রবিবার ১৯ মে ২০২৪, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিত্যপণ্যের দাম প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি ধরাধরি করলে দাম কমে কেন?

প্রকাশিত : ০৫:৩৮ অপরাহ্ণ, ৩ জুন ২০২২ শুক্রবার ৮৭ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

ভরা মৌসুমে চালসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন।

একইসঙ্গে মজুতবিরোধী চলমান অভিযানকে সমর্থন জানিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চান, পণ্যের দাম কেন বাড়ছে? আবার সরকার ধরাধরি (মোবাইল কোর্ট) করলেই পণ্যের দাম কেন কমছে? দু-একজন অসৎ ব্যবসায়ীর কারণে সব ব্যবসায়ীকে বদনামের ভাগীদার হতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে আয়োজিত ‘নিত্যপণ্যের আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি’ নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় চাল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই পাইকারি চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকরা ধরপাকড় ও হয়রানির অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আপনারা ধানের ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়িয়ে দেবেন আর সরকার ধরপাকড় করবে না, এটা কি হয়। এখন ধান উঠছে, দাম কমছে, এ অবস্থায় চালের দাম কমার কথা। হাওড়ে বন্যায় ধান নষ্টের প্রভাব বাজারে পড়েছে-চালকল মালিকদের এমন বক্তব্যে জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা সবাই কৃষকের সন্তান। কেউ আকাশ থেকে নামিনি। আসলে চালের সংকট নেই, সবার কাছে চাল আছে। যে ধান নষ্ট হয়েছে, তাতে এখনই কেন দাম বাড়বে, এটা তো আরও ৭ মাস পরে বাড়বে। সুযোগ পেলেই দাম বাড়িয়ে দেবেন, এটা সরকার বা আমরা কেউ সহ্য করব না। চাল ব্যবসা করে গুলশানে বাড়ি করছেন, বিভিন্ন স্থানে আরও ৮-১০টি করে বাড়ি আছে, আর সব সময় বলছেন লোকসান। তাহলে সম্পদ কীভাবে করেন।

তিনি আরও বলেন, এখন মোবাইল কোর্ট চালানোর সঙ্গে সঙ্গেই কেজিতে ৫ টাকা কমে গেল কীভাবে। সরকারকে কেন ধরাধরি করতে হবে? ধরাধরির যে সিস্টেম চালু হয়েছে এটা ঠিক নয়। যদি সমস্যাই থাকত তাহলে অভিযানের পর দাম কমত না।

দিনাজপুর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোসাদ্দেক হোসেন চালের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসাবে জানান, কৃষক পর্যায়ে ধানের দাম বেশি। বন্যায় বোরো ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আগের থেকে দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে ধান। এছাড়া চাল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাংক যুক্ত হওয়ায় পুঁজি বেড়েছে, ধান কেনার প্রতিযোগিতাও বাড়ছে যা চালের দাম বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ অটো মেজর হাস্কিং মিল ওনার্স অ্যসোসিয়েশনরে সহ-সভাপতি শহিদুর রহমান পাটোয়ারী (মোহন) অভিযোগ করেন, স্টক বিজনেস যারা করেন তাদের কাছে অনেক সময় মিলারদের থেকে বেশি ধান মজুত থাকে যা চালের মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, চালের ন্যায্যমূল্য শব্দটা এর কাঁচামাল ধানে প্রয়োগ করা উচিত।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘চালের দাম মিল মালিকরা বাড়িয়েছেন। কারণ তারা মনে করেছেন হাওড়ে বন্যা হওয়ায় ধান নষ্ট হয়েছে, তাই ঘাটতি হবে। পেঁয়াজের দামবৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, পেঁয়াজ আমদানি ভারত থেকে বন্ধ করার পরের দিনই ১৫ টাকা কেজিতে দাম বেড়ে গেল। অথচ আমদানির পেঁয়াজের দাম বাড়বে আরও পরে। কিন্তু দাম বাড়িয়ে দিলেন আমাদের ব্যবসায়ীরা। এটা কেন করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের আরও আন্তরিক ও মানবিক হতে হবে। সুযোগ পেলেই দাম বাড়িয়ে দেব, এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দেশে হাতে বানানো বেকারি পণ্যের ভ্যাট নেই তাহলে কেন তার দাম বাড়বে। একটা পাউরুটির দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা হয়ে যাবে কেন, ৫০ শতাংশ দাম কেন বাড়ল সে বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলব।

জসিম আরও বলেন, ব্যবসা করতে হবে মগজ দিয়ে, অনৈতিকতা দিয়ে নয়। প্যাকেটজাত চালে ১০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি কী করে সম্ভব? প্যাকেটজাত চালের দামেও আলাদা নিয়ম থাকা দরকার। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি চালের দাম বাংলাদেশে। এখন তো দাম কমার কথা।

ডলারের বাজার অস্থির-এমন মন্তব্য করে জসিম উদ্দিন বলেন, চালের বাজারের মতো ডলারের বাজার সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। হঠাৎ করেই দেখা যাচ্ছে এক ডলারের ১০ টাকা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অতি মুনাফার জন্য এ কাজ করছে ব্যাংকগুলো। মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন-এফবিসিসিআইর সহসভাপতি আমিন হেলালী, সালাহউদ্দিন আলমগীর, হাবীব উল্ল্যাহ ডন প্রমুখ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT