সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আমরা করতে পারি না ॥ সিইসি

প্রকাশিত : ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ, ২০ জুলাই ২০২২ বুধবার ৯১ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বিতীয় দফা সংলাপের তৃতীয় দিনে আমন্ত্রিত ৪টি দলের মধ্যে ৩টি দল গেলেও যায়নি ১টি। মঙ্গলবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিশ ও সাম্যবাদী দলের সঙ্গে পৃথকভাবে সংলাপ করে ইসি। তবে কল্যাণ পার্টি যায়নি। সংলাপকালে কোন কোন রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবি করেন। এ সময় সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আমরা করতে পারি না, এটা রাজনৈতিক দলের বিষয়। এ ছাড়া তিনি প্রথম দিনের সংলাপে তলোয়ার-রাইফেল নিয়ে দেয়া বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান। সংলাপে অংশ নিয়ে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া যুদ্ধাপরাধীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব করেন। এদিকে আজ বুধবার ইসি বিএনপিকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানালেও দলটি যাবে না বলে জানিয়েছে।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে চায়। ইসিতে আমরা সকলেই সৎ ও কর্মনিষ্ঠ। আমরা স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রাজনৈতিক দলগুলোকে দৃঢ় মনোবল ও শক্তি নিয়ে মাঠে আসার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে বলব- আপনারা আন্তঃদলীয় সংলাপ করেন।

কিছু প্রশ্নে মোটাদাগে ঐকমত্য সৃষ্টির চেষ্টা করেন। কারণ, নির্বাচনকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে সহিংসতা হয়, এটা কিন্তু বড় ধরনের সমস্যা। অর্থ ও পেশিশক্তি চক্রের বিষয়ে সমাধান করা সমবেত প্রচেষ্টা না থাকলে নির্বাচন কমিশনের একার পক্ষে এটা সমাধান করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।

সংলাপে অংশ নিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের এক নেতা সিইসিকে বিতর্কিত বক্তব্য না দেয়ার পরামর্শ দেন। এর জবাবে সিইসি জানান, তলোয়ার-রাইফেল নিয়ে দেয়া বক্তব্যের জন্য তিনি অনুতপ্ত। তবে তিনি দাবি করেন, কৌতুক করে সেই বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু গণমাধ্যমে বিষয়টি বিকৃত করে প্রকাশ হয়েছে। রবিবার আমি বলেছিলাম, কেউ তলোয়ার নিয়ে এলে আপনারা রাইফেল নিয়ে দাঁড়াবেন। এটা আপনাদের বুঝতে হবে, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই কথাটি কখনও মিন করে বলতে পারেন না। আমি হয়তো অল্প শিক্ষিত।

অল্প শিক্ষিত হলেও কেউ এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। ববি হাজ্জাজ সাহেবের কথার পিঠে আমি হেসে হেসে এ বলেছি- তলোয়ার দেখালে আপনি একটি বন্দুক নিয়ে দাঁড়াবেন। এটা হচ্ছে কথার পিঠে কথা। ‘হিউমার বা কৌতুক’ করে বলা একটি কথাকে মিডিয়ায় সিরিয়াসভাবে প্রচার করা হয়েছে।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন গণমাধ্যমকে তথ্য সরবরাহে উদারনৈতিক অবস্থানে। আমরা যতগুলো সম্মেলন বা আলোচনা করেছি কোনও রাখ-ঢাক করিনি। বড় স্ক্রিনে আমাদের কথা ও ছবি প্রচার করা হয়। কিন্তু কেন মিডিয়া এটা করল? এটা কি বুঝে, নাকি না বুঝেই করেছে? ওনাদের প্রতি আমার খুবই শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু এটা প্রচার করে আমার মর্যাদাকে একেবাবেই ক্ষুণœ করে দেয়া হয়েছে এবং আপনারাও এটা বিশ্বাস করছেন।

এটা বিশ্বাস করার মতোই কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার বাবা বেঁচে থাকলে উনি বিশ্বাস করতেন যে, আমার ছেলে এমন বাজে পরামর্শ দিল কেন? আমার মা বেঁচে থাকলেও বিশ্বাস করতেন। তারা দুজনই পেপার পড়ে হয়তো বলতেন- বাবু এত খারাপ পরামর্শ দিলে কেন? আমি এজন্য এটাই বলব- কখনও কখনও আমরা ভুল করে ফেলি। এর জন্য অনুতপ্ত। আমি এটা মিন করে বলিনি। যাক এজন্য আমাকে ক্ষমা করবেন।

সংলাপে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকালীন সীমিত সরকারসহ বিভিন্ন প্রস্তাব পেশ করে। এ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, এসব প্রস্তাবের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করছি না, দ্বিমতও করছি না। এগুলো রাজনৈতিক বিষয়। এই দাবিগুলো আপনারা করবেন। এই বক্তব্য আপনারা সরকারের কাছেও উপস্থাপন করুন। আমাদের দায়িত্ব নির্বাচন অনুষ্ঠান করা।

সিইসি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হন এবং গঠিত হয় কেবিনেট বা সরকার। তাই এই নির্বাচন নিয়ে অনেক সময় তর্ক-বিতর্ক হয় যে ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারবেন কি পারবেন না। আমরা এই বিষয়টাই আলোচনা করছি।

রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ করে সিইসি বলেন, নির্বাচনকালে আপনারা মাঠে থাকবেন। মাঠটা নিয়ন্ত্রণ করবেন আপনারা, বিশেষ করে যারা যারা প্রার্থী থাকবেন। আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন আমি একান্তভাবে কামনা করছি। কিন্তু আমার একটি বক্তব্য নিয়ে নির্বাচনে পেশিশক্তিসহ ও অস্ত্রশক্তি প্রসঙ্গে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সিইসি বলেন, আমরা মনে করি, সত্যিকার অর্থেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন। যেখানে সবাই নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারবে।

সংলাপে অংশ নিয়ে ইসির কাছে দেয়া লিখিত বক্তব্যে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া যুদ্ধাপরাধীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া ও সংবিধান অনুসারে নির্বাচন করাসহ ৯ দফা প্রস্তাব পেশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জনগণের নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে ব্যত্যয় ঘটেছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যাতে তাদের মূল্যবান ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরে নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংলাপ অংশ নিয়ে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সক্ষম। অনেকে এই ইসির সমালোচনা করছেন। বলছেন ইসির মেরুদ- সোজা নয়। তবে আমরা মনে করি এই ইসির মেরুদ- সোজাও শক্তিশালী আছে। এ সময় দলের পক্ষ থেকে ১১টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

সংলাপ আয়োজন করায় সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে খেলাফত মজলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সব নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। যেহেতু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের সব আচরণবিধি মানতে বাধ্য, সেহেতু কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নাতীত হওয়া অপরিহার্য। এ সময় তিনি দলের পক্ষ থেকে ১৫টি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সঙ্গে সংলাপের পূর্ব নির্ধারিত সময় থাকলেও দলটি যায়নি। তবে এ প্রসঙ্গে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আমরা ইসির ডাকা সংলাপে যাইনি। ইসির সংলাপের অনুরোধ অফিসিয়ালি প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা ধন্যবাদ সহকারে আমাদের অপারগতা প্রকাশ করছি। কারণ, কল্যাণ পার্টি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটভুক্ত একটি বিরোধী রাজনৈতিক দল।

আজ বুধবার ইসি সংলাপ করার জন্য আগেই আমন্ত্রণ জানিয়েছে গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও বিএনপিকে। তবে বিএনপি ইসির সংলাপে যাবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT