সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

তুমব্রুতে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদ সমাবেশ, জাতিসংঘে চিঠি

প্রকাশিত : ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ বুধবার ৮ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে রাজি নয়। দেশটির একটি বাহিনীর কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ আমাদের শক্র নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ হিসেবে মিয়ানমারের বন্ধু। উভয় দেশের মধ্যে কোন ধরনের ভুল বোঝাবুঝি হলে আমরা পতাকা বৈঠকে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করব। ইতিপূর্বেও একাধিক সীমান্ত সমস্যা বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) কর্মকর্তা পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। তবে বর্তমানে মিয়ানমারের পরিস্থিতি ভাল নয়। যার কারণে বিজিবি-বিজিপি কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠকে মিলিত হওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। দুদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে মেসেজ আদান-প্রদানে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) এক কর্মকর্তা এসব আলোচনা করেছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
ওপারের একাধিক সূত্র জানায়, গত আগস্ট মাসের শুরুতে আরাকান আর্মি রাখাইনে শক্তি সঞ্চার করেছে মর্মে খবর পায় মিয়ানমার সরকার। এর পর থেকে সেনা ও পুলিশ যৌথ বাহিনী বিদ্রোহী গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সদস্যরা এক প্রান্ত থেকে গুলি ছুড়লে অপর প্রান্ত থেকে গুলির জবাবে পাল্টা গুলি ছোড়া হচ্ছে। এ অবস্থার কারণে মিয়ানমার বাহিনী ধারণা করছে, নিশ্চয় আরাকান আর্মি (এএ) সহ বিদ্রোহী গ্রুপগুলো রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন পাহাড়ে আস্তানা গেড়েছে। এ জন্য গত ৮ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৪২ দিন ধরে দেশটির সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ লেগেই রয়েছে।
মঙ্গলবার তুমব্রু সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ একটু কম শোনা গেলেও ঘুমধুম সীমান্তের অদূরে ঢেঁকিবুনিয়া, কক্যদইঙ্গা, রাইমনখালী, মেদাই বলিবাজার, শাহাব বাজার, ওয়ালিদং, ফকিরাবাজার, বুলখালী ও নারাইনসং এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সীমান্তে বসবাসকারী বাংলাদেশী নাগরিকরা। তারা আরও জানান, মঙ্গলবার কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের ১০টি স্থানে প্রচ- গোলাগুলি চলছে। মর্টারশেল নিক্ষেপে ৬ রোহিঙ্গা হতাহতের ঘটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে কোনারপাড়া বস্তির রোহিঙ্গারা।
উখিয়া থেকে সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত সীমান্ত পিলারের ৩১ থেকে ৪১ পর্যন্ত পিলারের বিপরীতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ঘাঁটি দখল করতে গিয়ে আরাকান আর্মি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। থেমে থেমে চলেছে গোলাগুলি। মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ত্রিশ জন হতাহত হয়েছে বলে কোনারপাড়া সীমান্তে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা জানিয়েছে।
জিরো লাইনে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদ সমাবেশ ॥ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্টের অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আশ্রিতরা মর্টারশেল হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। সোমবার বিকেলে অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অংশগ্রহণে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে মর্টারশেল হামলায় রোহিঙ্গা কিশোর ইকবাল হত্যার প্রতিবাদ জানানো হয়।

এ সময় বক্তব্যে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, আগস্টের শুরুর দিকে মিয়ানমার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) গোলাগুলি-সংঘর্ষ শুরু হলেও এখন তুমব্রু“ সীমান্তে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী পুলিশ (বিজিপি) গোলাগুলি করে পরিস্থিতি অশান্ত করছে। এই অবস্থায় আতঙ্কে দিন কাটাতে হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। যারা গত পাঁচ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছে। তারা বর্তমানে অসহায়।

সমাবেশে বক্তব্যে রোহিঙ্গা নেতা আব্দুর রহিম বলেন, শুক্রবার রাতে শূন্যরেখায় পরিকল্পিতভাবে মর্টারশেল হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের মিলিটারি। তারা চায় আমরা এখান থেকে সরে যাই, তবে আমরা কোথাও যাব না। যদি যেতেই হয়- শূন্য রেখার রোহিঙ্গারা হেঁটে পাহাড়ের অপর প্রান্তে রাখাইনে নিজেদের ভিটায় ফিরবে বলে উল্লেখ করেন। সমাবেশে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে তারা।
জাতিসংঘকে রোহিঙ্গাদের চিঠি ॥ কোনারপাড়া ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ওপর মর্টারশেল নিক্ষেপ ও কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে সেখানকার রোহিঙ্গারা। সমাবেশে জাতিসংঘকে আহ্বান জানিয়ে লেখা চিঠি পাঠ করেন শূন্য রেখা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মুখপাত্র দিল মোহাম্মদ। দিল মোহাম্মদ চিঠি প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৭ সালে সামরিক জান্তা সাড়ে আট লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত করেছে। আমরা চিঠিতে জাতিসংঘকে জানিয়েছি সামরিক জান্তা বাহিনী যে কোন মুহূর্তে আমাদের ওপর আরও বড় আক্রমণ করতে পারে।

চিঠিতে এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতিসংঘকে শূন্য রেখার আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান করা হয়েছে। এই চিঠি জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, ৬২১টি পরিবারের চার হাজারের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে কোনারপাড়া বস্তিতে। তিনি আরও বলেন, গত জুলাই থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সেদেশের বিদ্রোহী সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির মধ্যে চলা সংঘাতে অস্থির হয়ে উঠেছে রাখাইন রাজ্য। সংঘাতের প্রভাবে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাংলাদেশের সীমান্ত অঞ্চলে। তিন দফায় মিয়ানমার থেকে নিক্ষেপ করা মর্টারশেল পতিত হয়েছে ঘুমধুমে। সর্বশেষ, এক রোহিঙ্গা নিহত ও ৫ জন আহত হওয়ার ঘটনা উৎকণ্ঠা বেড়েছে সীমান্ত এলাকায়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT