সোমবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

অপরাজিতা

প্রকাশিত : ০৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ শুক্রবার ৬ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

”বডিডাবল ছাড়া সার্কাসের মঞ্চে টানানো ৬০ ফুট উঁচু ওপর দিয়ে হেঁটেছি। দড়ি ধরে ঝুলে থাকা, দড়ি ধরে ওপর-নিচে নেমে আসা, হাতির ওপর পতাকা নিয়ে চক্কর দেওয়া- প্রতিটি মুহূর্তই ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। এসব দৃশ্যধারণের পর ইউনিটের লোকদের কাছ থেকে শুনতে হয়েছিল, ‘আপা, জীবনের সদকা দিয়ে দিয়েন। এভাবে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছাড়া কেউ শুটিং করে না। যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত!’ তারপরও আমি সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি।” এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বললেন জয়া আহসান। এই কথায় প্রতীয়মান হয়, জয়ার সবচেয়ে বড় গুণ হলো সাহস। এই সাহসের কারণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন; নিজেকে ভাঙছেন, গড়ছেন। নিজের কমফোর্ট জোন তৈরি করতে তাঁর ব্যাপক অনীহা। এবারে জয়া হাজির হচ্ছেন সার্কাসকন্যা বিউটি রূপে। আগামীকাল মুক্তি পাবে মাহমুদ দিদার পরিচালিত ‘বিউটি সার্কাস’। প্রায় দেড় বছর পর দেশের প্রেক্ষাগৃহে তাঁর নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এ জন্য তিনি আনন্দিত। জয়া বললেন, ‘বরাবরই আমি নতুন নির্মাতাদের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করি, যা আমার ক্যারিয়ার গ্রাফ দেখলেই আপনারা মেলাতে পারবেন। দিদার অসাধারণ একজন আইডিয়াবাজ। আমি ওর প্রথম কাজ, দ্বিতীয় কাজ বা প্রথম সিনেমায়ও যুক্ত হয়েছি তার অসাধারণ আইডিয়ার জন্য।’
‘বিউটি সার্কাস’ মুক্তি উপলক্ষে আশ্বিনের এক সন্ধ্যায় সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিলেন দুই বাংলার অপরাজিতা জয়া। শুরুতে জানালেন, চার বছর আগে মাহমুদ দিদারের কাছ থেকে এই ছবির প্রস্তাব পেয়ে কিছুটা চমকেই গিয়েছিলেন তিনি। কারণ, সিনেমার বিউটি চরিত্রে অভিনয় করতে হবে। মেয়েটি যেহেতু একজন সার্কাসকন্যা; সার্কাসের অসাধারণ সব খেলা তার নখদর্পণে, যা বডিডাবল দিয়ে করলে ঠিক হবে না। তাই জয়া ঠিক করলেন, চরিত্রটির জন্য তিনি ঝুঁকি নেবেন। যেমন কথা তেমন কাজ। শুরু করলেন সিনেমাটির কাজ। জয়া বললেন, ‘নিজের কমফোর্ট জোনের বাইরে গিয়ে কাজ করাই তো শিল্পীর কাজ। কারণ, সব শিল্পীই বারবার নিজেকে ছাপিয়ে কাজ করতে চান। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। এই সিনেমার কাজের ক্ষেত্রে আমাকে আকর্ষণ করেছে বিউটির চরিত্রটি।’ ছবিটিতে কাজের অভিজ্ঞতাকে ‘না বুঝে রোলার কোস্টারে উঠে বসা’র সঙ্গে তুলনা করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘বিউটি সার্কাস’ ছবিটি করতে গিয়ে অসাধারণ কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি। এখানে সার্কাসের অনেক খেলা আমাকে খেলতে হয়েছে। সেগুলো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। শুটিংয়ের সময় এসব না ভেবে চরিত্রের মোহে কাজগুলো কীভাবে কখন করেছি, টেরই পাইনি। এখন মনে হচ্ছে, যা ছিল অনেকটা না বুঝেই রোলার কোস্টারে চড়ে বসার মতো! যদিও তিনি এই ঝুঁকি নেওয়ার বিষয়টিকে মনে করেন, ‘সার্কাস বলুন আর সিনেমা- যা-ই বলুন না কেন, ঝুঁকি থাকেই। যেখানে আসলে ঠিকঠাক নিরাপত্তার বালাই থাকে না। এর মধ্য দিয়েই কাজগুলো করতে হয়।’ কথায় কথায় জয়া জানালেন, খুব ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে কলাবাগান মাঠে একবার সার্কাস দেখতে গিয়েছিলেন। ওটাই ছিল তাঁর প্রথম ও শেষ সার্কাস দেখা। এরপর এই ছবির শুটিংয়ে সত্যিকারের সার্কাস দলের সঙ্গে তাঁর বসবাস হয়েছে লম্বা সময় নিয়ে, যা তাঁর জীবনের অনেক বড় অভিজ্ঞতা বলে মনে করেন। কিছুদিন আগে প্রকাশ হয় ছবির ট্রেলার, যা দেখার পর জয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটনাগরিকরা।

জয়া সব সময় স্বল্পভাষী। একের পর এক সাফল্য, স্বীকৃতি পেয়েও কাজ ছাড়া কোনো কিছুই বড় করে দেখেন না। এখানেই অন্যদের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য। তাই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে হারিয়ে যান অন্য ভুবনে; অভিনীত চরিত্রই তখন হয়ে ওঠে আপন পরিচয়। সেই চরিত্রের রাজ্যপাট ভ্রমণ, সুখ-দুঃখ, প্রেম-ভালোবাসা, সংগ্রাম- সবই তখন হয়ে ওঠে তাঁর নিজের। তাই পর্দার জয়াকে দেখে কখনও কখনও মেলানো যায় না বাস্তবের জয়ার সঙ্গে। বিজ্ঞাপন কিংবা সিনেমা- যেটাই হোক না কেন, পর্দায় তাঁর বিচরণ ভিন্ন অবয়বে, ভিন্ন এক মানুষরূপে। জয়ার কাছে প্রশ্ন ছিল, কোনো কাজ করার আগে তাঁর ভাবনায় কী থাকে? জয়া বলেন, ‘যে কাজ করব, তা সবার আগে দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে, যাতে গল্প ও চরিত্র দর্শকের যাপিত জীবন নিয়ে কিছুটা হলেও ভাবনার খোরাক জোগায়। হাসি-কান্নার পাশাপাশি তুলে ধরে জীবন সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন। মানুষ বেঁচে থাকে তার কাজের মধ্য দিয়ে। এ জন্য যা করছি, তা নিয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত। আমিও চাই, অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনে আঁচড় কাটতে, যার দাগ থেকে যাবে অনেক দিন এবং সেই দাগ দেখে বারবার মনে পড়ে যাবে, কবে কীভাবে মনে এই আঁচড় পড়েছিল।’ জয়ার এই ভাবনা থেকে স্পষ্ট, কীভাবে অভিনয়ে নিজেকে ভেঙে পর্দায় বারবার নতুনভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন। আগামীতে আরও ভিন্ন ধরনের গল্প আর নতুন সব চরিত্রে জয়ার দেখা মিলবে- তারও আভাস পাওয়া যায় তাঁর এখনকার কাজের প্রস্তুতি দেখে। এই মুহূর্তে প্রায় এক ডজন চলচ্চিত্রে কাজ করছেন তিনি। চলতি বছরে কলকাতায় মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ‘ওসিডি’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’, ‘ভূতপরী’, ‘কালান্তর’, ‘পুতুল নাচের ইতিকথা’ আর বাংলাদেশে খুব শিগগির মুক্তি পাবে নূরুল আলম আতিকের ‘পেয়ারার সুবাস’, আকরাম খানের ‘নকশিকাঁথার জমিন’ এবং নির্মাতা পিপলু আর খানের ‘জয়া আর শারমিন’। কিছুদিন আগে শেষ করেছেন ইরানের সিনেমা ‘ফেরেশতে’র শুটিং।
সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর একটি চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে ‘বিউটি সার্কাস’ ছবির প্রচারণায় অংশ নেন। এরপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গে আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কলকাতা’র উদ্বোধনী আয়োজনে অংশ নিতে কলকাতা উড়াল দেন। উৎসব উদ্বোধন করে আবার ফিরে এসে বিউটি সার্কাস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। তাই জয়ার কাছে জানতে চাই, এই যে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা ছুটে বেড়ান, কখনও মনে ক্লান্তি ভর করে না? জয়া বললেন, ‘ছুটে চলার নামই তো জীবন। যখন আপনি সৃষ্টি কিংবা কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পাবেন, বিশ্বের যে প্রান্তেই ছুটে যান না কেন, ক্লান্তি আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না। শুধু আমার বেলায় নয়, সবার বেলাতেই এটা সত্যি। কাজ করতে গিয়ে যখন আপনি ক্লান্তি অনুভব করবেন, তখনই বুঝতে হবে আপনার ছুটি নেওয়ার সময় হয়ে গেছে।’ জয়ার এ কথা থেকে এটা স্পষ্ট, নিরলস কাজ করে যাওয়াই তাঁর জীবনের লক্ষ্য। কিন্তু এটাও সত্যি, যত ব্যস্তই থাকুন না কেন, জনপ্রিয়তার জোয়ারে গা ভাসাতে তিনি নারাজ। সব সময় সেটাই করতে চান, যা তাঁর মন সায় দেয়। তাঁর জন্য মানচিত্রের বেড়াজালে নিজেকে আটকেও রাখতে চান না। তারপরও একটা বিষয় দৃষ্টি কাড়ে তা হলো, দেশের চেয়ে বাইরে বেশি ব্যস্ত তিনি। জয়া বলেন, ‘আমি সব সময় স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাই। এখন কলকাতায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি। ভালো কাজেরও যথেষ্ট সুযোগ আছে। তাই একনাগাড়ে অভিনয় করছি। এটাও সত্যি যে, আমাদের চলচ্চিত্রও এখন অনেক এগিয়ে গেছে। অনেক তরুণ নির্মাতা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ইনডিপেনডেন্ট ছবির বাজার অনেক প্রসারিত হয়েছে। তাই কোথায় কখন কাজ করছি, সেদিকে নজর না দিয়ে কী ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছি- সেটাই বড় করে দেখা উচিত।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT