সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

উত্তরবঙ্গে বেহাল স্কুল-কলেজের লাইব্রেরি

প্রকাশিত : ০৮:৩২ পূর্বাহ্ণ, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ সোমবার ১১ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

উত্তবঙ্গে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরির অবস্থা বেহাল। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে নামেমাত্র লাইব্রেরি রয়েছে, তা শিক্ষার্থীদের কোনো কাজেই আসছে না। জরাজীর্ণ ঘরে ভাঙাচোরা আলমিরাতে সারি সারি বই রাখা। অধিকাংশই পুরোনো, মলাট ছেঁড়া। আলমিরা ও বইয়ে ধুলোর স্তূপ, মাকড়সার জাল। অবহেলা-অযত্নে পড়ে থাকা এসব লাইব্রেরিতে শিক্ষার্থীদের পা পড়ে না। দিনের পর দিন থাকে তালাবদ্ধ। আবার কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি বলতে কিছু নেই। অফিসকক্ষ অথবা স্টোররুমের এক কোণে আলমিরাতে কিছু বই ফেলে রাখা হয়। অনেক শিক্ষার্থী জানেই না তাদের প্রতিষ্ঠানে ‘লাইব্রেরি’ বলে কিছু আছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রংপুর প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের আট জেলায় নয় হাজার ৫৪৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুই হাজার ৯৬৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৫৫৬টি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিডিউট ও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে ৮৫টি। এর মধ্যে বেশির ভাগ স্কুল ও কলেজেই পাঠাগার নেই। মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে। প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। একজন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে। অথচ বিদ্যালয়টিতে পাঠাগারের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক বাবুর হরেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়ে পাঠাগার নেই। তবে, ব্র্যাক পরিচালিত একটি পাঠাগার ছিল বিদ্যালয়ের পাশে। কয়েক বছর হলো পাঠাগারটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

কুড়িগ্রাম শহরের ঐতিহ্যবাহী রিভার ভিউ উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত দ্বিতল ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষ তালাবদ্ধ। উপরে ছোট করে লেখা গ্রন্থাগার। ভেতরে বইয়ের শেলফগুলো ফাঁকা। যা বই আছে তার সবই ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির পাঠ্যবই। একটি আলমিরাতে কিছু বই থাকলেও ধুলো ও মাকড়সার জালে পরিপূর্ণ।

জেলা শিক্ষা অফিসার মে. শামছুল আলম জানান, মাধ্যমিক থেকে একাডেমিক অনুমোদন নেওয়ার সময় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লিখিত মুচলেকা দেন যে, তারা নিজ উদ্যোগে লাইব্রেরি গড়ে তুলবেন। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সে শর্ত ভঙ্গ করেছে।

ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আলমিরাতে শেলফে ভরা বই। তবে রুমটি মাসের পর মাস তালাবদ্ধ থাকে। ভেতরের আসবাবপত্র ধুলোবালি আর মাকড়সার জালে ছেয়ে গেছে। বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান বলেন, লাইব্রেরিয়ান নেই। একজন সহকারী শিক্ষককে লাইব্রেরিয়ানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লাইব্রেরির দায়িত্বে থাকা শিক্ষক কিশোর কুমার ঝাঁ বলেন, এর আগে ৭০০ টাকায় মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন এই দায়িত্ব পালন করতেন। এখন আমাকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। চেষ্টা করি লাইব্রেরি খোলা রাখার।

পঞ্চগড় জেলা শহরের খানপুকুর খোলাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি রুমের ভেতরে ছোট ছোট বস্তায় ভরে কিছু বই মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। আবার কিছু বই এমনিতেই মেঝেতে রাখা হয়েছে। রুমের এক কোণে ভাঙা টিউবওয়েল রাখা। দেখে মনে হয় স্টোররুম। তবে শিক্ষার্থীরা জানায়, এটিই তাদের লাইব্রেরি। তবে কোনো দিন ভেতরে ডোকেনি তারা। কারণ এটি খোলাই হয় না। তাছাড়া ভেতরে বসার কোনো আসবাবপত্রও নেই।

কুড়িগ্রামের উলিপুর এমএস স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে লাইব্রেরির কোনো অস্তিত্ব নেই। টিচার্স কমন রুমের আলমারির মধ্যে পুরোনো কিছু বই রাখা। উলিপুর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সারি সারি ভবন থাকলেও নেই কোনো লাইব্রেরি। এ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতেও লাইব্রেরি নেই।

নীলফামারী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষকে লাইব্রেরি বানিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বই পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা টিফিনের ফাঁকে সেখানে বই পড়ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT