সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর বাসায় ‘হামলার’ ঘটনায় স্ত্রীর মামলা

প্রকাশিত : ১০:৪২ অপরাহ্ণ, ২ জুলাই ২০২২ শনিবার ৯৮ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নাট্যকার ও গবেষক অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকীর বাসায় ‘হামলার’ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শনিবার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর স্ত্রী বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফাহমিদা হক।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ইলিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর উত্তরার বাসায় হামলার অভিযোগে তার স্ত্রী অধ্যাপক ফাহমিদা হক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গতকাল (শুক্রবার) জুমার নামাজের সময় অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকীর বাসায় হামলার ঘটনা ঘটে।ওই সময় অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী ও তার গাড়িচালককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। রাজধানীর উত্তরায় ৫ নম্বর সেক্টরে ৬/এ রোডের একটি মসজিদ থেকে শতাধিক মুসল্লি বেরিয়ে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন রতন সিদ্দিকী ও তার পরিবার।

তবে ঘটনার পরপরই পুলিশ বলেছে, জুমার নামাজের সময় অধ্যাপক রতন সিদ্দিকীর বাসার গেটের সামনে মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের সঙ্গে ‘কথা কাটাকাটি হয়েছে’।

বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যকার-গবেষক রতন সিদ্দিকী গতকাল গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আজকে দুপুরের সময় এক দল মুসল্লি নারায়ে তাকবির স্লোগান দিয়ে আমার বাসায় হামলা করে। তারা আমার কলাপসিবল গেট ভাঙার চেষ্টা করে। এক ঘণ্টা পর পুলিশ-র‌্যাব এসে তাদেরকে সরিয়ে দেয়।’

রতন সিদ্দিকীর অভিযোগ, ‘হঠাৎ করে একজন এসে বলেছে, আমি নাকি বলেছি, এখানে ধর্মের নামে ভণ্ডামি হয়। অথচ আমি কিছুই বলিনি। আমার বাসার সামনে একটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল, সেটি সরানোর জন্য ড্রাইভার হর্ন দেয়। একজন মসজিদ থেকে এসে বলেছে, নামাজের সময় কেন হর্ন দিল। এরপরই আরেকজন এসে বলে, আমি নাকি ধর্মের বিরুদ্ধে বলি। এই বলে হামলা করে।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্যার গাড়ি নিয়ে বাসায় ঢুকছিলেন, এ সময় তার বাসার সামনে একটি মোটরসাইকেল রাখা ছিল। তখন নামাজ চলছিল, স্যার মোটরসাইকেল সরাতে বলায় কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এখন সেটি সমাধান হয়েছে।’

এ ঘটনার পর আজ দায়ের করা মামলার অভিযোগে রতন সিদ্দিকীর স্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে আমি ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি উত্তরা শাখার সভাপতির দায়িত্বে আছি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে উত্তরার বাসায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছি। শুক্রবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ব্যক্তিগত গাড়িযোগে আমার স্বামী ও ভাইসহ বাসার সমানে পৌঁছাই। এ সময় বাসার মেইন গেটের সামনে একটি মোটরসাইকেল ‌‘রং পার্কিং’ অবস্থায় থাকায় বাসায় ঢুকতে পারছিলাম না।

ফলে আমি ও আমার স্বামী মিলে মোটরসাইকেলের মালিককে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। এরপর ওই মোটরসাইকেলের মালিককে খুঁজে বের করার উদ্দেশে আমার গাড়িচালক দুইবার হর্ন বাজান।

এর ১০ মিনিট পর বাসার সামনের মসজিদ থেকে অজ্ঞাতনামা একব্যক্তি (যার ছবি ভিডিওতে ধারণ করা আছে) এসে আমাদের পথরোধ করে বলেন ‘হর্ন বাজালেন কেন? জানেন না নামাজ হচ্ছে, হর্ন বাজানোয় নামাজে সমস্যা হয়। হর্ন বাজিয়ে নামাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছেন। যতক্ষণ নামাজ শেষ না হয় ততক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে। নামাজ শেষ হবে তারপর বাসায় যাবেন। রাস্তা কি আপনার বাপের যে মোটরসাইকেল রাখা যাবে না?’

তখন আমি বলি, আপনি ভদ্র ভাষায় কথা বলেন, একজন নারীর সঙ্গে আপনি এ ভাষায় কথা বলছেন কেন? আমার বাসায় কি আমি ঢুকব না? তখন অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি আমার স্বামীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি বলেছেন, এখানে ধর্মের নামে ভণ্ডামি হয়’ যা আমার স্বামী কখনোই বলেনি, এটি একটি মিথ্যা কথা।

তখন আমি ও আমার স্বামী উভয়ে বলি ‘আপনি মিথ্যা বলছেন কেন?’ এরপর ওই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তার সহযোগীসহ অন্যান্য মুসল্লিদের ক্ষেপিয়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। একপর্যায়ে মারধর করার জন্য আমাদের দিকে তেড়ে আসেন তিনি।

এ সময় ঘটনাটির সাক্ষ্য-প্রমাণের জন্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ শুরু করি। তখন তারা আরও ক্ষিপ্ত হলে ভিডিও বন্ধ করে দিই। তখন সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি এবং তাড়াহুড়া করে গেটের ভেতরে প্রবেশ করে তালা বন্ধ করে দিই। আমি ততক্ষণে বুঝতে পারি আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে ও আমার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশে এমন কর্মকাণ্ড করে থাকতে পারে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন রতন সিদ্দিকীর স্ত্রী ফাহমিদা হক।

ফাহমিদা হক অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, আসামিদের মধ্যে কেউ একজন আমার স্বামীকে গেটের বাইরে থেকে হাত ঢুকিয়ে সজোরে ধাক্কা দিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত করেন এবং পেটে ঘুষি দেয়। অজ্ঞাতনামা আরেক ব্যক্তির বাম হাতে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় লোহার একটি রড দেখতে পেয়ে আমার স্বামী বাসার ভেতরে চলে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদ থেকে ২০০ থেকে ৩০০ জন লোক জড়ো হয়। তাদের মধ্যে কিছুসংখ্যক লোক ‘নারায়ে তাকবির-আল্লাহু আকবার’ বলে স্লোগান দিয়ে বাসার গেট ভাঙার চেষ্টা করে এবং বাসায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।এরইমধ্যে আমরা থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ এবং র‍্যাবের টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে সরে যায় তারা।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন রতন সিদ্দিকী। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি তিনি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি anusandhan24.com'কে জানাতে ই-মেইল করুন- anusondhan24@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

anusandhan24.com'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।



© ২০২৪ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। anusandhan24.com | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT