বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জিরো টলারেন্সে সরকার

প্রকাশিত : ০৭:০৬ পূর্বাহ্ণ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার ৪৩১ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার ঘোষিত জিরো টলারেন্স অ্যাকশনে ক্ষমতাসীন দলের অনেকেই নিজেদের বাঁচাতে গা-ঢাকা দিয়েছেন। সরকারের শীর্ষ মহল থেকে প্রাপ্ত তালিকা ধরে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। সম্প্রতি শুরু হওয়া অবৈধ টাকার খনিখ্যাত ক্যাসিনো-ঝড়ে ল-ভ- হয়ে গেছে স্বেচ্ছাসেবক-যুবলীগের আন্ডারওয়ার্ল্ড। এই সুনামির তোড়ে ভেসে যাচ্ছেন অনেকে। আত্মগোপনে গিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না। দুদিন আগেও যিনি ছিলেন দুর্দান্ত প্রতাপশালী, এমন কেউ-ই টিকতে পারছেন না আপসহীন এ অভিযানে। একে একে মুখোশ খুলে যাচ্ছে সবার। গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলা হবে। অপরাধী নিজে যত শক্তিশালী হোক কিংবা যে দলেরই হোক, পার পাবেন না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে বলেও হুশিয়ারি দেন তিনি।

সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে চলে আসা ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। কারণ এই ক্যাসিনোকে ঘিরে রমরমা জুয়ার আসর ছাড়াও মাদকের নিরাপদ বাণিজ্যে পরিণত হয়েছিল। ঢাকায় খেলাধুলার জন্য গড়ে ওঠা বিভিন্ন ক্লাবে চলত অবৈধ এসব ক্যাসিনো। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে তার গুলশানের বাসা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। খালেদের নিয়ন্ত্রিত ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাব, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট নিয়ন্ত্রিত গুলিস্তানের পীর ইয়ামেনি মার্কেটসংলগ্ন ক্লাব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদের নিয়ন্ত্রণাধীন ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং এক আওয়ামী লীগ নেতার নিয়ন্ত্রণাধীন গোল্ডেন ঢাকা ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব।

সব কটি ক্লাবেই অবৈধ ক্যাসিনো চলত। এসব ক্যাসিনো থেকে বিপুল পরিমাণ মদ, বিয়ার, ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা ১৮২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। পরদিন অস্ত্র ও মাদক আইনের দুই মামলায় খালেদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আদালতের নির্দেশে মামলা দুটির তদন্তভার গ্রহণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জিজ্ঞাসাবাদে আন্ডারওয়ার্ল্ডে তার সঙ্গে কারা জড়িত সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন খালেদ। তার সেই তথ্যে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খালেদ জিজ্ঞাসাবাদে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতার নাম বলেছেন, যারা ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। খালেদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে যদি গোয়েন্দা তথ্যের মিল পাওয়া যায়, তাহলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সে বিষয়েও তৎপর গোয়েন্দারা। পুলিশকে ম্যানেজ করেই বছরের পর বছর ধরে ক্যাসিনো ব্যবসা চালাচ্ছিলেন খালেদরা। অন্যদিকে অস্ত্রধারী ক্যাডারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হতো রেল, রাজউক, বিদ্যুৎ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসের ঠিকাদারি ব্যবসা। এ-সংক্রান্ত একাধিক ভিডিও ফুটেজও সংগ্রহ করেছেন গোয়েন্দারা।

ডিবিকে দেওয়া খালেদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ক্যাসিনোগুলো গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্পোর্টিং ক্লাবকেন্দ্রিক। এসব ক্লাবের মধ্যে আছেÑ আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, সোনালি অতীত ক্রীড়াচক্র, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, আরামবাগ ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, ব্রাদার্স ক্লাব, মেরিনার্স ক্লাব, মিরপুরে ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন ক্লাব, দুয়ারীপাড়া ক্লাব, উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত গাজীপুর এবং কারওয়ান বাজারের প্রগতিসংঘ ক্লাব। তবে ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর পর এসব ক্লাবে ক্যাসিনো বন্ধ রয়েছে।

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদের দেওয়া তথ্যে গত শুক্রবার রাজধানীর নিকেতন থেকে আলোচিত ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার কার্যালয় থেকে দুই কোটি টাকাসহ ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআরের (ব্যাংকে স্থায়ী আমানত) কাগজপত্র জব্দ করা হয়। এ সময় তার ছয়জন দেহরক্ষীকেও আটক করা হয়। গতকাল শনিবার যুবলীগ নেতা জি কে শামীমের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং আইনে তিনটি মামলা হয়। সেসব মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, জি কে শামীম বিএনপি-জামায়াতের আমলে নারায়ণগঞ্জ যুবদলের নেতা ছিলেন। কিন্তু এক দশক থেকে যুবলীগ নেতা! তবে সবকিছু ছাপিয়ে তার বড় পরিচয় তিনি গণপূর্তের প্রতাপশালী ঠিকাদার। বিশেষ জাদুবলে পূর্তের প্রায় সব কাজই তার কব্জায়। তাই ঘুষ কমিশনও দেন দুহাত ভরে। সাবেক এক মন্ত্রীকে ঘুষ দিতেন রীতিমতো বস্তাভরে। গাড়িতে নিজেই পৌঁছে দিতেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। শুধু মন্ত্রী নন, এভাবে ভাগ পেতেন প্রভাবশালী আমলা ও প্রকৌশলীরাও। নিজের রাজ্যের অঘোষিত এ ‘রাজা’ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই বেরিয়ে আসে এমন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জি কে শামীম তার ৫টি ব্যাংকে ৭০০ কোটি টাকা জমা থাকার তথ্য দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি সিঙ্গাপুরে গিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। কয়েক মাস আগে সেখানেও বিপুল অঙ্কের টাকা জমা রেখেছেন। চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে জি কে শামীম বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার নিকেতন ও বাসাবো এলাকায় ৫টি করে ১০টি বহুতল বাড়ি, বাসাবোতে ১ বিঘার একটি বাণিজ্যিক প্লট, পর্যটন শহর বান্দরবানে একটি ৩ তারকা মানের রিসোর্টসহ অঢেল সম্পদের তথ্য পেয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। তার এই আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পেছনে সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। তার কাছ থেকে রাজনৈতিক নেতা, পুলিশসহ অনেকেই নিয়মিত বখরা পেতেন।

তদন্তে র‌্যাব জানতে পেরেছে, রূপপুরের বালিশকা-ের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে জি কে শামীম। সেখান থেকে তার প্রতিষ্ঠান জি কে গ্রুপ সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়। রূপপুরের গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী নির্মাণের ব্যয় তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। সেখানে বড় অঙ্কের কয়েকটি কাজ জি কে শামীম নিজেই করছেন। তার গ্রুপ অব কোম্পানির তত্ত্বাবধানেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাপ্লাই করা হয় ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠা বালিশ। গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী নির্মাণের প্রায় সব কাজই জি কে শামীম পান। প্রকল্পের জন্য কেনা হয় বালিশ। কিন্তু বালিশ কেনায় বড় অঙ্কের দুর্নীতির তথ্য মেলে। বালিশ নিচ থেকে ওপরে ওঠানোর শ্রমিক ব্যয় ধরা হয় ৯০০ থেকে এক হজার টাকা। এ ছাড়া বালিশ কেনায় বর্তমান বাজার থেকে তিন গুণ বাড়তি টাকা নেওয়া হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

জি কে শামীমকে গ্রেফতারের দিন কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে অবৈধ অস্ত্র ও নতুন রঙের ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। গতকাল তার বিরুদ্ধে করা দুটি মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামি ফিরোজ আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজ হেফাজতে রেখে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন। কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবের অফিসকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে সেখানে অবৈধ মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজ করতেন।

তদন্তে বেরিয়ে আসছে রাঘববোয়ালের নাম : ফকিরাপুলের ইয়াংমেন্স ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর মালিক যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে সোমবার গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল। জানা গেছে, ক্যাসিনো ব্যবসায় খালেদের সঙ্গে রয়েছেন আরো কয়েকজন যুবলীগ নেতা। তাদেরই একজন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। তিনি ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে জুয়াড়িদের কাছে পরিচিত। খালেদকে গ্রেফতারের পর সম্রাটও গ্রেফতার হচ্ছেনÑ এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এ কারণে সোমবার সারারাত সম্রাটকে এক ধরনের পাহারা দিয়ে রাখেন তার কয়েক শ সমর্থক। গতকাল তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, সম্রাট তাহলে কোথায়? যদিও কেউ কেউ বলছেন, সম্রাট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে আছেন। যেকোনো সময় তাকে গ্রেফতার দেখানো হতে পারে। তবে বিষয়টি পুলিশের কোনো সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি।

সম্রাট যুবলীগের খুবই প্রভাবশালী এক নেতা। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তী কাউন্সিলে অনেকটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। যুবলীগের দিবসভিত্তিক কর্মসূচি এবং রাজধানীতে আওয়ামী লীগের জনসভাগুলোতে সব সময়ই বড় শোডাউন থাকত সম্রাটের লোকজনের। যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সম্রাটের নেতৃত্বাধীন যুবলীগের এ ইউনিটকে ‘শ্রেষ্ঠ সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণাও দিয়েছেন। আলোচিত এ সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি জুয়া খেলতে যান সিঙ্গাপুরে। মাসে অন্তত ১০ দিন সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলেন। এটি তার নেশা।

জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলতে গেলে সম্রাটের নিয়মিত সঙ্গী হন যুবলীগ দক্ষিণের নেতা আরমানুল হক আরমান, মমিনুল হক সাঈদ, সম্রাটের ভাই বাদল ও জুয়াড়ি খোরশেদ আলম। এদের মধ্যে সাঈদ কমিশনারের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তিনি ১০ বছর আগে ঢাকায় গাড়ির তেল চুরির ব্যবসা করতেন। এখন তিনি এলাকায় যান হেলিকপ্টারে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি পদে মনোনয়নও চেয়েছিলেন মমিনুল হক সাঈদ। ক্যাসিনোতে অভিযান চালানোর পরই বেরিয়ে এসেছে যুবলীগ নেতা এ কে এম মমিনুল হক সাঈদের নাম। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আরামবাগ-ফকিরাপুলের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। একই সঙ্গে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের (বাহফে) সাধারণ সম্পাদকও। ওয়ান্ডারার্স ক্লাবটি পরিচালিত হতো তার নেতৃত্বে। খেলার বদলে এই ক্লাবে জুয়ার টাকায় জৌলুসের দৃশ্য ধরা পড়ার পরই তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একে একে বেরিয়ে আসছে সাঈদের টেন্ডারবাজি, জুয়ার আড্ডা, চাঁদাবাজি আর দখলবাজির বিভিন্ন অভিযোগ।

সাঈদ ছাড়াও ডিএসসিসির ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনিছুর রহমানসহ ঢাকার মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা ও পুরান ঢাকার আরো কয়েকজন কাউন্সিলরের খোঁজে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা। আনিছের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গোড়ান আদর্শ স্কুলের কাছে অবৈধভাবে দখল করা জমিতে ১০-তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে বনশ্রীর প্রজেক্টের ভেতরেও একাধিক জমি দখল এবং বিভিন্ন ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাব, মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র এবং বনানীর গোল্ডেন ঢাকা সিলগালা করে দেয়। অভিযানের পর র‌্যাব জানায়, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ক্যাসিনোর মালিক হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কাওসার মোল্লা এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ। অভিযানের খবরে দুজনই পলাতক। জানা গেছে, কয়েক দিন আগে সিঙ্গাপুরে যান সাঈদ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT