বৃহস্পতিবার ২৬ মে ২০২২, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগ নেত্রী কক্ষ দখল করায় রাতভর হলের বাইরে ছাত্রীরা

প্রকাশিত : ০৮:১৬ অপরাহ্ণ, ১১ মে ২০২২ বুধবার ১৭ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শাখা ছাত্রলীগের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের একটি কক্ষ দখলের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে মধ্যরাতে ওই কক্ষের আবাসিক ছাত্রীসহ প্রায় ২০ জন ছাত্রী হলের বাইরে অবস্থান নেয় এবং রাতভর আন্দোলন করে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হলের বাইরে গেটের সামনে বসে এ আন্দোলন চালিয়ে যান তারা।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. খান মো. সাইফুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এসে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। পরবর্তীতে ওই হলের প্রভোস্ট এসে কক্ষটি তালাবদ্ধ করে দেয় এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি সমাধান করবে বলে আন্দোলনকারী ছাত্রীদের আশ্বাস দেয়। এ আশ্বাসে পরে ছাত্রীরা আন্দোলন থামিয়ে নিজ নিজ কক্ষে চলে যায়।

হলসূত্রে জানা যায়, দখলকৃত কক্ষটি বেগম রোকেয়া হলের মূল ভবনের ৩০৩নং কক্ষ। এটি মূলত চারটি সিটের একটি কক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া আঁখি নামের এক ছাত্রী ওই কক্ষে থাকেন। বাকৃবি ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বেগম রোকেয়া হল নিজের আয়ত্তে আনার চেষ্টা করতে থাকে নতুন কমিটিতে পদপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান রিজা এবং তানজিনা শিকদার প্রিয়া। এরপর থেকে দুইজনের সমর্থকদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়।

অভিযোগকারী ছাত্রী সুরাইয়া আঁখি বলেন, ছুটিতে বেশ কিছুদিন বাড়িতে ছিলাম। হলে এসে দেখি আমার কক্ষটি ছাত্রলীগের নেত্রী রিজা ও তার সমর্থক দখল করে নিয়েছে এবং আমাকে ওই কক্ষে ঢুকতে দিচ্ছে না। গত রোববার রাত থেকে ওই কক্ষের বাইরে অবস্থান করছি। হল প্রশাসনকে অবহিত করলে তারা বিষয়টি প্রথমে আমলে নেয়নি। পরে কোনো সুরাহা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান অভিযোগকারী ওই ছাত্রী।

আন্দোলনের সময় ওই ছাত্রীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন আরেক ছাত্রলীগ নেত্রী তানজিলা শিকদার প্রিয়া।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেত্রী ইসরাত জাহান রিজা বলেন, হল প্রশাসনের সম্মতিতে অনেকদিন তালা বদ্ধ থাকা ওই কক্ষে আমরা উঠেছি। চারটি সিটের মধ্যে তিনটি খালি ছিল, সেগুলোতে আমরা উঠেছি। কাউকেই কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়নি বা কোনো রকম হয়রানি করা হয়নি। আমাদের বিরুদ্ধে করা সবগুলো অভিযোগ মিথ্যা। আমরা কক্ষে ওঠার পর উল্টো আমাদের তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।

প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা কক্ষটি হল প্রশাসনের আয়ত্তে নিয়েছি। কক্ষটি তালাবদ্ধ করে সিলগালা করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT