শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

করোনার প্রভাবে অপরাধ কমেছে

প্রকাশিত : ১১:২০ পূর্বাহ্ণ, ৮ এপ্রিল ২০২০ বুধবার ৯৭ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

করোনা প্রতিরোধে সারাদেশে সাধারণ ছুটি, লকডাউন ও সচেতনতা প্রচারের কারণে অপরাধের মাত্রা কমে গেছে। থানায় থানায় মামলা দায়েরের সংখ্যাও কমে গেছে। রাজধানী ঢাকা, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রামেগঞ্জেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসমাগম ঠেকাতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাস্তায় মানুষের পদচারণা কমে গেছে অনেক। এমন বাস্তবতায় ঢাকায় কমেছে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ।

অতীতে এসব অপরাধের ঘটনায় মামলা হতো হাজার হাজার। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা ভাইরাস নিয়ে গুজব প্রচারের অভিযোগ রয়েছে। সারাদেশে গুজবের ঘটনায় ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। থানায় মামলা গ্রহণ, মামলা তদন্ত, পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এবং যে কোনো অপরাধের তথ্য পেলে—সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। করোনার উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে দ্বিগুণ তিনগুণ ডিউটি করতে হচ্ছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মাসিক অপরাধের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মার্চ মাসে ঢাকায় ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে দুইটি। খুনের ঘটনায় ১৭টি মামলা হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে মামলা ১৪টি। ধর্ষণের ঘটনায় ৫৬টি মামলা। নারী নির্যাতনের ঘটনায় মামলা ১৩২টি। শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মার্চ মাসে কোনো মামলা হয়নি। প্রতারণার ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬৭টি। বাসায় চুরির ঘটনায় মামলা ৫১টি। মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় একটি ও গাড়ি চুরি একটি। অন্যান্য চুরির ঘটনায় মামলা ১১৭টি। অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে ১৪টি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ১ হাজার ১২৭টি। সব ধারা মিলিয়ে মার্চ মাসে ঢাকায় মামলা হয়েছে ২ হাজার ৫৫টি। ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীতে মামলা হয়েছে ২ হাজার ১৩১টি। পক্ষান্তরে জানুয়ারিতে মামলা হয়েছিল ২ হাজার ২৪৭টি।

মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশ জুড়ে করোনা নিয়ে সর্বত্র এক ধরনের সচেতনমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে সরকার। এতে মার্চ মাসে অপরাধের ঘটনা কমে যায়। করোনা ভাইরাসের কারণে দেশে গণজমায়েত, সভা-সমাবেশ বন্ধ। চলছে না গণপরিবহনও। এমনকি মার্কেট, সিনেমা হল ও বিনোদন কেন্দ্রের মতো প্রচুর জনসমাগমের সম্ভাব্য স্থানগুলোও বন্ধ রয়েছে।

বড়ো কোনো উত্সব যেমন ঈদ, পূজার সময় রাজধানী ঢাকা ফাঁকা হলে চুরি বা ছিনতাইয়ের সুযোগ খোঁজে অপরাধীরা। ফাঁকা বাসা বাড়িতে চুরি ডাকাতি নিয়ে আতঙ্কে থাকেন সবাই। তখন ফাঁকা রাস্তায় বেড়ে যায় ছিনতাই। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বড়ো রাস্তা থেকে অলিগলি, সবখানে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল দেওয়ার কারণে এসব অপরাধ কমে গেছে। এছাড়া ত্রাণ বিতরণের সুবিধা এসব অপরাধীরা পাচ্ছেন বলে তারা অপরাধের কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশের ৬৪০টি থানায় প্রতি বছর গড়ে ১ লাখ ৪০ হাজার অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করা হয়ে থাকে। তাতে প্রতিদিনে গড়ে প্রায় ৪০০টি অপরাধের ঘটনা রেকর্ড হতো। আর এই অপরাধের ঘটনা সাধারণত গ্রামাঞ্চলের থেকে শহরে বেশি হতো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে গত মাস থেকে তা হ্রাস পেয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT