শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

‘টাকাও শেষ, খাবারও শেষ’ : কাবুলের এতিমখানায় হাহাকার

প্রকাশিত : ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ, ১৬ অক্টোবর ২০২১ শনিবার ২৬ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের উত্তরাঞ্চলের শামসা চিলড্রেন’স ভিলেজ নামের একটি এতিমখানার কর্মসূচী পরিচালক আহমদ খলিল মায়ান বলেন, টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি প্রতি সপ্তাহে বাচ্চাদের যে পরিমাণ ফল ও মাংস দেন তার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন।

তালেবানরা দেশের নিয়ন্ত্রণ দখল করার পর থেকে গত দুই মাস ধরে কোনো বিদেশি অনুদান আসছে না। তিনি বিদেশি এবং স্থানীয় দাতাদের মরিয়া হয়ে কল এবং ইমেইল করছেন, যারা তাকে আগে সহযোগিতা করত।

৪০ বছর বয়সী আহমদ খলিল মায়ান বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, তাদের অধিকাংশই দেশ ত্যাগ করেছে, আফগান দাতা, বিদেশি দাতা, দূতাবাস কেউ আর নেই। আমি এখন তাদের ফোন বা ইমেইল করলে তারা কেউ আর আমাকে কোনো আমাকে উত্তর দেন না’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন খুব অল্প অর্থ এবং অল্প খাবার দিয়ে এতিমখানাটি চালানোর চেষ্টা করছি’।

এই এতিমখানায় তিন বছর বয়সী প্রায় ১৩০টি শিশু রয়েছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চালু আছে এই এতিমখানা। এখানে যারা তাদের বাবা-মা উভয়কেই হারিয়েছে বা যাদের বাবা-মা তাদের লালন-পালনের সামর্থ্য রাখে না সেসব শিশুদের আশ্রয় দেওয়া হয়।

তাদের মধ্যে নয় বছর বয়সী সামিরা এসেছে উত্তর-পূর্ব বাদাখশান প্রদেশ থেকে, যে তার বাবা মারা যাওয়ার পর প্রায় দুই বছর ধরে এতিমখানায় আছে। তার মায়ের কাছে তার বা তার ভাইদের ভরণপোষণের উপায় ছিল না।

কাবুলের শীতল দিনে বাইরের খেলার মাঠের সে পড়াশোনার মতোই তীব্রতার সঙ্গে খেলাধুলা করে, দোলায় আরও উঁচুতে উঠতেই ব্যাপক হাসি পায় তার। তার কম বয়স সত্ত্বেও সে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত ক্লাস করছে এবং বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়।

লাজুক হাসি দিয়ে সে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলে, ‘আমি আমার মাতৃভূমির সেবা করতে চাই এবং অন্যদের রোগ থেকে বাঁচাতে চাই, এবং আমি চাই অন্য মেয়েরাও পড়াশোনা করুক যাতে তারা ভবিষ্যতে আমার মত একজন ডাক্তার হয়’।

এই ধরনের এতিমখানাগুলো আফগানিস্তানে বহুমুখী ভূমিকা পালন করে, যেখানে গত ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

কট্টর ইসলামপন্থী তালেবানরা দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই দেশটির দাতব্য সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ আফগানরা যে অর্থাভাবে ভুগছে তার ফলে আহমদ খলিল মায়ানও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এতিমখানাটি কয়েকজন শিশুকে আত্মীয়দের কাছে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেছিল, যাদের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল, কিন্তু একে একে তারা ফিরে এসেছে।

মায়ান বলেন, কর্মীদের খাবারের অংশ কমাতে হবে এবং বাচ্চাদের খাবারের ধরন সীমিত করতে হবে।

‘আগে আমরা তাদের সপ্তাহে দুবার ফল এবং সপ্তাহে দুবার মাংস সরবরাহ করতাম, কিন্তু আমরা সেই আইটেমগুলো এখন সপ্তাহে মাত্র একবার দিচ্ছি বা এমনকি একবারও দিতে পারছি না’।

নগদ টাকার সংকট

শীত ঘনিয়ে আসায় এবং অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় তালেবান কর্মকর্তারা পশ্চিমা সরকারগুলোকে সাহায্য ও দান পুনরায় শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিদেশে থাকা আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের ৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ও সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

অনেক দেশ তালেবানকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে, যারা দুই মাস আগেও বিদেশি সেনা এবং তাদের আফগান মিত্রদের বিরুদ্ধে জিহাদি বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছিল।

কিছু দাতা দেশের সরকার বলছে যে, আফগান জনগণের মৌলিক নাগরিক স্বাধীনতা দিলে তালেবানকে সহায়তা করা হবে। যার মধ্যে মেয়েদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার অনুমতি এবং নারীদের কাজ করার অনুমতি দেওয়ার মতো বিষয়ও রয়েছে।

তালেবান তাদের প্রথম মেয়াদের (১৯৯৬-২০০১) শাসনকালে মেয়েদের শিক্ষা নিষিদ্ধ করেছিল। এবার অবশ্য তারা সেই নীতি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা বলেছে যে তারা এই বিষয়ে কাজ করছে।

ওদিকে ব্যাংক থেকে সপ্তাহে ২০০ ডলারের বেশি অর্থ ওঠানোর সুযোগ না থাকায় এতিমখানার সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মায়ান আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে এতিমখানাটি আর বেশি দিন চলতে পারবে না।

এটা শিশুদের জন্য বিধ্বংসী হবে, যারা গণিত, ইংরেজি এবং কম্পিউটার শিক্ষা এবং শারীরিক শিক্ষার পাশাপাশি খাদ্য এবং আশ্রয় পাচ্ছিল।

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখা সামিরা তার অল্প বয়সের কারণে এখনো এতিমখানা প্রাঙ্গণের বাইরে স্কুলে যেতে পারছে এবং সে দ্রুত সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিকেলে অতিরিক্ত টিউশন ক্লাসে যোগ দেয়।

এত দুঃখ-কষ্টও তার উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে পারেনি এবং সে এটাও বলে যে তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাকে বিদেশে পড়তে যেতে হতে পারে।

‘এখানে আমার উচ্চ শিক্ষার অনুমতি নেই’।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT