রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার আমল ইতিকাফ

প্রকাশিত : ০৪:০৮ অপরাহ্ণ, ১২ এপ্রিল ২০২৩ বুধবার ৮৪ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

আজ বিশতম রোজা। মাগফিরাতের শেষ দিন। মাগফিরাত বা ক্ষমা লাভের বিশেষ মুহূর্তগুলো ক্রমান্বয়ে প্রায় শেষ। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে নাজাতের দশদিন। আল্লাহতা‌য়ালা মাগ‌ফিরা‌তের দশ‌ দি‌নে বান্দা‌দের‌ ক্ষমা করেন, আর নাজাতের দশ দিনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি ‌দেন। এজন্য রমজা‌নের শেষ দশ‌ দি‌নের গুরুত্ব অ‌নেক।

য‌দি রমজানের শেষ দশ‌দি‌নে জাহান্নাম থে‌কে নাজাত বা মুক্তি লাভ করা যায় তাহ‌লে সেটা হ‌বে পা‌র্থিব জীব‌‌নের সব‌চে‌য়ে বড় সফলতা। এই দশ‌ দি‌নে নাজাত লাভ কর‌তে প্রয়োজন বি‌শেষ কিছু আমল। যে আম‌লের মাধ‌্যমে বান্দা মহান আল্লাহর অ‌ধিকতর নিকটবর্তী হ‌তে পা‌রে। কেননা কা‌রও কাছ ‌থে‌‌কে ‌কিছু পে‌তে হ‌লে তার নিক‌টে আস‌তে হয়। আর মহান আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম আমল হ‌লো ই‌তিকাফ। ইতিকাফ রমজানের শেষ দশদিনের বিশেষ এক আমল।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিতভাবে প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতিকাফ করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামও এই আমলে অংশগ্রহণ করতেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশ দিনে ইতিকাফ করতেন। তার মৃত্যু পর্যন্ত এই নিয়মই ছিল। এরপর তার সহধর্মিণীরাও সে দিনগুলোতে ইতিকাফ করতেন। -মুসলিম ১১৭২

ইতিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ অবস্থান করা। শরিয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ বলা হয়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক বিশেষ সময়ে, বিশেষ নিয়মে নিজেকে মসজিদে আবদ্ধ রাখা।

ইতিকাফ তিন প্রকার। প্রথম প্রকার: সুন্নত। সুন্নত ইতিকাফ হলো, রমজান মাসের শেষ দশদিন জাগতিক কাজকর্ম ও পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইবাদতের নিয়তে মসজিদ বা ঘরে নামাজের স্থানে অবস্থান করা।

পুরুষরা শুধু মসজিদেই ইতিকাফ করবে। ইতিকাফের জন্য জামে মসজিদ উত্তম। কারণ জুমার জন্য অন্যত্র যেতে হবে না। কিন্তু জামে মসজিদে ইতিকাফ করা জরুরি নয়। বরং যেসব মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়, সেসব মসজিদেও ইতিকাফ করা যাবে। -দুররুল মুখতার: ২/১২৯)

কেউ রমজানের শেষ দশদিনের ইতিকাফে বসে অসুস্থতার কারণে পূরণ করতে না পারলে তাকে কেবল একদিনের ইতিকাফ কাজা করতে হবে। আর তা রমজানেও হতে পারে। এজন্য সে কোনো একদিন সূর্যাস্তের পর থেকে পরের দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে ইতিকাফ করবে। অবশ্য রমজানের বাইরে ইতিকাফটি কাজা করতে চাইলে দিনের বেলা নফল রোজা রাখতে হবে। -রদ্দুল মুহতার: ২/৪৪৪-৪৪৫

নারীরা ঘরে তাদের নামাজ আদায়ের জন্য নির্ধারিত স্থানে ইতিকাফ করবে। যদি আগে থেকেই ঘরে নামাজের জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত না থাকে তাহলে ইতিকাফের জন্য একটি স্থান নির্ধারিত করে নিবে। এরপর সেখানে ইতিকাফ করবে। -বাদায়েউস সানায়ে: ২/১১৩

ইতিকাফ শুরু করার পর নারীর পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলে ইতিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। পরে শুধু একদিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। -আহসানুল ফাতাওয়া: ৪/৫০২

দ্বিতীয় প্রকার: মান্নতের ইতিকাফ। মান্নতের ইতিকাফ ওয়াজিব। তাতে কোন শর্ত থাকুক বা না থাকুক। যেমন : কেউ বললো, আমার এই কাজ সমাধা হলে আমি ইতিকাফ করব অথবা আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইতেকাফ করব। এ উভয় অবস্থাতেই ইতিকাফ ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্থ হবে। এছাড়াও সুন্নত ইতিকাফ ভঙ্গ হলে তা কাজা করা ওয়াজিব। ওয়াজিব ও সুন্নাত ইতিকাফে রোজা শর্ত। রোজা ব্যতীত ওয়াজিব ও সুন্নত ইতিকাফ শুদ্ধ হবে না। -দুররুল মুখতার ২/৪৪১

তৃতীয় প্রকার: নফল ইতিকাফ। নফল ইতিকাফ মানুষ যেকোনো সময় করতে পারে। যেমন, ক্ষণিকের জন্য ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। যতক্ষণ চায় ইতিকাফ করতে পারবে। এতে রোজারও প্রয়োজন নেই।

মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আজ সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে সুন্নত ইতিকাফ। এ ইতিকাফের স্থায়িত্ব ঈদুল ফিতরের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত। বিধানগত দিক থেকে এটা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কেফায়া। মহল্লার যে কোনো একজন ইতিকাফ করলে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু মহল্লার একজন ব্যক্তিও যদি ইতিকাফ না করে তবে মহল্লার সবার সুন্নত পরিত্যাগের গোনাহ হবে। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৬৭

ইতিকাফকারী রমজান মাসের ২০ তারিখ আসরের নামাজের পর সূর্যাস্তের আগে মসজিদে পৌঁছবেন এবং মসজিদের কোণে একটি ঘরের মতো পর্দা দিয়ে ঘেরাও করা স্থানে অবস্থান নেবেন। ঘেরাওকৃত স্থানে এমনভাবে পর্দা স্থাপন করবেন, যেন প্রয়োজনে জামাতের সময় তা খুলে মুসল্লিদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করা যায়। এ স্থানে পানাহার ও শয়ন করবেন এবং বিনা প্রয়োজনে এখান থেকে বের হবেন না। তবে প্রাকৃতিক প্রয়োজন অথবা ফরজ গোসল প্রভৃতি কাজে অথবা শরিয়তের প্রয়োজনে যেমন জুমার নামাজ প্রভৃতির জন্য বের হওয়া জায়েজ। কিন্তু প্রয়োজন পূরণের সঙ্গে সঙ্গেই ইতিকাফের স্থানে ফিরে যেতে হবে। -ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া : ৭/২৭৮

ইতিকাফরত ব্যক্তি পেশাব-পায়খানার জন্য মসজিদের বাইরে গেলে আসা-যাওয়ার পথে পথ চলতে চলতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবেন। তদ্রূপ এ সময় পথ চলতে চলতে কারও সঙ্গে অল্পস্বল্প কথাও বলতে পারবেন। এতে ইতিকাফের কোনো ক্ষতি হবে না। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইতিকাফ অবস্থায় চলতে চলতে রোগীর কুশলাদি জিজ্ঞেস করতেন। কিন্তু এর জন্য রাস্তায় দাঁড়াতেন না। -সুনানে আবু দাউদ: ২৪৭২

ইতিকাফ অবস্থায় জরুরি প্রয়োজনে নিজের পরিবার-পরিজন বা অন্য কারও সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা যাবে। -ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ১৫/৩০৩

ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য, মসজিদে অবস্থান করে আল্লাহর আনুগত্য করা, তাঁর অনুগ্রহ লাভে সচেষ্ট হওয়া, সওয়াব অর্জনের আশা করা এবং লাইলাতুল কদরের বরকত লাভে ধন্য হওয়া। তাই প্রত্যেক ইতিকাফকারীর জন্য আল্লাহর জিকির, কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ-রোজা, দোয়া-দরুদ ও অন্যান্য ইবাদতে ব্যস্ত থাকা এবং পার্থিব বিষয়ে অযথা কথাবার্তা ও আলাপ-আলোচনা থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT