শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

স্মার্টকার্ড

নতুন প্রকল্প, সরকারের কাছে টাকা চায় ইসি

প্রকাশিত : ০৭:৩২ অপরাহ্ণ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার ৫০৯ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

 

ফ্রান্সের কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী স্মার্ট কার্ড না নিতে পারায় বিপদে পরে নির্বাচন কমিশন। ফলে ৯ কোটি ভোটারকে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩০ শতাংশ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ সরকারের টাকা দিয়ে পুনরায় নতুন স্মার্ট কার্ড প্রকল্প চায় ইসি।

সূত্র জানায়, প্রথমে বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে সহায়তা করেছিল কিন্তু প্রকল্পের মাঝখানে ফান্সের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়। প্রকল্পের মেয়াদের মধ্যে স্মর্টকার্ড জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে না পারায় সরকারের কাছ থেকে নতুন প্রকল্পের মধ্যেমে ৪১৫ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ টাকা চায় ইসি। যাতে করে দ্রুত জনগণের হাতে স্মার্টকার্ড পৌঁছে দিতে পারে ইসি।

পরিকল্পা কমিশন সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরেই স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড প্রকল্পে ৪১৫ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ টাকা টাকা চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিস বা আইডিইএ প্রকল্পটির জন্য এ অর্থ চাওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে প্রতিজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ২ লাখ ২০ হাজার টাকা সম্মানী পাবে।

এদিকে ইসি কর্মকর্তারা, প্রথম প্র্রকল্প ২০১৬ সালে শেষ করার কথা থাকলেও তা কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়। বাড়তি মেয়াদে এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন না করার ঘোষণায় সরকারি টাকায় চলমান রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, তিন বছরে যখন বিতরণের অগ্রগতি ৩০ শতাংশ, সেখানে দেড় বছরে বাকি ৭০ শতাংশ কার্ড প্রদান করতে হবে।

ইসির পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, তৃতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত উন্নীত করা হয়। ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়া মেয়াদ ৯ মাস বাড়ানো হয়। ওই সময়ের মধ্যে সাড়ে ৩ কোটি স্মার্ট পরিচয়পত্র বিতরণ করতে হবে। প্রকল্পের অসমাপ্ত জরুরি কিছু কাজ সম্পাদনের জন্য বর্ধিত সময়ের জন্য গত অর্থবছরের অব্যয়িত ৪১৫ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা এ আইডিইএ প্রকল্পের অনুকূলে চলতি বছর বরাদ্দ প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক ও ডিজি এনআইডি উইং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ইসিকে দেয়া এক চিঠিতে বলছেন, ওই ৯ মাসে কর্মচারীদের প্রতিদান ৫১ কোটি ৫ লাখ ৬ হাজার টাকা, পণ্য ও সেবা ব্যয় ২৮১ কোটি ৫৪ হাজার টাকা, ৩৩ কোটি ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা বেতন-ভাতাদি, ফার্মের এক হাজার ৩১৬ জন কর্মচারী বা ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের সম্মানী ২৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, পরামর্শক খাতে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, স্মার্ট এনআইডি কার্ড উৎপাদন ও বিতরণে ব্যয় ৫৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা, ওবের্থার টেকনোলজিস কোম্পানির বকেয়া পাওনা ২২০ কোটি ২২ লাখ টাকা, আমদানিকৃত পণ্য খালাসে কাস্টমস ডিউটি ও শুল্ক ৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ডাটা রিকভারি সিস্টেম-সংক্রান্ত ব্যয় ৩৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

ইসি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনহ্যান্স একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পের আওতায় ২০১১ সালের জুলাই মাসে ৯ কোটি ভোটারকে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের জুলাইতে।

প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৭ কোটি মার্কিন ডলার। পাঁচ বছরব্যাপী প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালের জুনে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র স্মার্টকার্ড প্রদান ও বিতরণ প্রকল্পের মেয়াদ ১৮ মাস বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এতেও কাজ শেষ হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য একাধিকবার বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু গত ৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাংক চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে, আইডিইএ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হবে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT