মঙ্গলবার ০৫ জুলাই ২০২২, ২১শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘জলঢুপি’ আনারস

প্রকাশিত : ০২:০৩ পূর্বাহ্ণ, ১৫ আগস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার ১,২৩১ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

আকারে ছোট, গোলাকার। টকটকে হলদে বর্ণ। খেতেও ভারী মিষ্টি। দেখে যে কারোরই জিভে জল আসবে! নাম তার ‘জলঢুপি’। নাম জলঢুপি হলেও এটি আসলে আনারস।

বৃহত্তর সিলেটের নামকরা এই আনারস ছড়িয়ে চলেছে শ্রীমঙ্গলের খ্যাতি। বিক্রেতারা এ আনারস শ্রীমঙ্গল থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসেন। এরপর হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর রেল গেইটের নিকটে বসে বিক্রি করেন। দিন দিন ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই জলঢুপি আনারস।

অন্যদিকে, প্রকৃতির টানে পর্যটন নগরী সিলেটে প্রতিদিন বেড়াতে আসা লোকজনের কাছেও বেশ সমাদৃত জলঢুপি আনারস। বেড়াতে আসা লোকজন সড়ক পথে যাতায়াতকালে লস্করপুর রেল গেইট থেকে কিনে নেন এই আনারস। শুধু তাই নয় স্থানীয়দের কাছেও এ আনারস বেশ জনপ্রিয়।

শ্রীমঙ্গলে চাষ হলেও মূলত জলঢুপি আনারসের উৎপত্তিস্থল সিলেটের বিয়ানীবাজারের জলঢুপ গ্রামে। ওই গ্রামের নামেই আনারসের নামকরণ। সেখানে উঁচু-নিচু টিলাতে, বাড়ির আশপাশে আনারস চাষ হয়। সেই আনারস ধীরে ধীরে শ্রীমঙ্গলে বিস্তৃতি লাভ করে। বর্তমানে এটি হবিগঞ্জের পাহাড়ি এলাকায়ও চাষ হচ্ছে। লস্করপুর গেইটে সিরাজ মিয়া, আব্দুস সাত্তার, সাহাব উদ্দিনসহ কয়েক বিক্রেতা এ আনারস শ্রীমঙ্গল থেকে ক্রয় করে এখানে এনে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, সিলেট বিভাগে মোট ১ হাজার ৮শ’ ৯৭ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক চাষ হয় মৌলভীবাজারে ১ হাজার ১২৪ হেক্টর এবং সর্বনিম্ন সুনামগঞ্জে ২৭ হেক্টর এলাকায়। সিলেটে ১৯৪ হেক্টর ও হবিগঞ্জে ৫৫২ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়ে থাকে। বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে সর্বাধিক আনারস চাষের রেকর্ড মৌলভীবাজার তথা শ্রীমঙ্গলে। এখন এই আনারসই ধরে রেখেছে শ্রীমঙ্গলের সুনাম।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বানরের উৎপাতে আনারস চাষে বেশ ঝুঁকি রয়েছে। আনারস পারিপক্ক হওয়ার আগে বানরের দল এসে বাগানে ঢুকে ফলগুলো নষ্ট করে দেয়। পাকা আনারস খেয়ে ফেলে। কিন্তু জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দায়বদ্ধতা থেকে তারা বানরকে মারতে পারেন না। ফলে অনেক চাষি লেবু চাষে ঝুঁকছেন। কারণ, লেবু টক হওয়ায় বানররা খেতে পারে না। এরপরও অনেক চাষি আনারস চাষ অব্যাহত রেখেছেন।

আনারস বিক্রেতা সিরাজ মিয়া রাইজিংবিডিকে বলেন, শ্রীমঙ্গলে দুই ধরনের আনারস পাওয়া যায়। এরমধ্যে আকারে বড় ‘ক্যালেন্ডার’ ও আকারে ছোট গোলাকৃতির ‘জলঢুপি’। ক্যালেন্ডার ৫০ টাকা ও জলঢুপি প্রকারভেদে ৩০-৪০ টাকা হালি বিক্রি করা হয়। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে দু’টির স্বাদ আলাদা। রসালো জলঢুপি খেতে মিষ্টি। ক্যালেন্ডারে মিষ্টির পরিমাণ কিছুটা কম।

হবিগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, সাধারণত টিলা বা এমন এলাকায় আনারস চাষ হয়ে থাকে। যে কারণে মৌলভীবাজারের পরই হবিগঞ্জে আনারসের ভাল ফলন হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষীদের সার্বিকভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT