মঙ্গলবার ১৫ জুন ২০২১, ১লা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নওয়াপাড়া বন্দরে নাব্য সংকট মালামাল ওঠা-নামায় সমস্যা

প্রকাশিত : ০৪:০৪ পূর্বাহ্ণ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার ৬৬৪ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

নওয়াপাড়া নৌবন্দরে জাহাজ তীরে ভিড়তে সমস্যা হচ্ছে

নাব্য সংকটের কারণে যশোরের নওয়াপাড়া নৌবন্দরে জাহাজ তীরে ভিড়তে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বাধার সৃষ্টি হচ্ছে মোংলা বন্দর থেকে বড়ো জাহাজ আসার ক্ষেত্রেও। ফলে মালামাল ওঠানো নামানোয় সমস্যা হচ্ছে। তবে বর্তমানে বন্দরের ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। এটা শেষ হলে জাহাজ চলাচল আরো বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি ব্যাবসায়িক সুবিধা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সড়ক, রেল ও নদীপথে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে নওয়াপাড়ায় ব্যাপক প্রসার ঘটে সার, খাদ্যশস্য ও সিমেন্ট ব্যবসার। নওয়াপাড়া পরিণত হয় দেশের অন্যতম বড়ো বিপণন কেন্দ্রে। আমদানি করা সার ও খাদ্যশস্য চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে বড়ো জাহাজ থেকে খালাসের পর তা ছোটো বার্জ ও কার্গোতে নদীপথে নওয়াপাড়া বন্দরে আনা হয়। ভৈরব নদে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক বার্জ ও কার্গো থেকে পণ্য ওঠানো নামানো হয়। ২০০৪ সালের এপ্রিলে ঘোষণা দেওয়া হয় অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ায় নদীবন্দর স্থাপনের। ২০০৭ সালের মে মাসে শুরু হয় এর কার্যক্রম। ভৈরব নদের চেঙ্গুটিয়া থেকে ভাটপাড়া ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা নির্ধারণ করা হয় নদীবন্দরটির।

তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বর্তমানে নাব্য সংকটের কারণে ভাটার সময় পানি এত নিচে নেমে যায় যে জাহাজ কিনারায় ভেড়ানো সম্ভব হয় না। তাই এ নদের ড্রেজিং করে নাব্য ফেরানোর দাবি তাদের।

নওয়াপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ব্যবসায়ী এনামুল হক বাবুল বলেন, নওয়াপাড়া নদীবন্দরের কারণে এ এলাকার ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। তবে দিন দিন সেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। নদী মরে যাচ্ছে। আমাদের এ নদীকে বাঁচাতে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস চেয়ারম্যান শাহজালাল হোসেন বলেন, বন্দর স্থাপনের পর যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার কোনোটাই বাস্তবায়ন হয়নি। আর নাব্য সংকট হওয়ায় বন্দরে জাহাজ আসার পরিমাণও কমেছে। ফলে নদীর নাব্য ফেরানোর কোনো বিকল্প নেই।

নওয়াপাড়া বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টন পর্যন্ত জাহাজ নওয়াপাড়া বন্দরে ভিড়তে পারত। নাব্য সৃষ্টির কারণে এখন ৭০০ থেকে ৮০০ টনের বেশি জাহাজ ভিড়তে পারে না। ফলে নদীর মাঝে জাহাজ থেকে মালামাল ওঠাতে নামাতে শ্রমিক খরচ বেশি হয়।

মেঘনা-৬ এমভি জাহাজের ক্যাপ্টেন নূর উদ্দিন বলেন, ভাটার সময় পানি এত নিচে নেমে যায় যে জাহাজ কিনারায় ভেড়ানো সম্ভব হয় না। ফলে জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ ছাড়া নাব্য সংকটের কারণে জাহাজ বন্দরে রাখতেও সমস্যা হয়। অন্যদিকে মোংলা বন্দর থেকে বড়ো জাহাজ আসতেও বাধার সৃষ্টি হয়।

নওয়াপাড়া নৌবন্দরের সহকারী নৌ ও পরিবহন কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ বলেন, নদীবন্দর স্থাপনের শুরু থেকেই ব্যবসায়ীদের একমাত্র দাবি ছিল ড্রেজিং করে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনা। সেই লক্ষ্যে বর্তমানে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্দরের ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। তিনি বলেন, নদীবন্দর এলাকার ৩৭ কিলোমিটার ড্রেজিং খনন সম্পন্ন হলে জাহাজ আরো বেশি যাতায়াত করতে পারবে। ব্যবসায়ীরাও পাবেন সুযোগ-সুবিধা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT