শনিবার ২৫ মে ২০২৪, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আওয়ামী লীগে বিরোধ, শক্ত অবস্থানে বিএনপি

প্রকাশিত : ০৮:২০ পূর্বাহ্ণ, ২৬ নভেম্বর ২০২২ শনিবার ৬৪ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল ও লালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইসাহাক আলী সম্পর্কে শ্যালক-দুলাভাই হলেও তাদের বিরোধ চরমে। দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে কথা হয় না। শ্যালক এমপি থাকার পরও সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে লালপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ হারিয়েছেন ইসাহাক আলী।

২০১৮ সালে বকুল এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর শুরুটা বেশ ভালো ছিল। কিছু দিন পর বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হন বকুলের আপন ছোট ভাই অহিদুল ইসলাম গকুল। ভাইয়ের প্রভাবে নৌকাকে পরাজিত করে জয়ী হন তিনি। বিষয়টি নিয়ে দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে এমপি বকুলের।

এদিকে এই আসনে বিএনপির অবস্থান অনেক শক্তিশালী। আওয়ামী লীগের আগের আমলেও এই দুই উপজেলায় বিএনপি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৪ সালে বাগাতিপাড়া পৌরসভার জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত এখানে বিএনপি সমর্থিত ছাড়া কেউ মেয়র নির্বাচিত হতে পারেনি। লালপুরের গোপালপুর পৌর সভায়ও বিএনপি শক্তিশালী। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

জানা গেছে, দুই উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌর সভায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনে গঠন করা হয় এমপি সমর্থিত পালটা কমিটি। উপজেলা আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এমপির বিরোধিতা শুরু করে এবং সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের পক্ষে অবস্থান নেয়। বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট করেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ও তাদের সমর্থন করায় বহিষ্কার করা হয় দুই উপজেলায় প্রায় ২৫ নেতাকর্মীকে। এসব কোন্দলের জের ধরে বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে এমপি সমর্থিত বিদ্রোহী একটি, দুটিতে নৌকা ও অপর দুটি ইউনিয়নে বিএনপি বিজয়ী হয়। বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এমপি বকুলের নিজের ইউনিয়নে বিজয়ী হয় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী। বাগাতিপাড়া পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ শাহিদা খাতুন হলেও এখানে এমপির ঘনিষ্ঠজন ময়মুর সুলতান বিদেশ থেকে হঠাৎ দেশে এসে বিদ্রোহী প্রার্থী হন। ফলে বিএনপি বিজয়ী হয় এবং নৌকা থাকে তৃতীয় অবস্থানে।

চলতি বছরের ২৬ জুলাই থানা আওয়ামী লীগের কাউন্সিল থেকে এমপিকে দূরে রাখার দাবি জানিয়ে কাউন্সিল বয়কট করেন বাগাতিপাড়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার রহমান। পরে তাদের বাদ দিয়েই এমপি সমর্থিত নূরুল ইসলাম ঠান্ডুকে সভাপতি এবং সাবেক এমপি আবুল কালাম সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

এর পর থেকে বাগাতিপাড়ায় আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম কর্মসূচি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে উৎযাপন করা হয়। পুরাতন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একত্রে এবং নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলাদাভাবে কর্মসূচি উৎযাপন করে। পুরাতন কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, বর্তমান এমপি কখনোই আওয়ামী লীগকে মানেন না। তিনি দুই উপজেলাজুড়ে আওয়ামী লীগ ও সব অঙ্গ সংগঠনের পালটা কমিটি করে দলের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করেছেন। আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই বর্তমান এমপি বকুলকে মনোনয়ন দেবেন না বলে তিনি দাবি করেন।

অপর দিকে এই সংসদীয় এলাকার লালপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলীয় কোন্দলে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকার সাত প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। নৌকা নিয়ে বিজয়ী তিনজনই সাবেক এমপি কালাম অনুসারী।

অপর দিকে বিজয়ী পাঁচ বিদ্রোহী বর্তমান এমপি বকুল অনুসারী। এ ছাড়া বাকি দুটিতে বিজয়ী হয় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী। এখানে চলতি বছরের ২৭ জুলাই কাউন্সিলে লালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইসাহাক আলীকে বাদ দিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সাবেক এমপি মমতাজ উদ্দিন ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি শেফালী মমতাজের ছেলে শামীম আহমেদ সাগরকে সাধারণ সম্পাদক (লালপুর থানা) করা হয়। এর পর থেকে লালপুরে বর্তমান এমপি বকুল, সাবেক এমপি কালাম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাগর ও লালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইসাহাক আলী চার ভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় সব ধরনের কর্মসূচি পালন করছেন।

শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান ইসাহাক আলী বলেন, এমপি নিজেই বিষয়টি সুরাহা করতে বসতে পারতেন কিন্তু তিনি কখনো এমন উদ্যোগ নেন না। আগামী সংসদ নির্বাচনে ইতিবাচক ফলাফল আশা করলে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা নেওয়া দরকার। তিনি বলেন, তার শ্যালক এমপি বকুলের সঙ্গে তার কথা হয় না প্রায় তিন বছর।

এ বিষয়ে এমপি শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি দলের কল্যাণে সবার সঙ্গে বসেন। দলের কাউন্সিল ভোটে না হওয়া ও নেতাদের সমন্বয় না করে কমিটি দেওয়ায় কিছু সমস্যা হচ্ছে। বাগাতিপাড়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক সঙ্গে না বসায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও তিনি স্বীকার করেন। থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক আলাদা কর্মসূচি পালন করলেও তৃণমূলের সব নেতাকর্মী তার সঙ্গে আছেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন। সংসদ নির্বাচন এলে কোনো সংকট থাকবে না বলেও তিনি আশা করেন।

এই আসনে শক্তিশালী বিএনপি : এই আসনের তিনবার নির্বাচিত সাবেক এমপি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল মারা যাওয়ায় এখানে বিএনপির কাণ্ডারী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে গত নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন তার সহধর্মিণী অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরিন। বিএনপিকে এখানে গোছাতে কাজ করছেন তাদের ছেলে লালপুর থানা বিএনপি আহ্বায়ক ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন ও মেয়ে অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল।

এই আসনের বাসিন্দা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুও এখানে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় কাজ করেন। দুই উপজেলার মধ্যে বাগাতিপাড়া উপজেলায় দীর্ঘদিন বিএনপির দুটি গ্রুপ রয়েছে। বাগাতিপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি এবং পৌরসভার বর্তমান মেয়র শরিফুল ইসলাম লেলিনের নেতৃত্বে আরেকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেছেন, তারা আওয়ামী লীগের বাধায় প্রকাশ্যে কোনো সভা সমাবেশ করতে পারেন না। তাদের সব কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কথায় কথায় হামলা মামলা করা হচ্ছে। বাগাতিপাড়া পৌর মেয়র শরিফুল ইসলাম লেলিন বলেন, এই সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। ১০ টাকায় যে মোটা চাল খাওয়ানোর কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল এখন সেই চাল সাধারণ মানুষ বাজার থেকে ৬০ টাকা করে কিনে কোনো মতে জীবন বাঁচাচ্ছে। মানুষ খুব কষ্টে আছে। দেশের মানুষ ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগকে বর্জন করেছে। সামনে তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে আওয়ামী লীগকে আর ভোট দেবে না।

অধ্যক্ষ কামরুন নাহার শিরিন বলেন, বিএনপি এখন প্রতিদিন হামলা মামলা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। চলতি মাসের ৬, ১৫ ও ১৯ তারিখে লালপুরে বিএনপি নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা (আওয়ামী লীগ) নিজের দলীয় অফিস ভাঙচুর করে বা অফিসের সামনে ককটেল রেখে সাজানো নাটক করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসাচ্ছে। এ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT