সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে গেলে সহায়তার আশ্বাস

প্রকাশিত : ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ বুধবার ৮ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

মিয়ানমার সীমান্তে একের পর এক গোলা এবং মর্টারশেল নিক্ষেপের ঘটনা বিদেশী কূটনীতিকদের জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অবস্থানে সন্তোষ প্রকাশ করে কূটনীতিকরা আশ্বাস দিয়েছেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘে গেলে বাংলাদেশের উদ্যোগকে সহায়তা করবেন তারা। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নিজ দেশের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানিয়েছেন তারা। তবে বাংলাদেশের বিদেশী মিশন ও দূতাবাস প্রতিনিধিদের ব্রিফিংয়ের এ আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি চীন। মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত চীনের কোন প্রতিনিধিও আসেনি।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে রাশিয়া ও ভারতের প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নিয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১০টায় আসিয়ান বহির্ভূত দেশ ও মিশনের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব.) খোরশেদ আলম ও সাউথ ইস্ট এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক নাজমুল হুদা। এর আগে সোমবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের কাছেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তথ্য উত্থাপন করেছিল। ওই বৈঠকে আসিয়ানের রাষ্ট্র মিয়ানমারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বৈঠক শেষে ১২টার দিকে দূতরা পদ্মা ছাড়তে শুরু করেন। সাড়ে ১২টায় বৈঠকের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন খোরশেদ আলম। তিনি জানান, বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মিসর, তুরস্ক, জাপানসহ প্রায় সবাই অংশ নেয়।
খোরশেদ আলম জানান, মিয়ানমারের উস্কানিতে পা না দিয়ে বাংলাদেশ ধৈর্য্য পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে এবং এই ইস্যুতে বাংলাদেশ জাতিসংঘে গেলে বাংলাদেশের উদ্যোগকে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রদূতরা। তিনি বলেন, অব্যাহত উস্কানিতে মিয়ানমার যাতে ফায়দা নিতে না পারে, এ জন্য রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেছে বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি ৫ বছর হয়ে গেল। তারা এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি। বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ধৈর্য্যরে পরিচয় দিচ্ছে। আমরা এমন কিছু করিনি যে, তাদের অভ্যন্তরের গোলা ও মর্টার শেল বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। মিয়ানমারের পরিস্থিতি এই অঞ্চলকে অশান্ত করে ফেলবে। কাজেই মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীকে বিষয়টি বুঝতে হবে।
বৈঠকে দূতদের জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ এমন কোন কাজ করেনি, যে এদেশের নাগরিকরা নিজেদের জমিতে নিরাপদে বসবাস করতে পারবে না, গরু-বাছুর চরাতে পারবে না, ঘরে থাকতে পারবে না। অভ্যন্তরীণ যে ধরনের গোলযোগই থাকুক, এ দেশের সীমানায়, মিয়ানমারের গোলা, মর্টারশেল আসা অগ্রহণযোগ্য মনে করেছেন সব দেশের রাষ্ট্রদূতরা। তারা বলেছেন, তারা ঢাকার অবস্থান তাদের ক্যাপিটালে জানাবেন।
ভারপ্রাপ্ত সচিব বলেন, সীমান্তে পরিস্থিতি একই রকম আছে। ওপারে গোলাগুলি থামেনি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নেপিদো যে ব্যাখ্যা দিয়েছে সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, গোলা তো পশ্চিমে আসার কথা নয়। কাজেই এটা জিয়োগ্রাফিক্যালি হয় না, যদি কেউ ইচ্ছে করে না করে। ইচ্ছাপূর্বক আমাদের এ কনফ্লিকটে (দ্বন্দ্বে) জড়ানোর যে প্রচেষ্টা সেটা আমরা বলেছি, আমরা এটাতে জড়িত হবো না। আমরা তাদের (দূতদের) অবহিত করলাম। রাষ্ট্রদূতদের বলেছি, আপনারা যে এ্যাকশন নেয়া উচিত বলে মনে করবেন, সেটার যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করবে কিনা? এ প্রশ্নে খোরশেদ আলম বলেন, আমরা সর্বস্তরেই মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যাতে মিয়ানমার বুঝতে পারে এ রকম একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তাদের জন্যও বিপজ্জনক। বাংলাদেশ এটা কোনভাবেই গ্রহণ করবে না।
বাংলাদেশের ধৈর্য্য এবং মিয়ানমারের উস্কানিতে পা না দেয়ায় বিদেশী প্রতিনিধিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, তাদের রাজধানীতে বিষয়গুলো জানাবেন, যাতে ভবিষ্যতে কোন কিছু করণীয় থাকে এবং জাতিসংঘের করণীয় থাকে। সে বিষয়ে আমাদের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন তারা বলে জানান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব। খোরশেদ আলম বলেন, আমরা তাদের বলেছি যে, আমরা সাহায্য চাই যাতে করে মিয়ানমার এ অঞ্চলে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভবিষ্যতে ফায়দা লুটতে না পারে।
মিয়ানমারের অতি ঘনিষ্ঠ ও মদদদাতা হিসেবে পরিচিত চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আগে থেকেই উচ্চারিত হচ্ছিল। মঙ্গলবার বাংলাদেশের আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ না নিয়ে চীন মিয়ানমার ইস্যুতে ফের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্রোহী আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়াই চলছে মিয়ানমার সেনাদের। এই লড়াইয়ের মধ্যে মিয়ানমার সেনাদের ছোড়া বেশ কিছু মর্টারশেল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে পড়ে। সবশেষ শুক্রবার রাতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ছোড়া চারটি মর্টারশেল এসে পড়ে। এতে শূন্যরেখায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক যুবক নিহত হন। আহত হন রোহিঙ্গা শিশুসহ পাঁচজন। এখনও থেমে থেমে সীমান্তের ওপারে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। সীমান্তে বাংলাদেশীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রাষ্ট্রদূতের কাছে অবস্থান জানাল মিয়ানমার ॥ অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় উদ্বিগ্ন ঢাকার রাষ্ট্রদূতের কাছে এ বিষয়ে ‘ব্যাখ্যা’ দিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক জ ফিও উইন। যদিও তিনি এ ঘটনার পুরো দায় আরাকান আর্মি ও আরসার ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন। মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ফেসবুক পোস্টে জানানো হয়, সোমবার বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে ওই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক জ ফিও উইনের বৈঠক হয়।
বৈঠকে মহাপরিচালক সীমান্ত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, তিনি এ ঘটনায় আরাকান আর্মি ও আরসার ওপর পুরো দায় চাপিয়ে দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে ওই সংগঠন দুটি এসব কাজ (বাংলাদেশে বোমা, গুলি ও মর্টারশেল নিক্ষেপ) করছে, যাতে করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT