বুধবার ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ডেঞ্জার ঢাকা

প্রকাশিত : ০৭:৪০ পূর্বাহ্ণ, ৬ এপ্রিল ২০২০ সোমবার ৩২১ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

ঢাকা এখন প্রায় বন্দি। বন্ধ হয়ে গেছে কর্মের সুযোগ। এমন পরিস্থিতিতে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষেরা বিপর্যস্ত। সরকার ও বিত্তবানদের সাহায্যই একমাত্র ভরসা। গতকাল বিকেলে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় অসহায়দের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা দিতে দেখা গেলো এক নারীকে-আমার সংবাদ
ঘনবসতির শহর ঢাকা এখন ডেঞ্জার জোন! লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সরকার মহলে চিন্তার ভাঁজ। সবার মনে আতঙ্ক। বৃহৎ জনসংখ্যার শহরকে সুরক্ষিত রাখতে ও মৃত্যুমিছিল ঠেকাতে বিশ্বনীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এখন থেকে কেউ আর ঢাকায় ঢুকতে পারবে না। বেরও হতে পারবে না। ভয়ঙ্কর অবস্থানে রাজধানীর মিরপুর ও বাসাবো। এ দুই স্থানে আক্রান্তের তালিকা দীর্ঘ।

এছাড়া ঢাকার আরো ১৭টি স্থানে একাধিক করোনা আক্রান্তের রোগী পাওয়া গেছে। ঢাকা বিভাগের নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুর বড় ঝুঁকির তালিকায়। প্রতিদিনই ঢাকার করোনা ইউনিটগুলোতে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি বাড়ছে। বিচ্ছিন্নভাবে করোনো উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও ছোট নয়।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগ আগে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে ছিলেন। আক্রান্ত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনই ঢাকার বাসিন্দা। পাঁচজন নারায়ণগঞ্জের আর একজন মাদারীপুরের। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা শহরের মানুষের সংখ্যা বেশি।

আরও পড়ুন

ডেঙ্গু ও ফ্লুর শঙ্কাও প্রবল চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করুন
করোনায় খাদ্য সংকটে কুকুর
দাম বেড়েছে শুকনো মরিচের
বেশির ভাগ আক্রান্তই বিভিন্ন ক্লাস্টারের অংশ। ঢাকার বাসাবোতে ৯ জন, মিরপুরে ১১ জন, মাদারীপুর এবং নারায়ণগঞ্জে ১১ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মাদারীপুর, গাজীপুর, কুমিল্লা, কক্সবাজার, গাইবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা ও চট্টগ্রামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিস্তার ঘটেছে ঢাকায়, এরপরই আছে মাদারীপুর।

এছাড়া পুরান ঢাকার বাংলাবাজার, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, হাজারীবাগ, মগবাজার, উত্তরা ও উত্তরখান, যাত্রাবাড়ী, আজিমপুর, কলাবাগান, রামপুরা, মহাখালী, বনানী-গুলশান, বারিধারা ও খিলক্ষেত এলাকায়ও করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে করোনা রোগী শনাক্তের হার বেড়েছে। আট মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চার সপ্তাহ পার হয়েছে। অতিবাহিত হয়েছে ২৯ দিন।

এর মধ্যে ২০ দিন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৯ দিনে মেলেনি রোগী। প্রথম সপ্তাহে মাত্র একদিন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। সেই হিসাবে প্রথম সপ্তাহে রোগী ছিলো তিনজন। দ্বিতীয় সপ্তাহে ১৫ থেকে ২১ মার্চ রোগী শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ২১ জনে। ২২ থেকে ২৮ মার্চ তৃতীয় সপ্তাহে দেশে পাঁচদিন রোগী পাওয়া যায়।

সেই হিসাবে তখন ২৪ জন রোগী শনাক্ত হয়। তখন পরপর দুইদিন ছয়জন করে রোগী পাওয়া যায়। চতুর্থ সপ্তাহে দেশে একদিন বিরতির পরও ২২ জন শনাক্ত হয়েছেন। এরপর নতুন সপ্তাহের প্রথম দিনে সব রেকর্ড ছাপিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১৮ জন। এদিকে দেশে চলমান অঘোষিত লকডাউনের দুই সপ্তাহ পূর্ণ হলো আজ।

তৃতীয় ধাপে পয়লা বৈশাখের ছয়টি পর্যন্ত দেশের সাধারণ ছুটি আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত দুইদিনে ২৭ জন রোগী শনাক্ত হলেও করোনা শনাক্তের পরীক্ষার পরিধি বাড়েনি।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা বিষয়ে সেবাগ্রহণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বাতায়ন, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে প্রায় এক লাখ ফোনকল এসেছে। পরীক্ষা করা হয়েছে দুই হাজার ৯১৪ জনের।

গতকাল সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, অগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এছাড়াও গত কয়েকদিন আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিদিন অন্তত এক হাজার নমুনা পরীক্ষার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু প্রতিদিন নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ৩৫০ থেকে ৪০০ পার করতে পারেনি।

যদিও রাজধানীর ৯টিসহ সারা দেশের চালুকৃত ১৪টি কেন্দ্রে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে প্রায় চার হাজার। এর মধ্যে শুধু আইইডিসিআরের প্রতিদিন এক হাজার নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে।

সারাদেশের ল্যাবগুলোতে প্রায় ২১ হাজার কিটও সরবরহ করা হয়েছে। এরপরও পরীক্ষা বাড়েনি। এক্ষেত্রে কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার উপসর্গ আছে এমন কাউকে পরীক্ষার বাইরে রাখা হচ্ছে না।

এসব ফোনকলের সবার মধ্যে করোনার লক্ষণ না থাকায় যাদের মধ্যে এই লক্ষণ বিদ্যমান শুধু তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেই সাথে তারা ঘর থেকে বের হতেও বারণ করেছেন।

আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্য মতে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে বাংলাদেশের ৯টি জেলায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকায়, তারপর মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাইবান্ধা জেলার অবস্থান। এছাড়া কক্সবাজার, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর, কুমিল্লা, গাজীপুর জেলায়ও রোগী আছে। রাজধানী ঢাকার সিটি কর্পোরেশন আলাদা তথ্যবিবরণী দিয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে— রাজধানীর বাসাবো, পুরান ঢাকার বাংলাবাজার, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, হাজারীবাগ, মগবাজার, উত্তরা, উত্তরখান, যাত্রাবাড়ী, আজিমপুর, কলাবাগান, রামপুরা, মহাখালী, বনানী, গুলশান, বারিধারা, খিলক্ষেত এলাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারা দেশের ১৪টি পরীক্ষাগারে এখন পরীক্ষা হচ্ছে। তার মধ্যে রাজধানীর মহাখালীতেই চারটি ল্যাবে পরীক্ষা হচ্ছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিশিয়েটিভস (আইডেশি)।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) পুরনো বেতার ভবনে ল্যাবরেটরি তৈরি করে পরীক্ষা শুরু করেছে। ঢাকা শিশু হাসপাতাল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মিলিতভাবে পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে ইনস্টিটিউট অব আর্মড ফোর্সেস প্যাথলজি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিনেও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি), কক্সবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আইইডিসিআর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর মেডিকেল কলেজে কোভিড-১৯ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় আরো ১৪টি ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে।

সারা দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে ২১ হাজার কিট সরবরাহ করা হয়েছে। আরো ৭১ হাজার কিট মজুদ রয়েছে। সেই সাথে রাজধানীসহ সারা দেশের চিকিৎসকদের মাঝে চার লাখ ১১ হাজার ৩৩৯ পিস পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) সরবরাহ করা হয়েছে। আরো ৫৮ হাজার ১৬৩ পিস পিপিই মজুদ রয়েছে।

দেশের সার্বিক পরিস্থিতি : পঞ্চম সপ্তাহের প্রথম দিনে দেশে রেকর্ড সংখ্যক রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীসহ সারা দেশে ১৮ ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে এবং একজনের মৃত্যুও হয়েছে।

গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ে করোনা ভাইরাস বিষয়ে নিয়মিত ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘যিনি মারা গেছেন তিনি ৫৫ বছর বয়সি একজন পুরুষ, বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় রোগী পাওয়া যাচ্ছে, এ কারণে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে বলা যায়।

তবে তা ক্লাস্টার ভিত্তিতে আছে। এখনো বলছি, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে, জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। এটা যদি না করি তাহলে সংক্রমণ কিন্তু ক্লাস্টার থেকে সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুতরাং সবাইকে অনুরোধ করছি সব ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলুন।

তিনি আরো বলেন, মাদারীপুরে ক্লাস্টার আগে থেকেই ছিলো। এ কারণে সবার আগে আমরা মাদারীপুরে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলাম। নারায়ণগঞ্জেও আমাদের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছি। এই ১৮ জনের বেশির ভাগই আগে পাওয়া ক্লাস্টারের অংশ। মিরপুরেও আমরা আগে থেকেই নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলাম।

সেখানে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যারা এসেছিলেন, তাদের ছাড়াও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আমরা পরীক্ষা করছি, যাতে রোগটি সেখান থেকে ছড়িয়ে না পড়ে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মোস্তাক হোসেন বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই বেসরকারি হাসপাতালগুলোর রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেয়ার মতো প্রয়োজন প্রস্তুতি নিতে হবে বলে মনে করছেন।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, ‘করোনা শনাক্তের পরীক্ষা কম হচ্ছে বিষয়টি সত্য নয়। যারা ফোন দিচ্ছে সবাই করোনার চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ফোন দিচ্ছেন না। আবার চিকিৎসা নিতে আসা সবার মধ্যে করোনা উপসর্গ থাকছে না, তাই সবার নমুনা পরীক্ষা করা হয় না। আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু উপসর্গ না থাকলে অযথা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষার পরিধি আরো বাড়ানো হবে। এ জন্য ১৪টি ল্যাব চালু করা হয়েছে। আরো ১৪টি ল্যাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘করোনা রোগী শনাক্তের লক্ষ্যে পরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহের পরিসর বাড়ানো হয়েছে বলেই দেশে রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের চিকিৎসকরা নিরলসভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পর্যাপ্ত কিট রয়েছে। রয়েছে মজুদে পিপিই। সুতরাং করোনা বিষয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

তিনি বলেন, সরকার থেকে যত ব্যবস্থাই নেয়া হোক না কেন, মানুষ যদি নিজে তার সঠিক ভূমিকা পালন না করে, তাহলে কিন্তু করোনার এই সঙ্কট থেকে সহজে মুক্তি পাওয়া সহজ নয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘করোনা শনাক্তের পরীক্ষার সংখ্যা এখনো অনেক বেশি নয়। এটা এখনো সীমিত পর্যায়। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, প্রথমে তাদের মাধ্যমে তাদের পরিবারে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সেসব সদস্যের সঙ্গে যারা ওঠাবসা করেন, তাদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে। যেমন মিরপুরের ঘটনা।

সেখানে তারা নামাজ পড়তেন একসঙ্গে, এলাকার ভেতরে তারা একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি করতেন। এরা কিন্তু তাদের পরিবারের সদস্য ছিলেন না। তবে এটা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, এটাকে কমিউনিটি সংক্রমণ বলাই যায়।

শনাক্ত হওয়া এই ৭০ জনের সংস্পর্শে কারা কারা এসেছিলেন (কন্টাক্ট ট্রেসিং) তাদের খুঁজে বের করা হয়েছে। তাই পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেয়া হবে।

ঢাকা লকডাউন : জরুরি সেবায় যুক্তদের ছাড়া কাউকে গতকাল রোববার থেকে ঢাকায় ঢুকতে কিংবা বের হতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

গতকাল পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনসাধারণের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া একা কিংবা দলবদ্ধভাবে বাইরে ঘোরাফেরা করতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

পরবর্তী সরকারি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জনসাধারণকে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এমনকি তাদের ঢাকা ছেড়ে যেতেও দেয়া হবে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং জনগণকে ঘরে অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে।

পুলিশ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশ এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেশের সব নাগরিক এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

মিরপুরে ২৫ পরিবার লকডাউন : রাজধানীর মিরপুরে একটি পরিবারের দুই সদস্যের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ কারণে এলাকার দুটি বহুতল ভবন ও একটি টিনশেড বাড়ি লকডাউন করে দিয়েছে পুলিশ। যার মধ?্যে পড়েছে ২৫টি পরিবার।

গতকাল রোববার বিকেলে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) আক্রান্ত দুজনকে সকালে বাসা থেকে নিয়ে গেছে।’ পুলিশ জানায়, মিরপুর-১ নম্বর ওভারব্রিজের পাশে তানিম গলিতে বসবাস করতেন ওই দুজন।

গত দুদিন ধরে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন তারা। এরই মধ্যে পরীক্ষায় তাদের করোনা পজিটিভ আসে। এরপরই দুটি বহুতল ভবন ও একটি টিনশেড বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৫ পরিবারের বসবাস। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার পর এলাকায় মাইকিং করে জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে।

ওইসব বাড়িতে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে প্রতি পরিবার থেকে একজন বিশেষ পোশাক পরে বাইরে যেতে পারছেন।

করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢামেকের আইসোলেশনে বৃদ্ধার মৃত্যু : করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ৫০ বছর। গতকাল দুপুরের দিকে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। করোনার উপসর্গ থাকায় তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।

ঢামেকের নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হোসেন জানান, প্রথমে ওই ব্যক্তি নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। পরে তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়। ওই ব্যক্তির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

তিনি আরও জানান, তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেটা পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট যদি নিগেটিভ হয়, তাহলে স্বজনদের কাছে সাধারণভাবে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। আর যদি পজিটিভ হয় সে অনুযায়ী মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

নারায়ণগঞ্জে করোনায় মৃত্যু, ৩০০ বাড়ি লকডাউন : নারায়ণগঞ্জের এক ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত শনিবার সকালে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই ব্যক্তির বয়স ৫৫ বছর।

এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হলো।এই মৃত্যুর ঘটনার পর শনিবার রাত ১টার দিকে ওই ব্যক্তির বাড়ির আশপাশের এলাকা লকডাউন করেছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

ওই এলাকায় প্রায় ৩০০ বাড়ি আছে। ওই ব্যক্তির পরিবারের বরাত দিয়ে জেলা করোনা-বিষয়ক ফোকাল পারসন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আইইডিসিআরের তত্ত্বাবধানে রাজধানীর খিলগাঁও কবরস্থানে ওই ব্যক্তির দাফন হয়।

শিবচরে ছাড়পত্র পাওয়া স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন ফের আইসোলেশনে : মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় এক নারীসহ তিনজনকে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল দুপুর ১টার দিকে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এর আগে ২৭ মার্চ এই তিনজনকে আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা তিনজনের মধ্যে দুইজন স্বামী-স্ত্রী। তারা শিবচর উপজেলার বহেরাতলা ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা। অপর একজন একই উপজেলার ৩২ বছর বয়সি এক যুবক।

জেলার সিভিল সার্জন মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এক নারীসহ তিনজন দুপুর ১টার দিকে এসেছেন। তাদের ভালোভাবে চেকআপ করা হবে। তারপর নমুনা নেয়া পারে।’

ওই তিনজনকে একবার ছাড়পত্র দেয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘তখন সুস্থ ছিলেন। কোনো অসুবিধা ছিলো না। তখন তাদের টেস্ট নিগেটিভও ছিলো। তাই ছাড়পত্র দেয়া হয়েছিল। এখন তারা যেহেতু আবার এসেছে, আমরা আপাতত এ বিষয় কিছু বলতে পারছি না। আমাদের করোনা প্রতিরোধের জন্য নিয়োজিত মেডিকেল টিম তাদের ট্রিটমেন্ট দিচ্ছে।

নেত্রকোনায় সর্দিজ্বরে নারীর মৃত্যু, আট পরিবার লকডাউন : সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হয়ে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল রোববার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কালীহর জোয়াদ্দারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে ওই নারী অসুস্থ হয়ে মারা যান। মৃত ওই নারীর নাম নুরুন্নাহার (৪৫)। তিনি একই এলাকার রকিব মিয়ার স্ত্রী। স্থানীয়রা জানান, ওই নারী বিদেশ কিংবা ঢাকাফেরত কারো সংস্পর্শে যাননি।

গত চার-পাঁচ দিন ধরে তিনি সর্দিজ্বরে ভুগছিলেন। গতকাল ভোর ৪টার দিকে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে ওই নারী অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।

পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানান, ওই নারীর করোনার উপসর্গ সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। রিপোর্ট এলে বিস্তারিত বলা যাবে।

নেত্রকোনা ও পূর্বধলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোরশেদা খানম জানান, ওই নারীর শরীরে করোনার উপসর্গ সন্দেহে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই বাড়ির আশপাশের আটটি পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে।

কুমিল্লায় জ্বর-শ্বাসকষ্টে বৃদ্ধের মৃত্যু, সাত পরিবার লকডাউন : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ৬৫ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ গত শনিবার মারা গেছেন। এ ঘটনায় গতকাল রাত থেকে সাতটি পরিবারকে লকডাউন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি কয়েক দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ছিলেন। রাতে তিনি নিজের বাড়িতেই মারা যান।

খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল ইসলাম খান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সেলিম শেখ, দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনূর আলম, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, ওই ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কি না, জানার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। বিশেষ ব্যবস্থায় তার লাশ দাফন করা হয়েছে।

দাউদকান্দির ইউএনও কামরুল ইসলাম খান বলেন, ওই ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত তার পরিবারসহ সাতটি পরিবারের সদস্যদের লকডাউনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT