শুক্রবার ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কৃষক কন্যাকে শ্লীলতাহানি, গ্রাম্য সালিসে তিন থাপ্পড়েই মিমাংশা!

প্রকাশিত : ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ, ১৭ জুন ২০২১ বৃহস্পতিবার ৮৫ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

থানায় অভিযোগ করলে গ্রামে থাকতে দেবে না এমন শঙ্কায় মেয়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগ নিয়ে গ্রামের মাতবরের কাছে যান মহাদেবপুর উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের একজন কৃষক। এরপর সালিসি বৈঠক ডেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি হিসেবে তিন থাপ্পড় ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ছাত্রীর স্বজনদের অভিযোগ; অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার স্বজনেরা গ্রামের প্রভাবশালী হওয়ায় এমন বিচার মেনে নিতে হয়েছে তাদের। গত রবিবার রাতে গ্রামে ওই সালিসি বৈঠক হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম খোদাবক্স মন্ডল (৪৫)। সালিস বৈঠকে বিচারের কাজ করেন তাঁর চাচাতো ভাই সেকেন্দার আলীসহ গ্রামের মাতবর আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল।

এ বিষয়ে কথা হয় ছাত্রীর বড় ভাই ও ভাবির সঙ্গে। তাঁরা বলেন, সালিস বৈঠকে শ্লীলতাহানির সত্যতা পাওয়ার পরও দোষী ব্যক্তিকে উপযুক্ত সাজা দেওয়া হয়নি। বিচারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে জোর করে সাদা স্টাম্পে ছাত্রী ও বাবার স্বাক্ষর করে নেওয়া হয়েছে। বিচার সুষ্ঠু না হলেও মাতবরদের সিদ্ধান্তই মানতে হবে। এর বাইরে গেলে গ্রামেই থাকা যাবে না হয়তো।
ভুক্তভোগী একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। তার স্বজনরা জানান, গত ১০ জুন বিকেলে কিশোরী বাড়িতে নিজের কক্ষে একাই ছিল। প্রতিবেশী খোদাবক্স তখন ঘরে ঢুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। কিশোরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে খোদাবক্স পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা গ্রামের মাতবরের কাছে বিচার দাবি করেন। মাতবরেরা বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার রাতে সালিস-বৈঠকে বসেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়েটির বাবাকে অভিযুক্ত খোদাবক্সকে তিনটি থাপ্পড় মারতে বলা হয়। এ ছাড়া খোদাবক্সকে জরিমানা করা হয় ২০ হাজার টাকা। স্কুলছাত্রীর বড় ভাই অভিযোগ করেন, খোদাবক্সের বিরুদ্ধে এর আগেও এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু গ্রামের মধ্যে তিনি ও তাঁর স্বজনেরা প্রভাবশালী। তাঁর চাচাতো ভাই সেকেন্দার গ্রামের প্রধান মাতবর। সেকেন্দার প্রভাব খাটিয়ে গ্রামের মাতবরদের দিয়ে এমন লঘু শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। জরিমানার টাকাও সেকেন্দার নিজে রেখে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে সেকেন্দার আলী বলেন, বৈঠকে মাতবরেরা সবাই সিদ্ধান্ত নেন জরিমানার ২০ হাজার টাকা তাঁর (সেকেন্দার) কাছে রাখা হবে এবং মেয়েটির যখন বিয়ে হবে, তখন এই টাকা খরচ করা হবে। কারণ, মেয়েটির বাবা খুব গরিব। এই টাকা তাঁদের হাতে দিলে তা খরচ হয়ে যাবে। শ্লীলতাহানির সালিস বৈঠকে বিচারের বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, তিনি এ ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না। থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT