙ্গলবার থেকেই এই তর্কে ঘুম হারাম মস্কো-কিয়েভের।

ইউক্রেন বলছে, রাশিয়া তাদের দখলে থাকা বাঁধটি বিস্ফোরণের সাহায্যে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের অনেক মিত্রও একই কথা বলছে, যদিও সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তারা বলছে, কে যে বাঁধটি উড়িয়ে দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনই পশ্চিমাদের সরবরাহ করা কামানের গোলা দিয়ে বাঁধটি ধ্বংস করেছে। পালটাপালটি এই দোষারোপের মধ্যে বাঁধ ধংসের ঘটনায় কার লাভ, তা খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছে বিবিসি।

কাখোভকা বাঁধের আগে কৃষ্ণসাগরের নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইনে বিস্ফোরণের ঘটনাতেও প্রায় একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। কারা পাইপলাইনটি ধ্বংস করেছে, তা এখনো অজানা।

কিন্তু ঘটনা সম্বন্ধে জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে পশ্চিমারা রাশিয়াকেই দোষারোপ করা শুরু করেছিল। এখন সেরকমটা দেখা যাচ্ছে না। পশ্চিমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাই পাইপলাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউক্রেনের হাত আছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন কাণ্ডের মতো কাখোভকা বাঁধের ঘটনার পরও কিয়েভ ও পশ্চিমাদের দোষারোপের বিপরীতে মস্কোর প্রতিক্রিয়া ছিল প্রায় একই রকমের, ‘আমরা করিনি। কেন আমরা করব, যেখানে এ ঘটনায় আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি?’

নোভা কাখোভকা বাঁধের ক্ষেত্রেও রাশিয়া তাদের এরকম দুটি স্বার্থকে দেখাচ্ছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ ধ্বংস হওয়ার কারণে ধেয়ে আসা পানি বেসামরিকদের পাশাপাশি রুশ সেনাদেরও খেরসন ও বিস্তৃত নিপ্রো নদীর তীর থেকে সরতে হচ্ছে। এটা অবশ্য খেরসনের বাসিন্দাদের সাময়িক স্বস্তিও দেবে, দৈনন্দিন যাদের রাশিয়ার কামান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

দ্বিতীয়ত, এই বাঁধ ধ্বংসের ফলে রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়ায় পানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের কাছে থাকা একটি খাল থেকে ওই শুষ্ক উপদ্বীপে পানি সরবরাহ করা হয়। ২০১৪ সালে দখল করার পর থেকে রাশিয়া ক্রিমিয়াকে একটি দুর্গে পরিণত করেছে, ফলে সেখানে পানি সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য তাদের থাকার কথা নয়।

কাখোভকা বাঁধ কি?

কাখোভকা বাঁধ যা দক্ষিণ ইউক্রেনের ডিনিপার নদীর উপরে অবস্থিত। ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে এটি নির্মাণ করা হয়। এটি একটি প্রধান জলবাহী প্রকৌশল প্রকল্প যা ৩০ মিটার লম্বা ও ৩.২ কিলোমিটার চওড়া।

নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁধটি জল ব্যবস্থাপনা ও শক্তি উৎপাদনেও বিশেষ ভ‚মিকা পালন করে থাকে।

বাঁধে আসলে কি ঘটেছে?

ঠিক কি কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে তার আসল তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। রাশিয়া, ইউক্রেন একে অপরকে দোষারোপ করছে। ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষিণ কমান্ড বলেছে, ‘প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে ইউক্রেনের পালটা আক্রমণকে বাধা দিতেই রাশিয়ান বাহিনী এ হামলা চালিয়েছে।’

অপরদিকে রাশিয়ান স্থাপিত খেরসন বলেছে যে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী জলবিদ্যুৎ বাঁধে আঘাত করেছিল। যার ফলে এর উপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাশিয়ান কর্মকর্তা ভ্লাদিমির রোগভ বলেছেন, পানির চাপের কারণে বাঁধটি ভেঙে পড়েছে।

মানুষের ওপর কি প্রভাব পড়েছে?

বাঁধটি ধ্বংসের ফলে পানির স্তর বেড়ে গেছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাঁধের আশপাশের মানুষকে সরিয়ে নেওয়া শুরু হয়ে গেছে।

একটি ইউক্রেনীয় বেসরকারি সংস্থা দ্য ওয়ার্ল্ড ডেটা সেন্টার ফর জিওইনফরমেটিক্স অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভলপমেন্ট অনুমান করেছে যে প্রায় ১০০টি গ্রাম ও শহর প্লাবিত হবে। যা ইউক্রেনীয়দের জন্য চরম দুর্ভোগের বিষয়। ইতোমধ্যে খেরসনের নিকটবর্তী গ্রামগুলোর বিশাল অংশ ডুবে গেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



এই বিভাগের জনপ্রিয়

ইরানি বংশোদ্ভূত দুই ব্রিটিশ নাগরিককে দীর্ঘদিন বন্দি রাখার পর মুক্তি দিয়েছে তেহরান। ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে যুক্তরাজ্য ৪০ কোটি পাউন্ড ইরানের কাছে হস্তান্তরের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।     বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির পর নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরি যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন।  নাজানিন জাঘারি প্রায় ছয় বছর ধরে ইরানে বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।  নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরিকে বহনকারী প্লেন অক্সফোর্ডশায়ারের ব্রিজ নর্টন ব্রিটিশ সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। এর আগে তারা ওমানে সাময়িক সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি নেন।  তারা একসঙ্গেই প্লেন থেকে নেমে আসেন এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের পর পর উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে হাত নাড়েন। এদিকে মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা মোরাদ তাহবেজ নামে আরও একজনকেও কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।  বুধবার তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ত্রাস এবং প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।   এ বিষয় ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর আগে ইরানের কাছে ইসলামি বিপ্লবের আগে অর্থাৎ প্রায় ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে ব্রিটিশ সরকার তেহরানকে ৪০ কোটি পাউন্ড (৫২০ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করেছে।  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, এটি নিশ্চিত করতে পেরে আমি খুব খুশি, নাজানিন জাঘারি এবং আনোশেহ আশোরিকে অন্যায়ভাবে বন্দি রাখার দিন শেষ হয়েছে। তারা মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরেছে।

ইরানি বংশোদ্ভূত দুই ব্রিটিশ নাগরিককে দীর্ঘদিন বন্দি রাখার পর মুক্তি দিয়েছে তেহরান। ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে যুক্তরাজ্য ৪০ কোটি পাউন্ড ইরানের কাছে হস্তান্তরের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির পর নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরি যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। নাজানিন জাঘারি প্রায় ছয় বছর ধরে ইরানে বন্দিজীবন কাটিয়েছেন। সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। নাজানিন জাঘারি ও আনোশেহ আশোরিকে বহনকারী প্লেন অক্সফোর্ডশায়ারের ব্রিজ নর্টন ব্রিটিশ সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। এর আগে তারা ওমানে সাময়িক সময়ের জন্য যাত্রা বিরতি নেন। তারা একসঙ্গেই প্লেন থেকে নেমে আসেন এবং বিমানবন্দরে প্রবেশের পর পর উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে হাত নাড়েন। এদিকে মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা মোরাদ তাহবেজ নামে আরও একজনকেও কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বুধবার তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ত্রাস এবং প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ বিষয় ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর আগে ইরানের কাছে ইসলামি বিপ্লবের আগে অর্থাৎ প্রায় ৪৩ বছর আগের দেনা হিসেবে ব্রিটিশ সরকার তেহরানকে ৪০ কোটি পাউন্ড (৫২০ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, এটি নিশ্চিত করতে পেরে আমি খুব খুশি, নাজানিন জাঘারি এবং আনোশেহ আশোরিকে অন্যায়ভাবে বন্দি রাখার দিন শেষ হয়েছে। তারা মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরেছে।

© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT